জামাত-শিবিরের সহিংসতায় অগ্নিদগ্ধ স্বামীর চিকিৎসায় অর্থ সাহয্যের জন্য এক গৃহবধূর সংবাদ সম্মেলন


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ১৮, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব জামাত-শিবিরের সহিংসতায় পেট্রোল বোমার হামলায় শরীরের ৬০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ স্বামীর সুচিকিৎসার জন্য সরকারি তহবিল থেকে আর্থিক সহযোগিতার আবেদন জানিয়েছেন এক গৃহবধূ। সোমবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে এই দাবি জানান সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলার জাহাজঘাটা গ্রামের ওজিবর রহমানের স্ত্রী মোছাঃ রাশিদা বেগম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমার স্বামী ওজিবর রহমান ট্রাক চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করেন। বিগত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচন পূর্ব ২০১৪ সালের ৯ জানুয়ারী রাত ৯টার দিকে ভোমরা স্থলবন্দর থেকে ট্রাকে পেঁয়াজ ভর্তি করে কিছু দূর আসার পর পূর্ব থেকে ওৎ পেতে থাকা জামাত-শিবিরের ক্যাডাররা ট্রাক লক্ষ্য করে পেট্রোল বোমা নিক্ষেপ করে। এতে ট্রাকে আগুন লেগে গেলে আমার স্বামী ওজিবরের শরীরের ৬০ শতাংশ অগ্নিদগ্ধ হয়। স্বামীর আর্তচিৎকারে পার্শ্ববর্তী লোকজন ছুটে এসে তাকে উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এঘটনায় সদর থানার পুলিশ বাদি হয়ে ১২ জানুয়ারী একটি মামলা দায়ের করে। ঘটনাটি বিভন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশিত হয়। স্বামীর চিকিৎসার জন্য বিভিন্ন জায়গা থেকে ধার দেনা করে টাকা নেয়ায় বর্তমানে আমি অনেক টাকা দেন হয়ে পড়েছি। স্বামী অসুস্থ্য থাকায় ১৫ বছর বয়সী ছেলেকে সংসারের দায় ঘাড়ে নিতে হয়েছে। টাকার অভাবে দুই মেয়ে ও ছেলেকে লেখাপড়া শিখাতে পারছি না। বর্তমানে খুবই দু:খে কষ্টে দিন চলছে।
রাশিদা বেগম আরো বলেন, আমার স্বামী শ্যামনগর উপজেলার ভুরুলিয়া ইউনিয়নের ৩নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি। তিনি বর্তমান সরকারের অনুগত হয়ে জামাত-শিবিরকে চ্যালেঞ্জ করে সাহসিকতার সাথে ট্রাক চালাতে গিয়ে পেট্রোল বোমার হামলার শিকার হয়ে অসহায় জীবন যাপন করছেন। একমাত্র প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার বদান্যতাই পারে আমার স্বামীর এই করুন পরিনতি থেকে বাঁচাতে।
তিনি অভিযোগ করে বলেন, ২০১৪ সালের জামায়াত-শিবিরের সহিংসতা পরবর্তী সময়ে ক্ষতিগ্রস্থ সকল পরিবার সহযোগিতা পেলেও আমার পরিবার কোন ধরনের সহযোগিতা পায়নি। আমার অসুস্থ্য স্বামীর চিকিৎসার পাশাপাশি পরিবারের সদস্যদের কোন রকমে বেঁচে থাকার জন্য একটা ব্যবস্থা একান্ত প্রয়োজন। বর্তমান সরকার আমার পরিবারের দিকে একটু দৃষ্টি দিলেই আমার স্বামী সুস্থ্য হয়ে আবার সংসারের হাল ধরতে পারবে। তিনি পেট্রোল বোমায় অগ্নিদগ্ধ স্বামীর সুচিকিৎসার জন্য সরকারি তহবিল থেকে এককালিন অর্থ সাহার্য্য বা অনুদান পাওয়ার জন্য সরকারের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষসহ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন।