অবশেষে পত্রদূতে প্রকাশিত সংবাদই সত্যি হলো পাতানো পরীক্ষায় শ্যামনগর কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদরাসায় সুপার পদে উৎকোচে নিয়োগ পেলেন উজায়ের


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: অবশেষে অত্যন্ত গোপনে ¯’ান পরিবর্তন করে জেলার শ্যামনগর উপজেলার কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদরাসার সুপার পদে পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। ১৫ লক্ষ টাকার বিনিময়ে এ পাতানো নিয়োগ পরীক্ষার আয়োজন করেছিলেন মাদ্রাসার অবৈধ ভারপ্রাপ্ত সুপার (জেনারেল শিক্ষক) শেখ আনছার আলী, সভাপতি ডা. আব্দুল জলিল ও উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল কালাম রফিকুজ্জামান। আবাদ চন্ডিপুর দাখিল মাদরাসার সুপার মাওলানা উজায়েরুল ইসলাম ১৫ লক্ষ টাকা উৎকোচ দিয়ে শ্যামনগর কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদ্রাসার সুপার পদে নিয়োগ পেয়েছেন বলে জানিয়েছে শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম রফিকুজ্জামান। ২৯ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা আলীয়া কামিল মাদরাসায় এ নিয়োগ পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবার কথা থাকলেও প্রশাসন ও গণমাধ্যম কর্মীরা উপ¯ি’ত হয়ে দুর্নীতি ফাঁস করে দিতে পারেন এমন আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত অত্যন্ত গোপনে বাঁকাল দারুল হাদিস আহমাদিয়া সালাফিয়া দাখিল মাদরাসায় নিয়োগ পরীক্ষা সম্পন্ন করে কর্ত”পক্ষ। পাতানো এ নিয়োগ পরীক্ষায় পরীক্ষার্থীর অভিনয় করেন ৬জন। পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণ করতে ঢাকা থেকে যশোরে বিমানে উড়ে এসেছিলেন মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিদর্শক মোহাম্মদ হোসেন। যশোর থেকে প্রাইভেট কারে সাতক্ষীরা এসে চার লক্ষ টাকা উৎকোচ নিয়ে মাওলানা উজায়েরুল ইসলামকে নিয়োগ দিয়ে আবার ঢাকায় ফিরে গেছেন মোহাম্মদ হোসেন। শ্যামনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসারের সাথে কথা বলে এসব তথ্য জানা গেছে। তবে নিজে উৎকোচ গ্রহণের বিষয়টি অস্বীকার করে শ্যামনগর ভ্রমণের আমন্ত্রণ জানিয়েছেন শিক্ষা অফিসার আবুল কালাম রফিকুজ্জামান। এদিকে নিয়োগের বিরুদ্ধে মহামান্য হাইকোর্টে রীট আবেদন প্রক্রিয়াধীন এবং জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছিল। এলাকাবাসি ও মাদরাসার একাধিক সূত্র জানায়, পিছন থেকে কাঠি নেড়েছেন সাবেক সুপার মাওলানা ইসমাইল হোসেন। তিনি যোগাযোগ করে উজায়ের হোসেনকে নিয়োগ পাইয়ে দেয়ার ঘটকালি করেছেন। এতে তিনি পেয়েছে তিন লক্ষ টাকা। এমনই খবর দিয়েছে এলাকাবাসি। আর সভাপতি ডা. আব্দুল জলিল তিন লক্ষ এবং ভারপ্রাপ্ত সুপার শেখ আনছার আলী তিন লক্ষ টাকা নিয়ে মাওলানা উজায়েরুল ইসলামকে নিয়োগের নিশ্চয়তা দিয়েছিলেন। পুরো প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব নিয়েছেন শিক্ষা অফিসার। তবে এ বিষয়ে জেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন কিছুই জানেননা বলে জানান। তিনি বলেন, ফাজিল মাদরাসায় প্রিন্সিপ্যাল নিয়োগ হবার কথা, সেখানে সুপার নিয়োগের বিষয়টি সন্দেহজনক। তাছাড়া খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালকের নির্দেশনা অনুযায়ী শ্যামনগর কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদরাসার নিয়োগ প্রক্রিয়া ¯’গিত রাখতে উপজেলা শিক্ষা অফিসার বলা হয়েছিল। খুলনা বিভাগীয় উপ-পরিচালক উক্ত পাতানো নিয়োগ পরীক্ষা বন্ধ রাখতে নির্দেশও দিয়েছিলেন। এব্যাপারে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে শ্যামনগর কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদরাসার সহকারী সুপার মোস্তফা শাহজাহান সিরাজ লিখিত আবেদন করেছিলেন। এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক ইফতেখার হোসেন বলেন, নিয়োগ হবার কথা স্ব স্ব উপজেলায়। সেখানে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে শিক্ষা অফিসার ও ডিজির প্রতিনিধির উপ¯ি’তিতে ফেয়ারভাবে নিয়োগ পরীক্ষা হবার কথা। কিš’ উপজেলায় না হয়ে সাতক্ষীরা শহরে নিয়োগ পরীক্ষা গ্রহণের বিষয় তিনি বিস্তারিত জানার জন্য নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি শ্যামনগর কেন্দ্রীয় ফাজিল মাদরাসায় সুপার নিয়োগের বিষয় কিছুই জানেননা বলে জানান। প্রসঙ্গত, শনিবার শ্যামনগর কেন্দ্রীয় মাদরাসায় সুপার পদে পাতানো পরীক্ষা ও উৎকোচ সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরে একটি সংবাদ প্রকাশিত হলেও তাতে টনক নড়েনি প্রশাসনের।