ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষায় পালিত হচ্ছে ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’


প্রকাশিত : আগস্ট ৯, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: ৯ আগস্ট আন্তর্জাতিক ‘বিশ্ব আদিবাসী দিবস’। ১৯৯৪ সাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে দিবসটি পালন করে আসছে বিশ্বের প্রায় ৩০ কোটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। ১৯৯২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কমিশনের উন্নয়ন ও সংরক্ষণ উপকমিশনের কর্মকর্তারা তাদের প্রথম সভায় ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দিবস পালনের জন্য ৯ আগস্টকে বেছে নেন। ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগণের মানবাধিকার, পরিবেশ উন্নয়ন, শিক্ষা ও সংস্কৃতি সম্পর্কিত বিভিন্ন সমস্যা নিরসনের লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা সুদৃঢ় করা এবং গণসচেতনতা সৃষ্টি করাই বিশ্ব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী দশক, বর্ষ ও দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্যে।

সরকার ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জন্য বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। সর্বশেষ বাজেটেও ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর জন্য বিশেষ বরাদ্ধ রাখা হয়েছে। তাদের জীবনমান উন্নয়নে শেখ হাসিনা সরকার কাজ করছে।

শেখ হাসিনার উদ্যোগে ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত শান্তি চুক্তি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের – উন্নয়নের মাইলফলক। এ চুক্তির ফলে ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের শান্তি, সৌহার্দ ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা তথা শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, কৃষি ও আর্থ-সামাজিক খাতে ব্যাপক উন্নয়ন সাধিত হচ্ছে।

দেশের প্রায় ৫৫টি জেলায় বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠী বসবাস রয়েছে। পার্বত্য চট্টগ্রামে বড় অংশের ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের বাস। রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবনে বেশ কয়েকটি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী রয়েছে। এ ছাড়া চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার জেলায়ও অল্পসংখ্যক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের দেখা যায়। দেশের উত্তরাঞ্চলে প্রায় ২০ লাখ ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জনগোষ্ঠীর বাস চাঁপাইনবাবগঞ্জ, রাজশাহী, নওগাঁ, জয়পুরহাট, রংপুর, দিনাজপুর জেলায়। এ অঞ্চলে প্রায় ৩০টি ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী জনগোষ্ঠী বাস করে।

এসব ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠীদের জাতিগোষ্ঠী হিসেবে মুল্যায়ন করে তাদের জন্য প্রতন্ত এলাকায় বিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, সাংস্কৃতিক কর্মকান্ডের জন্য ললিতকলা একাডেমী স্থাপন, দূর্গম পাহারে বিদুৎ, পানির ব্যবস্থা করা ও পাকা রাস্তা করে দেয়া হয়েছে। এই জাতিগোষ্ঠীর সংস্কৃতি ও ঐতিহ্য আমাদের দেশকে সমৃদ্ধ করেছে। বিশেষ করে তাদের বসবাসের এলাকাগুলোর পরিবেশ খুবই সুন্দর। যা পর্যটকদের আকৃষ্ট করেছে।

সরকারীভাবে এখন পর্যন্ত ২৭ টি নৃ-গোষ্ঠীকে সংরক্ষন করা হয়েছে। প্রত্যেকটি জাতী গোষ্ঠীর ঐতিহ্য রক্ষায় সরকার বদ্ধ পরিকর। একই সাথে এই জাতী গোষ্ঠীকে সমৃদ্ধ ও সম্মানজন জনগোষ্ঠী হিসেবে বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরতে সরকার কাজ করছে। তাদের উৎপাদিত পন্য যাতে তারা সহজে বহন ও বিপনন করতে পারে সরকার সে দিকেও বিশেষ নজর দিচ্ছে।

আদিবাসী জনগোষ্ঠী এখন আর অবহেলিত নয়। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা তাদের জীবন মানের উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। আদিবাসীদের জীবনমান আলোকিত করতে বিদ্যুৎ ও সৌর বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। আর তাদের উপর যেন জুলুম অত্যাচার না হয় সে দিকে নজর রাখা হচ্ছে।