খোলা কলাম একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও ভাবনা


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২০, ২০১৮ ||

মো. জাবের হোসেন
প্রত্যেকটা দেশের রাজনীতিতে নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচন ছাড়া রাজনীতির পূর্ণতা পায়না। নির্বাচনের মাধ্যমে জনপ্রতিনিধি বাছাই করে রাষ্ট্রের নাগরিকেরা। আমাদের দেশে রাষ্ট্রীয় নির্বাচন হয় প্রতি পাঁচ বছর পর পর। দশম সংসদ নির্বাচনের শেষ বছর পার করছি আমরা। টানা দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ। রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন একাদশ সংসদীয় নির্বাচনেও তৃতীয় মেয়াদে সরকারি দল আবারো ক্ষমতায় বসবে। সেক্ষেত্রে দেশে সব থেকে বেশি মেয়াদে ক্ষমতায় থাকার রের্কডটি অর্জন করবে আওয়ামী লীগ।
একদিকে রাজনৈতিক উল্লাস, অন্যদিকে হতাশা বিরাজ করছে দলীয় এই সরকারের অনেক নেতা-কর্মীদের মধ্যে। স্বেচ্ছাচারিতা, দুর্নীতি, কোন্দল আর নানা অনিয়মের ফলে অনেকের জনপ্রিয়তার ধ্বংস নেমেছে। অন্যদিকে নতুন অনেকেই জনগণের মনিকোঠায় জায়গা করে নিয়েছেন।
অপরদিকে রাজনীতির মাঠ থেকে দুইবার দূরে থাকা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)’র চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া কারাগারে থাকায় বিএনপির অনেক নেতা-কর্মীরা হতাশায় ভুগছেন। নির্বাচনের আগে বেগম জিয়া ছাড়া পাবেন না বলে অনেকের ধারণা। সেক্ষেত্রে দেশের প্রধান দুইটি দলের একাংশ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে কিনা সেটা এখনো নিশ্চিত নয়। তবে অনেকের ধারণা নির্বাচনে বিএনপি অংশগ্রহণ করবে। তারা যদি অংশগ্রহণ করে সেক্ষেত্রে নির্বাচন হবে ভিন্ন ও প্রতিযোগিতাপূর্ণ।
দুই দিক থেকে চুলচেরা বিশ্লষণ করছেন সরকারি দল। কারণ এ নির্বাচনের পরাজয় সরকারি দলের উপর বড় একটা প্রভাব ফেলবে। অন্যদিকে বিএনপি নির্বাচনে না আসলেও আরো পাঁচটা বছর তাদের রাজনীতির মঞ্চ থেকে বাইরে থাকতে হবে। সেদিক থেকে উভয় দলের জন্য সামনের নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ। এজন্য দুই দলের পক্ষ থেকে চলছে সমান বিশ্লেষণ।
সাধারণ নাগরিকেরা দ্বিধা-দ্বন্দ্বে পড়ে গেছেন। বেশ কিছু জাতীয় পত্রিকা ইতোমধ্যে দলীয় মনোনয়ন নিশ্চিত করেছেন। তারা বলছেন বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে তারা জেনেছেন! বিশ্বস্ত সূত্র মানে কি?
কারা তাদের এই বিশ্বস্ত সূত্র?
