শার্শায় চাঁদার দাবিতে খ্রিস্টান পরিবারে হামলা ভাংচুর ও লুটপাট: আটক ৮


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ ||

 

বেনাপোল (যশোর) প্রতিনিধি: যশোরের শার্শা উপজেলার উলাশি ইউনিয়নের গিলাপোল গ্রামে খ্রিস্টান পরিবার জসিব জুড়ন দাসের (৮০) বাড়িতে হামলা চালিয়ে মারপিট, ভাংচুর, বাড়িতে থাকা নারী সদস্যদের শ্লীলতাহানি ও স্বর্ণালংকারসহ মালামাল লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে উপজেলা যুবলীগের শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক ও ইউপি সদস্য তরিকুল ইসলাম মিলন ও তার সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ২ জন আহত হয়েছে। মিলনকে প্রধান আসামি করে স্থানীয় ক্ষমতাসীন দলের ১৭ নেতাকর্মীর নামে শার্শা থানায় একটি মামলা হয়েছে। পুলিশ ৮ জনকে আটক করেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, স্থানীয় মিলন বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সলোমানের কাছে মোটা অংকের চাঁদা দাবি করে আসছিল। সলোমন চাঁদা দিতে রাজি না হওয়ায় শনিবার রাত সাড়ে দশটায় কুখ্যাত মিলন বাহিনী তার দলবল নিয়ে বাড়িতে হামলা চালিয়ে ব্যাপক ভাংচুর ও মারপিট করে। এসময় স্বর্ণালংকার, মোবাইল সেট ও টাকা লুট করে নিয়ে যায়। গ্রামের লোকজন ভয়ে তাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনা স্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। ঘটনার সাথে জড়িত ৮ জনকে আটক করেছে।

তবে ভিন্ন কথা বলেন উলাশী ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য-তারিকুল ইসলাম মিলন। তার দাবি একটি বিশেষ কাজে সলেমানের বাড়িতে গেলে তার উপর হামলা চালায় তারা। এ খবর ছড়িয়ে পড়লে তার লোকজন ছুটে আসে। তবে তাদেরকে সে নিয়ন্ত্রণে আনে বলে দাবি তার।

ইউপি চেয়ারম্যান আয়নাল হক জানান, পুলিশকে খবর দিলে ঘটনাস্থল থেকে ৮জনকে আটক করে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা যাতে না ঘটে এজন্য দেখা হবে বলে জানান তিনি।

শার্শা থানার পরিদর্শক (তদন্ত) তাসমীম আলম জানান, চাঁদা দাবিতে হামলা চালায় তারা। অভিযুক্ত ৮জনকে আটক করা হয়েছে। বাকীদের আটকের চেষ্টা চালানো হচ্ছে।

এদিকে রবিবার সকালে এ ঘটনায় শার্শা থানায় সালমন দাস বাদী হয়ে ১৭ জনের নামে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-১৭। পুলিশ অভিযান চালিয়ে ৮ জনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠিয়েছে। আটককৃতরা হলো উলাশি ইউনিয়নের শরিফুল ইসলাম (৩২), আমিনুর রহমান (২৮), শ্যামল কুমার দাস (৩৫), আশিক হোসেন (২৯), আসাদুল(২৮), আক্তারুল ইসলাম (২১), আশরাফুল ইসলাম (২৩) ও কামরুজ্জামান খোকন (৩০)। আটকরা সবাই মিলনের সমর্থক। এ মামলার প্রধান আসামী তারিকুল ইসলাম মিলন রবিবার সকালে শার্শা থানার সামনে দাঁড়িয়ে সাংবাদিকদের ঘটনার বিবরণ দিলেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেনি বলে অভিযোগ বাদির লোকজনের।