লবণ সহিঞ্চু নতুন ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ চাষে সাফল্য


প্রকাশিত : জুলাই ৩১, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: উপকূলীয় জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে লবণ সহিঞ্চু নতুন জাতের আখ চাষ করা হচ্ছে। আখ গবেষণা ইন্সটিটিউট ইশ্বরর্দীর ব্যবস্থাপনায় জেলার লবণাক্ত এলাকাতে উচ্চ মাত্রার লবণ সহিঞ্চু নতুন ৩৯ ও ৪৬ জাত চাষ করা হয়েছে। ইতোমধ্যে কৃষকরা সফল হয়েছে বলে জানান প্রকল্প পরিচালক।
সদর উপজেলার বালিথা গ্রামের আখ চাষি মো. রুহুল আমিন জানান, তার এলাকার অধিকাংশ জমিতে লবণাক্ততা বেড়ে গেছে। দানাদার জাতীয় ফসল আগের মত আর ফলে না। তাই আখ গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরামর্শে ২ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলকভাবে লবণ সহিঞ্চু নতুন ৩৯ জাতের আখ রোপন করে সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে আখের ডোগা রোপন করার পর বর্তমানে ক্ষেতে বড় বড় ঝাড়ে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া তেমন কোনো রোগবালাইও এখনো পর্যন্ত দেখা দেয়নি । তিনি আরো বলেন, আগামীতে আরো বেশি পরিমান জমিতে এই লবণ সহিঞ্চু ৩৯ জাতের আখ চাষ করবেন। বিঘা প্রতি ২২ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে তার আখ চাষ করতে।
একই গ্রামের আখ চাষি জোসনা বেগমও পাবনা ইশ্বরর্দীর আখ গবেষণা ইন্সটিটিউটের লোকজনের পরামর্শে তার ৩ বিঘা পরিমান জমিতে লবণ সহিঞ্চু নতুন ৩৯ জাতের আখ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এমন ভালো ফলন হবে জানলে আরো বেশি পরিমান জমিতে আখ রোপন করতেন।
বিএসআরআই-এর সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্পের অধিনে লবণাক্ত প্রবন সাতক্ষীরা সদর, তালা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলাতে লবন সহিঞ্চু জাতের আখ চাষ করা হয়েছে।
প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষিতত্ত্ব ও ফার্মিং সিস্টেম বিভাগ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউট ইশ্বরদী,পাবনা।
প্রকল্প পরিচালক উর্ধতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সমজিত কুমার পাল জানান, উপকুলীয় সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলার সবচেয়ে বেশি লবনাক্ততা এমন ৫টি উপজেলাতে পরীক্ষামূলকভাবে লবন সহিঞ্চু নতুন ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই নতুন ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ যেমন উচ্চমাত্রার লবণ সয্য করতে পারবে তেমনি অধিক পরিমান ফলন দেবে। এটি বিঘা প্রতি সর্বোচ্চ ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিঘা জমির আখ বিক্রি হবে কমপক্ষে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। ফলে কৃষক লাভবান হবে এই লবণ সহিঞ্চু জাতের আখ চাষ করে। তিনি বলেন, ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ ১৫ থেকে ১৬ মাত্রার লবণ সহ্য করতে পারবে অনায়াশে। তাছাড়া রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব খুবই কম।
তিনি আরো বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক এ জাতের আখ চাষ করে লাভবান হতে পারবে।
সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আখ উৎপাদন কমে যাচ্ছে আশংকজনকভাবে। তবে লবণ সহিঞ্চু নতুন ৩৯-৪৬ জাতের আখ চাষে সাফল্য এসেছে সাতক্ষীরায়। আগামীতে জেলার সব অঞ্চলেই এ জাতের আখ চাষ করতে পারলে কৃষক লাভবান হবে জানান তিনি।
এদিকে জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এরমধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ২ হেক্টর, তালায় ৭৫ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৫ হেক্টর, কালিগঞ্জে ২৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ৫ হেক্টর এবং শ্যামনগর উপজেলাতে ৪ হেক্টর পরিমান জমিতে ফসলটি চাষ করা হয়েছে।