প্রাথমিক বিদ্যালয়ে বঙ্গবন্ধু ও বঙ্গমাতা গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট: প্রেক্ষিত বাংলাদেশ


প্রকাশিত : সেপ্টেম্বর ৩০, ২০১৮ ||

শেখ মো. জাহাঙ্গীর
হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালি, ইতিহাসের মহানায়ক স্বাধীন বাংলাদেশের মহান স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও তার সহধর্র্মিনী বঙ্গমাতা বেগম ফজিলাতুন্নেসা মুজিব গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্ট বাংলাদেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ২০০৯ সাল থেকে অনুষ্ঠিতত হচ্ছে। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বান্ধব সরকারের এটি একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। প্রাথমিক শিক্ষার উদ্দেশ্য হচ্ছে একটি শিশুর আবেগিক, শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, নান্দনিক এ সকল বিষয়ে সঠিক বিকাশ সাধন। এই উদ্দেশ্যকে লক্ষ্য রেখে গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার প্রথমে ঢাকা বিভাগে এই টুর্নামেন্টের সুচনা করে শুধুমাত্র বালকদের জন্য। পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১০ সালে সারাদেশে বালকদের জন্য এই টুর্নামেন্ট অনুষ্টিত হয়। এর পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০১১ সালে সারা বাংলাদেশে প্রত্যেকটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বালক এবং বালিকারা এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে ধারাবাহিকভাবে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এই টুর্নামেন্ট অব্যাহত রয়েছে। বাংলাদেশের পরিকল্পনা মন্ত্রী আ. হ. ম মোস্তফা কামাল যিনি লোটাস কামাল নামে অধিক পরিচিত যিনি বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবল দলের একজন খ্যাতনামা ফুটবলার ছিলেন তার মাথা থেকে এই সফল উদ্যোগের চিন্তা আসে এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে এটি সারা বাংলাদেশে বাস্তবায়িত হচ্ছে। কৃতিত্বপূর্ণ জীবন গঠনের অন্যতম মাধ্যম হলো খেলাধুলা। আর বাংলাদেশের মেহনতি মানুষের অত্যন্ত জনপ্রিয় খেলা হচ্ছে ফুটবল। বাংলাদেশের ফুটবলের জৌলুস অনেক পুরানো। তবে এই জৌলুস ৯০ দশক পর্যন্ত খুব বেশী ছিল। তবে ৯০ দশকের পর থেকে বাংলাদেশের মানুষ ক্রিকেটকে ভালবেসে ক্রিকেটের দিকে ঝুঁকে পড়ে। বিশেষ করে শিশু ও তরুনদের মধ্যে ক্রিকেটের জনপ্রিয়তা দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। সে কারণে ফুটবলের জৌলুস কিছুটা কমতে থাকে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা যাতে ফুটবল চর্চা করে একদিকে যেমন শারীরিকভাবে বিকশিত হতে পারে অপরদিকে ফুটবলের জনপ্রিয়তা পূর্বের অবস্থায় ফিরে আসতে পারে সে সকল উদ্দ্যেশ্য সামনে নিয়ে চমৎকার একটি প্রতিযোগিতা বাংলাদেশে অব্যাহত রয়েছে। পৃথিবীর কোন দেশে এত বড় টুর্নামেন্ট হয় বলে অনেকের অজানা। এই টুর্নামেন্টের মাধ্যমে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিশুরা ফুটবল চর্চার সুযোগ পাচ্ছে। প্রতিযোগিতায় নামতে পারছে এবং নিজেদের মধ্যে যারা দক্ষ ফুটবলার রয়েছে তাঁরা নিজেদেরকে মেলে ধরতে পারছে এবং পরবর্তীতে তাঁরা প্রতিভা বিকাশের মাধ্যমে জাতীয় দলেও সুযোগ করে নিচ্ছে। বর্তমানে বাংলাদেশে জাতীয় প্রমিলা ফুটবল দলে বেশ কয়েকজন ফুটবলার কিন্তু বঙ্গমাতা টুর্নামেন্টের মাধ্যমে উঠে এসেছে। সুতরাং এটি সরকারের একটি মহতি উদ্যোগ। তবে বিদ্যালয় পর্যায়ে যাতে প্রত্যেকটি বিদ্যালয় এই টুর্নামেন্টে অংশগ্রহণের নিমিত্তে শক্তিশালী দল গঠন করে পর্যাপ্ত অনুশীলনের সুযোগ পায় বিশেষ করে বিদ্যালয়, ইউনিয়ন উপজেলা পর্যায়ে টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে তড়িঘড়ি করে অনুশীলন ছাড়াই অনেক সময় ম্যাচে অংশগ্রহণ করতে হয়। সে কারণে পর্যাপ্ত সময় রাখতে হবে অনুশীলনের জন্য এবং শিশুদের কে আগ্রহ সৃষ্টিতে আনুসাঙ্গিক খেলার সরঞ্জামাদি প্রদানের মাধ্যমে এই টুনার্মেন্ট আরও সার্থক ও প্রাণবন্ত করতে হবে। একদিকে জাতির পিতাকে জানা তার আদর্শে অনুপ্রাণিত হওয়া, তার সহধর্মিনীকে জানা সর্বোপরি ফুটবলের উন্নয়নে শিশুদেরকে বিকশিত করা এসবের মধ্য দিয়েই এই টুর্নামেন্ট সার্থক ও সাফল হবে। এই ধারা অব্যাহত রাখতে হবে এটি সকলের প্রত্যাশা। লেখক: সহকারী শিক্ষক, তালা বাজার মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও ক্রীড়া ভাষ্যকার