মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের স্মরণ পরম- শ্রদ্ধায়

ডা. সুশান্ত ঘোষ
আজ ১ অক্টোবর ২০১৮ জাতিসংঘ ঘোষিত ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। এ বছর দিবসের মূল প্রতিপাদ্য বিষয় ঈবষবনৎধঃরহম ঙষফবৎ ঐঁসধহ জরমযঃং ঈযধসঢ়রড়হং অর্থাৎ মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের স্মরণ পরম-শ্রদ্ধার। আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সনদ ও চুক্তির সুবাদে বিশ্ববাসীর জন্য মানবাধিকার বিষয়টি আজ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি রক্ষাকবজ যার ছায়াতলে নাগরিকরা বর্তমানে অনেক নিরাপদে আছে। ১৯৪৮ সালে ডিসেম্বরে জাতিসংঘ সার্বজনীন মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার ঘোষণাপত্র দেয়। এই ঘোষণাপত্রে অর্থনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও মর্যাদার অধিকার প্রতিষ্ঠার উল্লেখ থাকে। মানবাধিকারের এই সকল সনদ যাঁরা তৈরী করেছেন তাঁরা আজ প্রবীণ বা অতি প্রবীণ। কিন্তু সেই সকল শ্রদ্ধেয় প্রবীণদের জন্য এর সুফল ভোগের ব্যবস্থা কতটুকু করতে পেরেছি? ৭০ বছর পর তাঁদের মূল্যায়ন ও পর্যালোচনা সহ সকল প্রবীণদের শ্রদ্ধায় স্মরণ করার বিশেষ আবেদন এ বছরে।
বাংলাদেশে ৬০ বছর এবং তদুর্ধ বছর বয়সীরা হচ্ছেন প্রবীণ। বাংলাদেশে বর্তমানে ১.৪০ কোটি প্রবীণ বাস করছেন। নি¤œ জন্মাহার, নি¤œ মৃত্যুহার ও জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে উন্নত পুষ্টি ও স্বাস্থ্য সেবার জন্য প্রবীণদের সংখ্যা দ্রুতহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। ২০২৫ সালে এই সংখ্যা হবে ২ কোটি ও ২০৫০ সালে হবে ৪.৫ কোটি। মানবাধিকার সনদ ও চুক্তিসহ সমাজ, সংস্কৃতি ও সভ্যতার প্রদর্শক আজকের প্রবীণরা। বাংলাদেশের মহামান্য রাষ্ট্রপতি, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, রাজনীতিবিদ, শিক্ষাবিদ, পেশাজীবি, সংস্কৃতি, ব্যবসায়ী ও গণমাধ্যম কর্মীসহ সমাজের নেতৃত্বে প্রবীণদের উপস্থিতি এবং তাঁদের অবদান অত্যন্ত প্রশংসনীয়। বাংলাদেশের সর্বশ্রেষ্ঠ সন্তান মুক্তিযোদ্ধাদের প্রায় সকলেই আজ প্রবীণ। শ্রদ্ধেয় প্রবীণরা নিজেদের অবসর উপেক্ষা করে দেশ ও জাতির উন্নয়নে সহযোগিতা দিয়ে যাচ্ছেন।
প্রাকৃতিক কারণে প্রবীণ বয়সে অঙ্গের কার্য্য-ক্ষমতা হ্রাস পায় এবং কিছু কিছু অসুখের ঝুকি বেড়ে যায়। সেই ঝুকিগুলো নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য অর্থনৈতিক, সামাজিক ও স্বাস্থ্যগত নিরাপত্তার প্রয়োজন হয়। এই সুযোগ সুবিধা পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক দেশের প্রত্যেক নাগরিকের আছে। প্রবীণদের এই অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য পৃথিবীতে বিভিন্ন গোষ্ঠী বা সংগঠন কাজ করে যাচ্ছে। তাদের প্রচেষ্টায় ১৯৮২ সালে ভিয়েনায় (ঠওচঅঅ) ক্রমবর্ধমান বয়স্ক সমাজের অবস্থা পর্যালোচনা করা হয়।
