চুকনগরে কে এই বিনয়! বিদ্যুতের গ্রাহকদের ভয় দেখিয়ে মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ


প্রকাশিত : আগস্ট ১৮, ২০১৮ ||

চুকনগর (খুলনা) প্রতিনিধি: চুকনগরে কে এই বিনয়! নিজেকে পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের অফিসার পরিচয় দিয়ে গরীব গ্রাহকদের কাছ থেকে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। এদিকে চুকনগর অভিযোগ কেন্দ্র ও উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের কর্মকর্তারা বলছে বিনয় দাস নামে তাদের কোন কর্মচারী বা অফিসার নেই। যদি কেউ গ্রাহকদের কাছ থেকে ভয় দেখিয়ে টাকা নেয় তাহলে সেটা শুধু আমাদের মানহানী নয় বরং সরকারের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ দেয়ার অঙ্গীকারসহ উন্নয়নমুখী ধারা বাধাগ্রস্ত করছে।
উপজেলার চুকনগর দাস পাড়া গ্রামের সুধীর দাসের পুত্র বিকাশ দাস, শ্যামাপদ দাসের পুত্র বিপ্লব দাস, কেষ্টপদ দাসের পুত্র উজ্জ্বল দাস, সুনীল দাসের পুত্র অশোক দাস, লক্ষণ দাসের পুত্র উজ্জ্বল দাস, পাগলা দাসের পুত্র জাদব দাস, মাঝে দাসের পুত্র পাইকিং দাস, হরিপদ দাসের পুত্র হরেন দাস, কালিপদ দাসের পুত্র সাধন দাস, জিতেন্দ্র দাসের পুত্র দিপংকর দাস, পাগল দাসের পুত্র শিবপদ দাস, নিমাই দাসের পুত্র হামকুচ দাস অভিযোগ করে বলেন, তাদের গ্রামের আহ্লাদ দাশের পুত্র বিনয় দাস গত ২/৩বছর ধরে তাদের কাছ থেকে প্রতি মাসে একশত টাকা হিসেবে মাসোহারা নেয়। কি কারণে টাকা নেয় তা জানতে চাইলে তারা বলেন, আমরা গরীব অশিক্ষিত অসহায় ভ্যানচালক। বিনয় দাস একজন শিক্ষিত যুবক হওয়ায় তিনি তাদের মিটারগুলো উপরের কর্মকর্তাদের দিয়ে বাণিজ্যিক করে দেয়ার ভয় দেখিয়ে প্রতি মাসে একশত টাকা করে মাসোহারা নেয়। অনেক সময় টাকা দিতে দেরি হলে তিনি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ আটকিয়ে দেন। তাকে টাকা না দেয়া পর্যন্ত বিলের কাগজ তার কাছে আটকানো থাকে। একারণেও এই গরীব ভ্যান চালকদের জরিমানাও গুনতে হয়। তাই এলাকাবাসীর প্রশ্ন কে এই বিনয়! কার মাধ্যমে তিনি বিদ্যুৎ বিলের কাগজ গুলো পান। নাকি উদ্ধর্তন কোন অফিসার গরীবের মাথার ঘাম পায়ে ফেলানো টাকা চুষে খাচ্ছে। এর উত্তর খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।
এব্যাপারে বিনয় দাস বলেন, তাকে তাদের প্রতিপক্ষরা ফাঁসানোর জন্য মিথ্যা কথা বলছে। গরীব ভ্যান চালক বিকাশ দাস, উজ্জ্বল দাস ও অশোক দাস বলেন, আমাদের টাকা আয় হোক বা না হোক তাকে প্রতি মাসে একশত টাকা দিতেই হবে। টাকা না দিলে মিটার বানিজ্যিক করে দেয়া, বিলের কাগজ আটকানোসহ মিটার কেটে দেয়ার হুমকি দেয়। নিরূপায় হয়ে ভয়ে তারা তাকে মাসোয়ারা দেয়। চুকনগর অভিযোগ কেন্দ্রের ইনচার্জ সুফল পাল বলেন, চুকনগর দাস পাড়া থেকে কয়েকজন ভ্যান চালক বিনয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ নিয়ে তার কাছে এসেছিল। কিন্তু তিনি বিনয়ের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ গ্রহণ না করে ভ্যান চালকদের বলেন আজকের পর থেকে যদি কোন ব্যক্তি টাকা চায় তখন তাদেরকে জানালে পুলিশ দিয়ে তাকে ধরে আনা হবে এই অঙ্গীকার করেন। উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ অফিসের ডিজিএম আবুল কালাম আজাদ বলেন, বিষয়টি আমি জানতাম না। আপনাদের মাধ্যমে যখন জানতে পারলাম এখন আমি প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।