যেখানে দলীয় কমান্ডরাই জানেনা কাদের মনোনয়ন দেয়া হচ্ছে। দলীয়ভাবে বলা হচ্ছে অক্টোবরের মধ্যে মনোনয়ন নিশ্চিত করা হবে। সাংবাদিক হিসেবে আমি নিজেও তো লিখতে পারি বিশ্বস্ত সূত্রের মাধ্যমে জেনে লিখছি! সেক্ষেত্রে নিজের ইচ্ছা মত নামও দেয়া যায়। আমরা কতটা ফেয়ার নিউজ করি সেটা আমাদের বিবেকের কাছে প্রশ্ন! বিবেক আমাদেরকে সত্য-মিথ্যার কাছে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
আমাদের জনগণের কল্যাণে রাজনীতি করা উচিত। জনগণের জন্য সময় দিতে হবে। শুধু নির্বাচনের সময় জনগণের কাছে না যেয়ে সব সময় জনগণের নিকটে যেতে হবে। আমরা দেখতে পাই, নির্বাচন আসলে জনগণের বাড়িতে যেতে যেতে নেতাদের পথ পড়ে যায়। নির্বাচন শেষে আবারো পূর্বের অবস্থায় ফিরে যায়। আর সাধারণ জনগণ যে লাউ, সেই কদু! সাধারণ জনগণ সব সময় বলির পাঠা। সাধারণ জনগণ হিসেবে আমরা কখনো চিন্তাও করিনা, আমরা নিজেদের কতটা ক্ষতি করছি। নির্বাচনের সময় নেতাদের কাছ থেকে সাময়িক কিছু সুবিধা ভোগ করার নেশায় বেমালুম ভুলে যাই ভবিষ্যতের কথা! কিন্তু আমরা নিজেদের ক্ষতি নিজেরাই করছি সেটা আদৌ বুঝতে পারিনা। রাজনৈতিভাবে আমরা সাধারণ জনগণ ততটা সচেতন না।
বৃহৎ দুই দল পালাবদলে দেশের রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে। কখনো আওয়ামী লীগ, কখনো বিএনপি। দেশের ২৪ লক্ষ লোক সবসময় সক্রিয় রাজনীতি করে। দেশের নিরাপত্তা রক্ষীবাহিনীর থেকেও রাজনৈতিক দল শক্তিশালি। সাধারণ জনগণের ডাকে কখনো দুই, পাঁচ শত লোক সমবেত হয়না। কিন্তু একজন নেতার ডাকে যখন-তখন দুই-এক হাজার লোক সমবেত হয়। আমাদের সাধারণ জনগনের ডাকে কেনো লোক আসেনা?
তারা কি ভালোবাসার টানে আসে?
উত্তর হবে না!
তাহলে?
স্বার্থের জন্য।
তাদের জীবন-জীবিকা এর মধ্যে। কিন্তু আমরা কখনো তাদের বেড়াজাল থেকে মুক্ত হতে পারিনা। পারিনা নিজেদের অধিকার বুঝে নিতে। শুধু দর্শকের মত দেখেই যাই।
নির্বাচনের সময় যেমন তারা জনগণের সাথে বেশি বেশি সংযোগ রাখে, তেমনি অন্য সময়ও তাদের সংযোগ রাখা উচিত বা জনগণ চাইলে তারা বাধ্য। কিন্তু আমরা জনগণ সেটা চাইনা বলেই তারাও গাঁ ঢাকা দিয়ে চলে।
ভাবনাটা সবারই হতে হবে পারস্পারিক সৌহাদ্যপূর্ণ। তবেই আমরা আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবো। এক সময় বাংলাদেশও সিঙ্গাপুর হবে। কিন্তু সেজন্য চাই সবার সদিচ্ছা।
সামনের নির্বাচনে কে আসবে ক্ষমতায়? আওয়ামী লীগ, না বিএনপি! এটা আমাদের মনের মধ্যে সারাক্ষণ ঘুরপাক খাচ্ছে। বিএনপি পরপর তিন বার বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল দুর্নীতিতে। আর বর্তমানে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দেশ অনেক এগুলেও দুর্নীতিতে আক্রান্ত হয়েছে অনেক সরকারি-বেসরকারি সেক্টর! সেবা পেতে ভোগ করতে হচ্ছে সীমাহীন কষ্ট!
জনগণের একটাই প্রত্যাশা রাজনীতি হোক জনগণবান্ধব। তৃণমূল থেকে জনগণের প্রতিনিধি নির্বাচিত হলে জনগণের কল্যাণে তারা কাজ করবে, দেশ আরো দ্রুত গতিতে এগিয়ে যাবে। প্রতিহিংসার রাজনীতি বন্ধ হবে। দেশ ও জাতির মঙ্গল হবে। জনগণ আরো বেশি আকৃষ্ট হবে রাজনীতির ব্যাপারে। লেখক: মো. জাবের হোসেন, সম্পাদক ও প্রকাশক, লাল সবুজের কথা