আমাদের ছেলেমেয়েরা মেধাবী, এই মেধাকে কাজে লাগাতে হবে: প্রধানমন্ত্রী


প্রকাশিত : জুলাই ১৯, ২০১৮ ||

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমাদের ছেলেমেয়েরা সবাই মেধাবী। এই মেধাকে কাজে লাগিয়ে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে। গড়তে হবে সোনার বাংলাদেশ। আমি আশা করি আমাদের ছেলেমেয়েরা দেশের বাইরে গিয়ে বড় বড় ডিগ্রি নিয়ে এসে দেশ ও জাতির উন্নয়নে প্রধান ভূমিকা পালন করবে।’

বৃহস্পতিবার (১৯ জুলাই) গণভবনে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা এই দেশকে শিক্ষিত জাতি হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যাতে আগামীতেও এই উন্নতির ধারা অব্যাহত থাকে। শিক্ষা ছাড়া একটা জাতি চলতে পারে না। তাই শিক্ষা ব্যবস্থাকে উন্নত করতে যে সমস্ত জায়গায় বিশ্ববিদ্যালয় নেই সেসব জায়গায় আমরা বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করে দিয়েছি। আমরা শিক্ষাব্যবস্থাকে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিচ্ছি। বাজেটেও এর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। আমরা সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থার পাশাপাশি মাদ্রাসা ও কওমি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও উন্নত করে দিয়েছি। তাছাড়া কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থাকেও আমরা গুরুত্ব দিচ্ছি। সার্বিকভাবে শিক্ষাকে সবদিক থেকে উন্নত করার লক্ষ্যে আমরা কাজ করে যাচ্ছি।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘পরীক্ষায় নকল এড়াতে এবার যে পদ্ধতি নেওয়া হয়েছে তা বেশ কার্যকর। এতে নকল কমে গেছে।’

প্রধানমন্ত্রী পরীক্ষার সময় কমিয়ে আনার বিষয়টি উল্লেখ করে বলেন, ‘আমরা যখন পরীক্ষা দিয়েছি তখন দুই বেলা করে পরীক্ষা দিতে হতো। সকালে এক পেপার, বিকালে এক পেপার। আমাদের তো দম ফেলার সময়ই থাকতো না। সাত দিনে পরীক্ষা শেষ। এখন পরীক্ষার সময় আরেকটু কমিয়ে আনার ব্যবস্থা যদি করতে পারেন তাহলে দেখবেন, ছেলেমেয়েরা পড়াশোনা করবে, পরীক্ষাটাও তাড়াতাড়ি হবে। আর এখানে ওই যে নানা ধরনের অপপ্রচার, তার হাত থেকেও মুক্তি পাওয়া যাবে বলে আমি বিশ্বাস করি।’

প্রধানমন্ত্রী শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে বলেন, ‘শিক্ষা কেউ ছিনিয়ে নিতে পারে না। এটা সবচেয়ে বড় সম্পদ। সেই সম্পদ নিজেকেই গড়ে তুলতে হয়। আজ যারা পরীক্ষায় কৃতকার্য হয়েছে তাদের অভিনন্দন জানাচ্ছি। আর যারা অকৃতকার্য হয়েছে তারা পরবর্তীতে ভালো করবে এটাই কামনা করি।’

প্রধানমন্ত্রী অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, ‘অভিভাবকরা যেন তাদের সন্তানদের বকাঝকা না করেন। তারা কেন পাস করতে পারলো না সেই সমস্যা বের করে তাদের বোঝাতে হবে। ছেলেমেয়েরা যেন মাদক ও জঙ্গি কর্মকাণ্ডে জড়িয়ে না পড়ে সেদিকে শিক্ষক ও অভিভাবকদের খেয়াল রাখতে হবে।’

উল্লেখ্য, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল হস্তান্তর করা হয়েছে। দুপুর ১টায় সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে ফলাফলের বিভিন্ন দিক তুলে ধরবেন শিক্ষামন্ত্রী। এরপরই আনুষ্ঠানিকভাবে সব কলেজ, মাদ্রাসা, শিক্ষা বোর্ডগুলোর ওয়েবসাইট ও মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমে ফল জানতে পারবেন শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা।
শিক্ষামন্ত্রী জানান, এবার পাসের হার ৬৬. ৬৪ শতাংশ। পাস করেছে ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৮০১ জন শিক্ষার্থী। জিপিএ-৫ পেয়েছে ২৯ হাজার ২৬২ জন।