নানা সমস্যায় জর্জরিত ডুমুরিয়ার চুকনগর ডিগ্রী কলেজ


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৩, ২০১৮ ||

ডুমুরিয়া (খুলনা) প্রতিনিধি: নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত ডুমুরিয়ার চুকনগর ডিগ্রী কলেজ। চুকনগর শহরটি জেলার অন্যতম বানিজ্যিক কেন্দ্র আর তিন জেলার মিলনস্থল হওয়ায় ভৌগলিক দিক থেকে এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটির গুরুত্ব অনেক বেশি। খুলনা, যশোর ও সাতক্ষীরা জেলার সীমান্তে অবস্থিত হওয়ার কারণে এখানে ওই তিনটি জেলা তথা ডুমুরিয়া, কেশবপুর এবং তালা উপজেলা শিক্ষার্থীরা এখানে পড়াশুনা করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৩৫ বছর পেরিয়ে গেলেও সময়ের সাথে এগিয়ে যেতে পারেনি কলেজটি। ১৯৭১ সালের ঐতিহাসিক চুকনগর গণহত্যার পাদপিঠ চুকনগর পাতোখোলা বিলে অবস্থিত চুকনগর ডিগ্রি কলেজের যাত্রা শুরু হয় ১৯৮৩ সালে। এলাকার তরুণ শিক্ষিত ও সুধিজনের নিরলস প্রচেষ্টার ফসল এই শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি। কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ হিসাবে দাযিত্ব পালন করেন এস এম আবু বকর। প্রথমে চুকনগর দিব্যপল্লী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দ্বিতল ভবনে উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণীর ক্লাস দিয়ে শুরু হয় এর কার্যক্রম। তারপর খুলনা-সাতক্ষীরা মহাসড়কের কোল ঘেষে পাতোখোলা বিলে এলাকার কয়েকজন মহৎ ব্যক্তির দানীয় জমিতে চাচের বেড়া আর টিনের চাল দিয়ে প্রতিষ্ঠিত হয় চুকনগর কলেজ। এরপর কলেজের নিজস্ব তহবিল এবং এলাকার দানশীল ব্যক্তিদের সহায়তায় কলেজের উত্তর প্রান্তে একটি টিনশেড ভবন নির্মিত হয়। এস এম আবু বকর অধ্যক্ষ থাকা কালে ১৯৯৫ সালে কলেজের পূর্ব প্রান্তে একটি ৩তলা একাডেমিক ভবন নির্মিত হয়। এরপর ১৯৯৬ সালে এস এম আবু বকর অবসরে গেলে এবিএম শফিকুল ইসলাম অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তিনি আওয়ামীলীগের তৎকালীন সময়ের একজন প্রভাবশালী নেতা হওয়া সত্বেও তার কলেজের অবকাঠামোগত কোন উন্নয়ন হয়নি। এরপর তার আমলেই বিগত দশ বছর তার দলীয় সরকার একটানা ক্ষমতায় থাকাকালে এলাকার অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মানের একাডেমিক ভবন নির্মিত হলেও চুকনগর কলেজটি রয়ে গেছে সেই ২৩ বছর আগের স্থানে। এরই মধ্যে ২০০৮/২০০৯ শিক্ষা বর্ষ থেকে কলেজটিতে ডিগ্রি খোলা হয়। ওই সময় ডিগ্রির জন্যে ১৫জন শিক্ষক-কর্মচারী নিয়োগ দেয়া দেয়া হয়। ডিগ্রি একাডেমিক ¯ী^কৃতি লাভ করলেও ১৫জন শিক্ষক-কর্মচারী আজও বিনা পয়সায় বেগার খাটছেন। এমপিও নামের সোনার হরিণটির দেখা তারা অদ্যাবধি পাননি। একারনে তারা সকলেই মানবেতর জিবন যাপন করছেন। সর্বশেষ চলতি বছর এপ্রিল মাসে অধ্যক্ষ এবিএম শফিকুল ইসলাম অবসর গ্রহণের পর প্রথমে হাশেম আলী ফকির