বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে জেলেদের পাশ পারমিটে ও বিএলসি নবায়নে ব্যাপক দুর্নীতির অভিযোগ


প্রকাশিত : জুলাই ৯, ২০১৮ ||

 

বেলাল হোসেন, মুন্সিগঞ্জ (শ্যামনগর): সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশনে জেলেদের পাশ পারমিটে ও বিএলসি নবায়নে ব্যাপক অনিয়ম, দুর্নীতি চলছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ বিষয়ে স্থানীয় পত্রপত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হলেও কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করেননি বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ।
উর্ধ্বতন বন কর্মকর্তার সাথে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তার সখ্যতা থাকায় পার পাচ্ছেন এই সব অনিয়ম ও দুর্নীতি।
ভুক্তভোগী জেলে সূত্রে জানা যায়, বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসে দীর্ঘদিন যাবৎ মাছ, কাঁকড়া ধরা জেলেদের পাশ পারমিটে ও বিএলসি নবায়নে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি চলে আসছে। প্রতি বিএলসি নবায়নে সরকারী নিয়মানুযায়ী প্রতি ১০ কুইন্টাল (১০০০ কেজি) এ ৫ টাকা নেয়ার নিয়ম থাকলেও সেখানে নেওয়া হচ্ছে ৬শ’ থেকে ১২শ’ টাকা। আর নতুন বিএলসিতে নেয়া হচ্ছে ১ হাজার থেকে দেড় হাজার টাকা। এছাড়া মাছ ও কাঁকড়ার পাশ পারমিটে সপ্তাহে জনপ্রতি ৬০ থেকে ৯০ টাকার স্থলে নেয়া হচ্ছে ২ থেকে ৩শ’ টাকা। এসব অতিরিক্ত উৎকোচের টাকা জেলেরা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ বিভিন্ন সরকারি মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার ভয়ভীতি দেখিয়ে হাতিয়ে নিচ্ছে হাজার হাজার টাকা। আর এ অভিযোগের তীর বুড়িগোয়ালিনী ফরেস্ট স্টেশন অফিসার কেএম কবির উদ্দীনের দিকে।
এসব টাকা কিন্তু বন বিভাগের কেউ সরাসরি নিচ্ছে না। এখানেও দালাল নিযুক্ত করা হয়েছে উৎকোচ গ্রহনের জন্য। নাম প্রকাশে কয়েকজন জেলে বলেন, নীলডুমুরের শহীদুল মোল্যা, জালাল মোল্যা, হাসান দোকানদার ও ইসমাইল সানা এবং গাবুরার মজিদ গাজী, আলেক গাজী বন বিভাগের দালাল হিসেবে মাঠ চষে বেড়ান।
আক্ষেপ নিয়ে ইউনুস গাজী (৫৯) বলেন, আমরা সরাসরি অফিসে গেলে বিএলসি এবং পাশ দেয়না। আমাদেরকে বলে দালালের মাধ্যমে আসেন। দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে তারপর কাজ সম্পন্ন হয়।
অতিরিক্ত টাকা দিতে কোন আপত্তি আছে কি না জানতে চাইলে বলেন, আমাদের বন-বাদা করে খেতে হয়। যত টাকা লাগুক না কেন, বনে আমাদের যেতে হবে। বনে না গেলে খাবো কি.? সংসার চালাবো কিভাবে.!
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন জেলে জানান, পাশ পারমিট ও বিএলসি নবায়নের অতিরিক্ত টাকা না দিলে পাশ, বিএলসি নবায়ন বা নতুন বিএলসি দেয় না। আমরা যদি কারও কাছে নালিশ করি তাহলে উল্টো বাঘ হত্যা মামলা, হরিন, বন্য প্রাণি চুরিসহ বিভিন্ন মামলায় জড়িয়ে হয়রানীর ভয়ভীতি দিয়ে এসব ঘুষের টাকা আদায় করা হয়। যে কারণে তারা কোন উর্দ্ধতন মহলেও প্রকাশ্যে জানাতে পারে না।
এদিকে কাঁকড়া আরোহী কুদ্দুস গাজী (৪৮) কে বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন অফিসার কর্তৃক হুমকি দেওয়া হয়েছে মর্মে নিরাপত্তা চেয়ে তিনি শ্যামনগর থানায় সাধারণ ডায়েরি করেছেন। যার জিডি নং-৩১৪, তাং ৭-৭-২০১৮।
সুন্দরবন পশ্চিম বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন কর্মকর্তা কেএম কবির উদ্দীনের কাছে জানতে চাইলে তিনি সবকিছু অস্বীকার করে বলেন, আমার কাছে কোন জেলে এসে ফিরে যায় না। তাছাড়া আমাদের কোন সোর্স নেই। আমার অফিসের কোন স্টাফ জেলেদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার কোন অভিযোগ নেই। বিএলসি রেট জানতে চাইলে তিনি বলেন, প্রতি ১০ কুইন্টাল (১০০০ কেজি) এ ৫ টাকা সরকারি মূল্য নির্ধারিত হয়েছে।
তার অফিস বাদে কে কত টাকা আদায় করছে তার জানা নেই এবং এখানে কোন অনিয়ম দুর্নীতি হয় না বলে দাবি করেন। সব কিছু সঠিক নিয়মেই চলছে।