পরবর্তীতে ১৯৯০ সালে ১৪ ডিসেম্বর জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বয়স্কদের সমস্যা নিয়ে আলোচনা হয় এবং সকল মানুষের মাঝে বয়স্কদের মর্যাদাপূর্ণ অবদান ও সমস্যাগুলো অবহিত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ উদ্দেশ্যে প্রতিবছর ১লা অক্টোবর বিশ্ব প্রবীণ দিবস উদযাপনের ঘোষণা দেওয়া হয়। সেই মোতাবেক ১৯৯১ সালের ১লা অক্টোবর প্রথম বিশ্ব প্রবীণ দিবস পালন করা হয়। ২০০২ সালে (গওচঅঅ) মাদ্রীদ-এ প্রবীণদের বিষয়ে জাতিসংঘ পুনরায় আলোচনা করে। বিশ্বে প্রবীণদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধির ফলে-বৈশ্বিক সমস্যা দেখা দিচ্ছে। সেগুলোকে মোকাবেলা করার কৌশল আবিষ্কার করে সমাজ গঠনে সকল বয়সের মানুষদের সমান অংশীদারীত্ব দেওয়ার ঘোষনা দেওয়া হয়। এই আলোচনায় প্রবীণদের কর্ম ব্যবস্থার সুযোগ করে দেওয়ার প্রস্তাব করা হয়।
২০১৫ সালে প্রবীণদের সমস্যার পূন:মূল্যায়ন করা হয় এবং উল্লেখ করা হয় সমাজ গঠনে সকলের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে। কাউকে পিছনে না ফেলে সকলকে নিয়ে বর্তমান ও ভবিষ্যতে উন্নত সমাজ প্রতিষ্ঠা করাই জাতিসংঘের আহ্বান।
এম,ডি,জি সাফল্যে আমরা এস,ডি,জির মসৃণ সড়ক ধরে এগুচ্ছি। এক্ষেত্রে প্রবীণদের অবদান অনস্বীকার্য। তাই প্রবীণদের সুরক্ষায় আমাদের এগিয়ে আসতে হবে। তাদের সমস্যা মোকাবেলায় পরিবার ও সংগঠনের সচেতনতা ও সক্রিয়তা বৃদ্ধির উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। শিক্ষা, পাঠ্য সুচিতে, গণমাধ্যমের নানা কার্যক্রমে ও সাংস্কৃতিক তৎপরতায় বার্ধক্য ও প্রবীণদের অবস্থা, চ্যালেঞ্জ, চাহিদা, অধিকার ও আমাদের করণীয় বিষয়বস্তু উপস্থাপন করতে হবে যেমন স্বাস্থ্য সেবা প্রদানে, সামাজিক সুরক্ষা দানে, অর্থনৈতিক স্বচ্ছলতার উপায় বার করতে হবে।
প্রবীণদের প্রত্যাশা:
১। বার্ধক্য ও প্রবীণকল্যাণ বিষয়ক স্বতন্ত্র একটি মন্ত্রণালয় স্থাপন করুন;
২। জাতীয় প্রবীণ নীতিমালা-২০১৩ পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুন;
৩। প্রণয়নাধীন প্রবীণ উন্নয়ন ফাউন্ডেশন আইন পাশ করার প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করুন;
৪। পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন-২০১৩ যথাযথভাবে বাস্তবায়ন করুন;
৫। নাগরিকদের অংশীদারীত্বের মাধ্যমে দেশে বার্ধক্যবীমা (ঙষফ অমব ওহংঁৎধহপব), সার্বজনীন নাগরিক পেনশন ব্যবস্থা (টহরাবৎংধষ চবহংরড়হ ঝুংঃবস) ইত্যাদির প্রচলন করার উদ্যোগ গ্রহণ করুন;
৬। নারী, প্রতিবন্ধী, অটিস্টিক, ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী, বিচ্ছিন্ন ও অবহেলিত প্রবীণদের কল্যাণে বিশেষ কর্মসূচি চালু করুন;
৭। প্রবীণদের জন্য সহজলভ্য চিকিৎসা সেবা এবং বিনামূল্যে ওষুধ সরবরাহ করার উদ্যোগ নিন;
৮। প্রবীণদের জন্য স্বল্প ও দীর্ঘ মেয়াদী আয়বর্ধক এবং অবসরপ্রাপ্ত প্রবীণদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা নিন;
৯। সকল যানবাহন, হাসপাতাল-ক্লিনিক, ব্যাংকসহ সেবা প্রতিষ্ঠানে প্রবীণদের জন্য স্বতন্ত্র ও রেয়াতের ব্যবস্থা চালু করুন;
১০। বয়স্ক ভাতার পরিমাণ বৃদ্ধিসহ দেশের সকল প্রবীণকে এই ভাতা কর্মসূচির অন্তর্ভূক্ত করুন;
১১। রেডিও-টেলিভিশনসহ সকল গণমাধ্যমে প্রবীণদের অবস্থা তুলে ধরে জনগণকে সচেতন ও সক্রিয় করুন;
আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস, বর্তমান প্রবীণবান্ধব সরকার উপর্যুক্ত নিবেদনগুলো আমলে নিয়ে আন্তরিক ও বলিষ্ঠ পদক্ষেপ গ্রহণ করবে। এতে করে দেশের প্রবীণরা ভাল থাকবেন আর নবীণ প্রজন্মও স্বস্তি পাবে তাদের জন্যে আগামীর তৃপ্তিকর আয়োজনে। আজকের এই দিনে প্রবীণদের আহবান হচ্ছে-কেবল আবেগ-অনুকম্পা অথবা দয়া-দাক্ষিণ্যে নয়, অধিকার আর প্রাপ্য সন্মানের ভিত্তিতে জাতি-ধর্ম-গোষ্ঠী নির্বিশেষে অনিন্দ্য সুন্দর এই বাংলাদেশে আমরা সবাই মিলেমিশে শান্তিতে আর স্বস্তিতে বসবাস করি এবং বার্ধক্য মোকাবেলায় সরকারী উদ্যোগে অংশীদার হয়ে নাগরিকদের এগিয়ে আসা উচিত।