এবং পরবর্তীতে জুলফিকার আলী জুলু ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসাবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। বর্তমানে জুলফিকার আলী জুলুই রয়েছেন অধ্যাক্ষের চেয়ারে। তিনি দায়িত্ব নেয়ার পর গত দুইমাসে কলেজের পদ্ধতিগত কিছু উন্নয়ন চোখে পড়েছে যেমন, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত ক্লাসে আসা যাওয়া, কলেজের পোষাক পরা ও পরিচয়পত্র সাথে থাকা বাধ্যতামুলক, শিক্ষকদের যথারীতি কলেজে উপস্থিত ও পাঠদান করা ইত্যাদি। কিন্তু কলেজটির অবকাঠামো একবারেই ভেঙ্গে পড়েছে। ১৯৯৫ সালে নির্মিত একাডেমিক ভবনটি জরাজীর্ন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে কলেজটির মোট শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১৫০০ এর মত। একারনে শ্রেণী কক্ষের সংখ্যাও অপ্রতুল। ছাত্র-ছাত্রীদের কোন কমন রুম নেই। ক্লাস করতে গেলে প্রায় সময়ই শিক্ষার্থীদের গায়ে ছাদের অংশ বিশেষ ধসে পড়ে এতে করে জীবনের ঝুকি নিয়েই ক্লাস করছে তারা। ফাটল ধরেছে দেয়ালে, পলেস্তরা খসে পড়ছে। এছাড়া ডিজিটাল তথ্য প্রযুক্তির যুগেও ব্যবহারিক শিক্ষার আধুনিক সরঞ্জাম ও কম্পিউটারাইজড যন্ত্রপাতি নেই বললেই চলে। এরফলে আধুনিক শিক্ষা পদ্ধতি থেকে বঞ্চিত হচ্ছে ছাত্র ছাত্রীরা। এমতাবস্থায় সরকারি উদ্যোগে একটি নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণ জরুরী হয়ে দাঁড়িয়েছে বলে জানান কলেজের সকল শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা। চুকনগর কলেজ দীর্ঘদিন ধরে নানাবিধ সমস্যার মধ্যেও এগিয়ে চলেছে। কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জুলফিকার আলী বলেন, উন্নয়নের সরকার ক্ষমতায় থাকার পরও কি কারনে উন্নয়ন হয়নি সেটা আগের অধ্যক্ষই ভাল বলতে পারবেন। প্রতিষ্ঠা লগ্ন থেকে কলেজটি সম্পূর্ন রাজনৈতিক কর্মকান্ড মুক্ত। আজও কলেজ ক্যাম্পাসে ছাত্র-ছাত্রীদের সকল প্রকার রাজনৈতিক কর্মকান্ড নিষিদ্ধ। গরীব মেধাবী ছাত্র ছাত্রীদের আর্থিক সহোযোগিতা করা হয়। প্রতিটি পরীক্ষার ফলাফল যথেষ্ঠ ভাল। উন্নত সৃজনশীলতার মধ্য দিয়ে শিক্ষা দান করে আসছে শিক্ষকরা। এই কলেজ থেকে পাশ করে ছাত্র ছাত্রীরা উচ্চ শিক্ষার জন্য নামিদামি বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। ডিগ্রি পর্যায়ের শিক্ষকরা দীর্ঘ দশ বছর বিনা বেতনে পাঠদান করে যাচ্ছে। এমতাবস্থায় জরুরী ভিত্তিতে একঠি আধুনিক মানের একাডেমিক ভবন ও ডিগ্রির শিক্ষক-কর্মচারীদের এমপিও ভুক্তির দাবি জানান তিনি।এব্যাপারে কলেজ গভর্নিং বডির এ্যাডহক কমিটির সভাপতি ডুমুরিয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মোছাঃ শাহনাজ বেগম বলেন আমি অল্প কিছুদিন এই উপজেলায় এসেছি, এখনও সবকিছু দেখতে পারিনি। সার্বিক পরিস্থিতি দেখে যত দ্রুত সম্ভব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করব।