আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের হোতা সাত্তার মোড়লের হরিণ শিকার মিশন ৩টি বন্দুকের মালিকদেরও মামলার আসামী শ্রেণিভূক্ত করা হয়েছে


প্রকাশিত : জুলাই ১১, ২০১৮ ||

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: পশ্চিম সুন্দরবনে কুখ্যাত হরিণ শিকারী আন্তর্জাতিক চোরা শিকারি চক্রের গডফাদার আব্দুস সাত্তার মোড়লের সুন্দরবনে হরিণ হত্যা মিশন নতুনভাবে মোড় নিয়েছে। ১ম পর্যায়ে ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা হলেও পরবর্তী পর্যায়ে একই মামলায় পুলিশ বন্দুক মালিকসহ ৬ জনকে আসামী শ্রেণিভুক্ত করেছে। মামলা নং-৩। বন্দুক মালিকরা হলেন, কালিগঞ্জ থানার বন্দকাটি গ্রামে আব্দুর রশিদের ছেলে হাফিজুর রহমান (বন্দুকের লাইসেন্স নং-৩৫৭০৮৩), শ্যামনগর উপজেলার পদ্মপুকুর ইউনিয়নে পাতাখালী গ্রামে আয়জুদ্দী ঢালির ছেলে আজিজ ঢালী (বন্দুকের লাইসেন্স নং- ৩৫৬৯৮৭) এবং মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়নের সিংহড়তলী গ্রামের মৃত আব্দুস সাত্তার সরদারের ছেলে সালাউদ্দীন ওরফে নবাব (বন্দুকের লাইসেন্স নং- ১৩৬০৯৩)।
মামলার আসামীরা হলেন, কদমতলা গ্রামে ইমান আলী গাজীর ছেলে মজনু গাজী, পাতাখালী গ্রামে আমজাদ গাজীর ছেলে মহিবুল্লাহ ও আয়জুদ্দীন গাজীর ছেলে আজিজ ঢালী, বন্দকাটি গ্রামে মৃত কোরবান মোড়লের ছেলে সাত্তার মোড়ল ও আব্দুর রশিদের ছেলে আব্দুর রহমান এবং সিংহড়তলী গ্রামের মৃত সাত্তার সরদারের ছেলে সালাউদ্দীন ওরফে নবাব।
মামলা সূত্রে এবং শ্যামনগর থানার ওসি সৈয়দ আব্দুল মান্নান জানান, গত রোববার রাতে সুন্দরবনে দোবেঁকী এলাকায় বনদস্যু জাকির বাহিনী ডাকাতির খবর পুলিশ জানতে পেরে ঘটনাস্থলে উপ-পরিদর্শক লিটন মিয়ার নেতৃত্বে পুলিশ দল অভিযান চালায়। এসময় পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে অন্যান্যরা পালিয়ে গেলেও দুজনকে আটক করে। পরবর্তী পর্যায়ে তল্লাশি করে ৩টি একনলা বন্দুক, ৩টি জবাইকৃত হরিণ ও একটি নৌকা জব্দ করে। আটককৃতরা হলেন পাতাখালি গ্রামে আমজাদ গাজীর ছেলে মহিবুল্লাহ ও কদম তলা গ্রামে ইমান আলী গাজীর ছেলে মজনু গাজী। পুলিশ ধৃত আসামীদের জেল হাজতে প্রেরণ করেছে।
এলাকার মানুষের ভাষ্যমতে, ৩টি বন্দুকের মালিক লাইসেন্সধারী। পুলিশ সেদিন ৩টি বন্দুক জব্দ করলেও মালিকদের সেখানে কেউ ছিলেন না। তাহলে অস্ত্রগুলি সেখানে গেল কিভাবে এবং কে নিয়ে গেল? মালিকদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় নিয়ে আসলে প্রকৃত ঘটনা বের হয়ে আসবে। তাছাড়া ধৃত আসামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে জানা যাবে প্রকৃত ঘটনা।
পৃথিবী শ্রেষ্ঠ ম্যানগোভ ফরেস্ট সুন্দরবন এদেশের ইতিহাস ও ঐতিহ্যের অন্যতম ধারক ও বাহক। সুন্দরবনকে ঘিরে পৃথিবীর মাঝে বাংলাদেশের যত পরিচিতি। এর সকল অস্তিত্ব আমাদের জাতীয় সম্পদ। বিশেষ করে প্রাণ বৈচিত্রে ভরা সুন্দরবনের অন্যতম অহংকার মায়াবী হরিণ। যা রক্ষা করার দায় দায়িত্ব আমাদের সকলের।
আব্দুস সাত্তার মোড়ল আন্তর্জাতিক চোরা শিকারি চক্রের গডফাদার। ইন্টারপোলের তালিকাভুক্ত চোরা শিকারি। তিনি নাকি আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সাতক্ষীরা-৪ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়ন প্রত্যাশী।