ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরে মেলা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১২, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: গুড় পুকুরের মেলা সাতক্ষীরার অসাম্প্রদায়িক ভ্রাতৃত্বের সেতুবন্ধন। এ মেলা জেলাবাসির প্রাণের মেলা। এ মেলা জেলাবাসিকে একসূত্রে মিলিত হবার সুযোগ তৈরি করে। প্রায় তিনশত বছরের ঐতিহ্য ধারণ করে এ মেলা চলে আসছে। প্রতি বছর শেষ ভাদ্রে অনুষ্ঠিত হয় এ মেলা। ‘মিলিবে, মেলাবে’-এ প্রতিপাদ্যকে ধারণ করে বাঙালির মিলন উৎসবের তীর্থভূমি এ মেলা। গৌরবময় ঐতিহ্য তো বটেই। সেই ঐতিহ্যবাহী গুড়পুকুরে মেলা উপলক্ষে প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরে জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে এ প্রস্তুতি সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন। প্রস্তুতি সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা সিভিল সার্জন ডা. তওহীদুর রহমান, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) তরফদার মাহমুদুর রহমান, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেরিনা আক্তার, দৈনিক পত্রদূত পত্রিকার সম্পাদক মন্ডলীর সভাপতি অধ্যাপক আনিসুর রহিম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউনও) তহমিনা খাতুন, এনডিসি আরিফ আদনাম, জেলা শিল্পকলা একাডেমির সদস্য সচিব মোসফিকুর রহিম মিল্টন, সাতক্ষীরা পৌরসভার কাউন্সিলর কাজী ফিরোজ হাসান, পৌর কাউন্সিলর শফিক উদ দ্দৌলা সাগর, জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি মনোরঞ্জন মুখার্জী, জেলা মন্দির কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ ঘোষ, মাসিক সাহিত্যপাতার সম্পাদক আব্দুর রহমান প্রমুখ।
সভায় জানানো হয়, আগামী ১৬ সেপ্টেম্বর থেকে জেলা প্রশাসন ও পৌরসভার উদ্যোগে গুড়পুকুর মেলা অনুষ্ঠিত হবে। শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে মেলার স্টল স্থাপন, শিল্পকলা একাডেমির সামনে নাগরদোলা, শিশুদের রেলগাড়িসহ অন্যান্য রাইড স্থাপন, মেলা প্রাঙ্গণ পরিস্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা, নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণের লক্ষ্যে নিয়ন্ত্রণ কক্ষ স্থাপন, জরুরি স্বাস্থ্য সেবার জন্য মেডিকেল টিম গঠনসহ আইন শৃঙ্খলা বাহীনির পাশাপাশি জেলা প্রশাসনের কার্যালয়ের ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ টিম কাজ করবে।
উল্লেখ্য, ২০০২ সালের ২৮ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় পাঁচ মিনিটের ব্যবধানে একটি সিনেমা হল ও সার্কাস প্যান্ডেলে বোমা হামলা চালানো হয়। এতে তিন জন নিহত হয় এবং আহত হয় শতাধিক। এরপর থেকে দীর্ঘ ৮ বছর এ মেলা বন্ধ ছিল। প্রতি বছর ৩১ ভাদ্র হিন্দু সম্প্রদায়ের সর্পদেবী মনসা পূজার মধ্য দিয়ে শহরের পলাশপোল এলাকায় প্রাচীন আমলের গুড়পুকুরকে ঘিরে বসতো এ মেলা। একই দিনে সনাতন ধর্মাবলম্বীরা পালন করতেন বিশ্বকর্মা পূজা।