পদ্মাসেতু নির্মাণের পর ভোমরা স্থলবন্দর হবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর: নৌ পরিবহন মন্ত্রী


প্রকাশিত : আগস্ট ১৮, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিএনপি জামাত জোট সরকার আমলে মংলা বন্দরে সাড়ে ১১ কোটি টাকা লোকসান হয়েছিল উল্লেখ করে নৌ পরিবহন মন্ত্রী শাজাহান খান এমপি বলেন, এখন সেখানে ৭৫কোটি টাকা লাভ হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দরেও ২০১৭ সালে রেকর্ড পরিমান রাজস্ব এসেছে। একইভাবে ভোমরা স্থলবন্দরও ক্রমেই বেশি মুনাফা অর্জনের দিকে যাচ্ছে। মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী যেকোন সময় পদ্মাসেতু নির্মাণের পর ভোমরা স্থলবন্দর হবে দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম স্থলবন্দর।
নৌ পরিবহন মন্ত্রী শুক্রবার বিকালে সাতক্ষীরার ভোমরায় স্থলবন্দর উপদেষ্টা কমিটির চতুর্থ সভায় প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন। তিনি আরও বলেন, গত ৪ বছরে কোন ধরনের নৌ দুর্ঘটনা ঘটেনি। নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করায় এই সফলতা অর্জিত হয়েছে উল্লেখ করে প্রতিটি নৌযানে জনসংখ্যা ও পূর্ণ ধারণ ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা রয়েছে। এই ক্ষমতার বাইরে গেলে তখনই দুর্ঘটনার ঝুকি থাকে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ভোমরা বন্দরে ৫২টি আমদানি রপ্তানি পণ্য থেকে এখন ৭৪টিতে উন্নীত করা হয়েছে। পদ্মা সেতু বাস্তবায়িত হওয়ার সাথে সাথে ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব আয় আরও বৃদ্ধি পাবে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
স্থলবন্দর কমিটির চেয়ারম্যান তপন কুমার চক্রবর্তীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা কমিটির সভায় আরও বক্তব্য রাখেন সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. আফম রুহুল হক এমপি, মীর মোস্তাক আহমেদ রবি এমপি, নৌ মন্ত্রণালয়ের সচিব আবদুস সামাদ, জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মুনসুর আহমেদসহ বিভিন্ন কর্মকর্তাগণ।
মন্ত্রী বলেন, ২০০৯ সালে ১২টি স্থলবন্দর ছিল। ৯ বছরের ব্যবধানে আরও ১০টি বৃদ্ধি পেয়ে এখন তা ২২টিতে উন্নীত হয়েছে। আগে বন্দরসমূহে লাভের মুখ দেখা যেতোনা। এখন আমদানি রফতানি বানিজ্যে অগ্রগতি হওয়ায় সরকার অনেক মুনাফা অর্জন করছে।
বন্দরে ১৪০ কোটি টাকা আয়ের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, আগে মাত্র দুটি সমুদ্র বন্দর ছিল। এখন তাদের সঙ্গে পায়রা ও মাতারবাড়ি যুক্ত হয়ে মোট ৪টি সমুদ্রবন্দর হল। এছাড়া মহেশখালিতে আরেকটি বন্দর নির্মানের কাজ চলছে বলে জানান তিনি।
মন্ত্রী বলেন, ভোমরা বন্দরের পরিধি বৃদ্ধির জন্য ১০ একর জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে। বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৯শ’ কোটি টাকা। এ অবস্থা চলতে থাকলে ভোমরা স্থলবন্দর বেনাপোলের কাছাকাছি চলে আসতে পারে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
শাজাহান খান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় যাবতীয় উন্নয়ন কাজ হচ্ছে এবং আরও কয়েকটি স্থলবন্দর নির্মানের কাজ চলছে। এমনকি বান্দরবান ও খাগড়াছড়ির মত এলাকায় বন্দর উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দরে আমদানি বেশি অথচ রপ্তানি কম এমনটি উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, এ বিষয়টির দিকে ব্যবসায়ীদের নজর দিতে হবে। বাংলাদেশের অনেক অপ্রচলিত পণ্য বিদেশে রপ্তানি করা সম্ভব। বিদেশের বাজারে এর চাহিদাও রয়েছে।
ভোমরা স্থলবন্দরে ৫২টি অনুমোদিত আমদানি পণ্যের সঙ্গে আরও কিছু যুক্ত হয়ে এখন তা ৭৪-এ উন্নীত হয়েছে এবং তা আজ থেকে কার্যকর বলে দাবি করেন তিনি। মন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে বলেন, সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে মন্ত্রীসভা যে আইন অনুমোদন করেছে তা সংসদে পাশ হওয়ার পর পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে বাস্তবায়ন করা হবে।
বর্তমানে সড়কের শৃংখলা ফিরেছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তর দিতে অস্বীকৃতি জানান মন্ত্রী। তিনি আরও বলেন, ভোমরা বন্দরে একটি পূর্ণাঙ্গ পুলিশ থানা স্থাপিত হবে। এ বিষয়টি নিয়ে উচ্চ পর্যায়ে কাজ চলছে। সামনে জাতীয় নির্বাচন। এই নির্বাচনকে ঘিরে অনেক ষড়যন্ত্র হতে পারে। এ ব্যাপারে তিনি সকলকে সতর্ক থাকার আহবান জানান।
তিনি বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা অত্যন্ত সাহসের সাথে দেশের নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর মত বড় প্রকল্প হাতে নিয়েছেন। ২০১৯ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু আমরা পার হতে পারবো বলে আশা করছি। হাত পেতে বিভিন্ন দেশের কাছ থেকে অর্থ আনার চেয়ে নিজ দেশের অর্থায়নে এতবড় প্রকল্প বাস্তবায়নের সাহস ও শক্তি কেবলমাত্র শেখ হাসিনারই আছে।
এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু যেমন সাহস করে পাকিস্তানিদের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন করেছেন। একইভাবে তার কন্যাও সেই সাহস দেখিয়ে যাচ্ছেন। আগামী নির্বাচনে তিনি শেখ হাসিনার হাতকে আরও শক্তিশালী করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।