প্রতিশোধ নিতে চান হাবিব-উন-নবী সোহেল


প্রকাশিত : আগস্ট ২৯, ২০১৮ ||

নিউজ ডেস্ক: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন দলের হেভিওয়েট দুই প্রার্থী মির্জা আব্বাস এবং হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। ২০০৮ সালে হাবিব-উন-নবী খান সোহেল এ আসনে মনোনয়ন পান। ওয়ান-ইলেভেন পরবর্তী তত্ত্বাবধায়ক সরকার আমলে দুর্নীতির মামলায় জড়িয়ে নবম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রার্থিতার যোগ্যতা হারান সাবেক এমপি মির্জা আব্বাস। তার অবর্তমানে মনোনয়ন পেলেও নির্বাচনে হেরে যান সোহেল। আর এ হারের জন্য মির্জা আব্বাসের হাত ছিলো বলে দলের অভ্যন্তরে প্রকাশ্য অভিযোগ রয়েছে। কেননা, সে নির্বাচনে মির্জা আব্বাস সোহেলের পক্ষে কাজ করাতে নিজের নেতাকর্মীদের মাঠে নামতে নিষেধ করেছিলেন। আর তাই সেই প্রতিশোধ নিতে চান সোহেল ও তার সমর্থকরা। সূত্র বলছে, এ বিষয়ে রাজনৈতিক মাঠ সরগরম না করে সময় মতো জবাব দিতে প্রস্তুত তারা।

তবে সংসদ নির্বাচনে এবারও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে চায় সোহেল। এমনকি মির্জা আব্বাসের স্থলে নিজেকেই যোগ্য মনে করছেন হাবিব-উন-নবী খান সোহেল। আর তাই আসন্ন নির্বাচনে লড়ার জন্য প্রস্তুতিও নিচ্ছেন তিনি। তবে যদি কোনভাবে তা না হয়ে ওঠে তবে সোহেলের অবস্থান হবে মির্জা আব্বাস বিরোধী।

এদিকে একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসনটি পুনরুদ্ধারের লক্ষ্য নিয়ে বিএনপির শক্তিশালী সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মাঠে রয়েছেন মির্জা আব্বাস। তার পক্ষে জোরালো নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় নেমেছেন তার সমর্থক নেতাকর্মীরা। ঘনিষ্ঠরা জানিয়েছেন ঢাকা-৮ ছাড়াও ঢাকা-৯ আসনেও নির্বাচনী লড়াই করবেন মির্জা আব্বাস। অবশ্য দুই আসনে মনোনয়ন দিতে দল সম্মত না হলে মির্জা আব্বাস তার সহধর্মিণী ও মহিলা দলের সভাপতি আফরোজা আব্বাসকে ঢাকা-৯ আসনটি ছেড়ে দেবেন বলে গুঞ্জন রয়েছে। যদিও একটি আসনে সোহেলকে নিয়ে ভাবনার অবকাশ থাকলেও সোহেলকে নিয়ে ভাবছেন না তিনি। আর তাই মির্জা আব্বাসের এমন সিদ্ধান্ত ও সোহেলকে অগ্রাহ্যের মনোভাব ভালো চোখে দেখছে না দলের সিনিয়ররা।

এলাকা ঘুরে জানা গেছে, আগামী নির্বাচন সামনে রেখে হেভিওয়েট দুই প্রার্থী মির্জা আব্বাস ও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলের সমর্থকদের মধ্যে এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ শুরু হয়েছে। এ কারণে সাধারণ নেতাকর্মী ও কেন্দ্রীয় বিএনপি শঙ্কায় রয়েছেন।

একদিকে আব্বাস অনুসারীরা বলছেন, অসংখ্য মামলা-মোকদ্দমার শিকার হলেও কখনও নেতাকর্মীদের ছেড়ে যাননি মির্জা আব্বাস। অন্যদিকে সোহেলের অনুসারীদের পাল্টা অভিযোগ, দলের জ্যেষ্ঠ নেতা হয়েও বিগত সময়ের আন্দোলনে এই নির্বাচনী এলাকা তো বটেই পুরো ঢাকা মহানগরেই নিষ্ক্রিয় ছিলেন মির্জা আব্বাস। যে কারণে তৃণমূল নেতাকর্মীদের একটি অংশের ক্ষোভ রয়েছে তার প্রতি। দলের হাইকমান্ড এ বিষয়টি মাথায় রেখেই এখানে আবারও হাবিব-উন-নবী খান সোহেলকে মনোনয়ন দেবে বলেও আশা করছেন তার অনুসারীরা।