দুই ছেলেকে হারিয়ে বাকরুদ্ধ বাবা বাকি জেলেদের পরিবারেও নেমেছে শোকের ছায়া


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ২৫, ২০১৮ ||

 

বাগেরহাট সংবাদদাতা: তিন ছেলের মধ্যে দুই ছেলের বঙ্গোপসাগরে ট্রলার ডুবিতে মৃত্যুর খবর শুনে বাকরুদ্ধ হয়েছেন নিহতদের বাবা ছোমেদ ফরাজী (৭০)। মাঝে মাঝে দুই ছেলের নাম নিয়ে বিলাপ করে পুনরায় বাকরুদ্ধ হয়ে পড়ছেন ছোমেদ ফরাজী ।
গত বুধরবার (১৯ সেপ্টেম্বর) রাত ৩টার দিকে বঙ্গোপসাগরের ১ নম্বর ফেয়ারওয়ে বয়ার কাছে ঝড়ে এফবি মারিয়া-১ নামের ট্রলারটি ডুবে যায়। ওই ট্রলারে ছোমেদ ফরাজীর তিন ছেলে শহিদুল ফরাজী (৩৫), আনোয়ার ফরাজী (৪৫) ও কামরুল ফরাজীসহ (৪২) ১৭ জন জেলে ছিলেন। এদের মধ্যে ৯ জন জীবিত ফিরেছেন। বাকি ৮জনের শরীর সমাধি করা হয়েছে। বেঁচে যাওয়া ৯ জনের মধ্যে শহিদুল ফরাজী নিজেই ট্রলার মালিক এবং প্রধান মাঝি। নিহত অন্যরা হলেন, উপজেলার রাজৈর গ্রামের আশরাফুল গাজী, শহিদুল হাওলাদার, ডাবলু হাওলাদার, রাজাপুর গ্রামের মোদাচ্ছের হাওলাদার, নলবুনিয়া গ্রামের রিয়ারজ হাওলাদার এবং উত্তর তাফালবাড়ি গ্রামের আলমগীর হোসেন। শরণখোলার এফবি সাগর- ট্রলারে তাঁরা শনিবার রাত আড়াইটার দিকে মোংলায় এসে পৌঁছায়। সেখান থেকে স্বজনরা তাদের বাড়িতে নিয়ে আসেন। নিহত এসব জেলে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
ট্রলার মাঝি কবির হাওলাদার (২২) জানান, ঝড়ের কবলে পড়ে ভারতের ওই এলাকায় ভেসে যাওয়া শরণখোলার বিলাশ রায় কালুর এফবি সাগর-১ ট্রলারে তাদের ৯জনকে শনিবার (২২ সেপ্টেম্বর) সকালে উঠিয়ে দেন ভারতের ট্রলারের মাঝি রবীন দাস। এসময় তাদের আশ্রয়ে থাকা ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার নূরাবাদ এলাকার আরো ১৪ জেলেকে দেন শরণখোলার অপর ট্রলার তহিদুল তালুকদারের এফবি আজমীর শরীফ-১ এ।
এফবি সাগর ট্রলারের মালিক বিলাশ রায় কালু জানান, তাঁর এবং তহিদুল তালুকদারের ট্রলার দুটি ঝড়ের কবলে পড়ে ভারতের কেতুয়া এলাকায় চলে যায়। সেখান থেকে মারিয়া-ট্রলারের ৯ জন ও চরফ্যাশনের ১৪ জেলেকে তাদের ট্রলারে নিয়ে আসে।
এব্যাপারে মোংলা কোস্টগার্ড পশ্চিম জোনের অপারেশন কর্মকর্তা লে. জাহিদ আল হাসান জানান, সুন্দরবন ও সমুদ্রের কাছাকাছি শরণখোলা, সুপতি, কচিখালী, দুবল, কোকিলমনিসহ পাঁচটি কন্টিনজেন্টের প্রায় ৫০ জন সদস্য উদ্ধার অভিযানে নিয়োজিত রয়েছেন।