স্ত্রী হত্যার দায়ে স্বামী ও শ্বশুরকে ফাঁসির আদেশ


প্রকাশিত : আগস্ট ৮, ২০১৮ ||

বদিউজ্জামান: জেলার কলারোয়ায় স্ত্রী আমেনা খাতুনকে (১৮) পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যার দায়ে স্বামী ওমর আলী ও শ্বশুর দ্বীন মোহাম্মদ গাজীকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করার আদেশ প্রদান করেছে আদালত।
মঙ্গলবার সকালে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. সাদিকুল ইসলাম তালুকদার (সিনিয়র জেলা জজ) জনাকীর্ণ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। রায়ের সময় আসামি ওমর আলী ও দ্বীন মোহাম্মদ গাজী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। এ মামলায় আদালত অপর এক আসামীকে খালাস প্রদান করেছে।

 

সাজাপ্রাপ্ত আসামীরা হলেন, কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের ওমর আলী ও তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদ গাজী এবং খালাসপ্রাপ্ত আসামী হলেন, ওমর আলীর মা আনোয়ারা বিবি।

মামলার বিবরণে জানা যায়, কলারোয়া উপজেলার চান্দুড়িয়া গ্রামের দ্বীন মোহাম্মদ গাজীর ছেলে ওমর আলীর সাথে মুসলিম শরীয়াহ মোতাবেক ২০১৬ সালের নভেম্বর মাসে বিয়ে হয় একই উপজেলার গোয়ালপোতা গ্রামের আব্বাস উদ্দীনের মেয়ে আমেনা খাতুনের। বিয়ের একমাস যেতে না যেতেই ওমর আলী তার স্ত্রীকে বিভিন্ন অযুহাতে প্রায়ই মারপিট করতো। এরই জের ধরে ২০১৭ সালের ৬ জানুয়ারি রাত ৯টার দিকে ওমর আলী তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদের সহযোগিতায় স্ত্রী আমেনা খাতুনকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। এরপর তার গলায় ওড়না পেঁচিয়ে লাশ চান্দুড়িয়া গ্রামের উত্তর পাশে ভারত সীমান্তের ইছামতি নদীতে ফেলে দেয়। পরদিন সকালে ওমর আলীর পিতা তার বিয়াই বাড়িতে খবর দেয় তাদের মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছেনা। ওই ঘটনায় আমেনা খাতুনের বাবা থানায় একটি জিডি করেন। এর এক দিন পর স্থানীয়রা ইছামতি নদীতে একটি লাশ ভাসতে দেখে পুলিশে খবর দেয়। পুলিশ গায়ে ক্ষত চিহ্ন ও গলায় ওড়না পেচানো অবস্থায় লাশটি উদ্ধার করার পর আমেনার বাবা-মাকে খবর দিলে তারা তাদের মেয়েকে চিনতে পারে। এরপর ১০ জানুয়ারি আমেনার বাবা আব্বাস উদ্দীন বাদী হয়ে আমেনার স্বামী ওমর আলী, শ্বশুর দ্বীন মোহাম্মদ ও শাশুড়ি আনোয়ারা বিবিসহ ৫ জনের নামে কলারোয়া থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করে। ধৃত আসামী ওমর আলী প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী প্রদান করে যে তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদের সহযোগিতায় সে তার স্ত্রীকে পিটিয়ে ও শ্বাসরোধ করে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দিয়েছে।

এ মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই সোলায়মান আক্কাস ২০১৮ সালের ২৮ জানুয়ারি দীর্ঘ তদন্ত শেষে আসামী ওমর আলী, দ্বীন মোহাম্মদ ও আনোয়ারা বিবির নামে আদালতে চার্জশীট দাখিল করেন।
মামলার নথি ও ৭ জন স্বাক্ষীর জবানবন্দি পর্যালোচনা শেষে বিচারক মঙ্গলবার এ মামলায় আসামী ওমর আলী ও তার বাবা দ্বীন মোহাম্মদকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে মৃত্যুদ- কার্যকর করার আদেশ প্রদান করেন এবং অপর আসামী ওমর আলীর মাতা আনোয়ারা বিবির নামে কোন অভিযোগ প্রমানিত না হওয়ায় তাকে খালাস দেন। মামলায় আসামীপক্ষের আইনজীবী ছিলেন এড. আক্তারুজ্জামান। অপরদিকে, রাষ্ট্রপক্ষে মামলাটি পরিচালনা করেন পিপি এড. ওসমান গনি।