চাই শহর-গ্রাম প্রবীণবান্ধব বাংলাদেশ

শেখ আবুল কালাম আজাদ

আজ ১ অক্টোবর, ২৮তম আন্তর্জাতিক প্রবীণ দিবস। প্রথম জাতিসংঘ ১৯৯০ সালে দিবসটি পালন করে। জাতিসংঘের আহ্বানে ১৯৯১ সাল থেকে প্রতিবছর বাংলাদেশসহ বিশে^র সব দেশে যথাযোগ্য মর্যাদা এবং গুরুত্বের সঙ্গে দিবসটি পালিত হয়ে আসছে। এ বছর প্রবীণ দিবসের মূল প্রতিপাদ্য- জবপড়মহরুব ঃযব যড়হড়ৎ ড়ভ ঃযব বষফবৎষু রহ বংঃধনষরংযরহম যঁসধহ ৎরমযঃং অর্থাৎ, ‘মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় প্রবীণদের স্মরণ শ্রদ্ধায়’। জন্মের পর থেকে প্রতিদিনই আমাদের বয়স বাড়ছে। শৈশব, কৈশোর, যৌবন পেরিয়ে একসময় আমরা পৌঁছে যাই প্রবীণ বয়সে। প্রবীণ বয়সটা আসলে কেমন। আমরা যারা তরুণ রয়েছি, আমাদের ধারণাই নেই সেই বয়সটিতে আমিইবা কেমন থাকব। প্রবীণ জীবন আসলে সুখের নয়। বাংলাদেশে যাদের বয়স ৬০ বছরের বেশি, তাদেরই আমরা প্রবীণ ব্যক্তি বা জ্যেষ্ঠ নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করব। কেমন আছেন আমাদের দেশের বেশিরভাগ জ্যেষ্ঠ নাগরিকরা? আমি বলব ভালো নেই। আমাদের দেশ উন্নয়নশীল দেশ। এখনও এ দেশের অনেক মানুষই তিনবেলা পেট ভরে খেতে পায় না। জীবন-জীবিকার লড়াইটা করতে হয বেশিরভাগ মানুষকেই। জন্মের পর থেকেই একটু একটু করে ভালোভাবে বাঁচার জন্য শুরু হয় জীবনের দৌড়। কিন্তু এ দৌড়ের শেষ কোথায়, কোথায় এর পরিসমাপ্তি। মৃত্যুর আগে সেই দৌড়টা যে আরও বেশি করে দিতে হবে। পারবেন তো, আমরা প্রস্তুত তো। একটা সময় চাইলেও কি আমরা পারব যৌবনের মতো দৌড়াতে। না, পারব না। বার্ধক্য এসে ভর করবে আমাদের শরীরে। মানুষের মন কখনও বুড়ো হয় না কিন্তু সব শক্তি খেয়ে নিয়ে শরীর একটু একটু করে বুড়ো হয়ে যায়। চিরচেনা নিজের সেই শরীরকে আরেকটু সুস্থ-সবলভাবে বাঁচিয়ে রাখতে প্রয়োজন পড়ে খাবারের, প্রয়োজন পড়ে চিকিৎসার, প্রয়োজন পড়ে অর্থের। বাড়ছে মানুষের গড় আয়ু। বাড়ছে এদেশে প্রবীণ জনগোষ্ঠীর সংখ্যা। এ মুহূর্তে বাংলাদেশ বলছে যদি আকস্মিক মৃত্যু না ঘটে আপনি চাইলেও আর ৭৩ বছরের আগে মরছেন না। কারণ গড় আয়ুটা যে বেড়ে গেছে। আবার রাষ্ট্রই বলছে আপনার বয়স ৬০ বছর হলেই আপনি প্রবীণ। আপনার কোন কর্মসংস্থান নেই। অন্যদিকে সমাজব্যবস্থায় যৌথ পরিবার প্রথা ভেঙে তৈরি হচ্ছে একক পরিবার। এই একক পরিবারের ফলে পরিবারে বাড়ছে প্রবীণের নিরাপত্তাহীনতা। প্রবীণরা পালাবে কোথায়? রাষ্ট্র, পরিবার, সমাজ কেউই প্রবীণদের দায়িত্ব নিচ্ছে না। বাংলাদেশে প্রবীণের সংখ্যা নেহাত কম নয়। এ মুহূর্তে জনসংখ্যার ৮ শতাংশ প্রবীণ, আর তা প্রায় দেড় কোটি। হিসাব বলছে, প্রবীণ বৃদ্ধির এই হার যদি অব্যাহত থাকে, তবে ২০২৫ সাল নাগাদ এ দেশে প্রবীণের সংখ্যা হবে প্রায় ৩ কোটি এবং ২০৫০ সালে প্রতি পাঁচজনে একজন প্রবীণ থাকবে। হিসাবটা জানা দরকার, কারণ এই ২০১৮ সালে এসেও প্রবীণদের নিরাপত্তায় এখনও পর্যন্ত আমরা কোন কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে পারিনি।
বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি এবং সরকার যথেষ্ট প্রবীণবান্ধব । ১৯২৫ সালে ব্রিটিশ প্রবর্তিত পেনশন-ব্যবস্থার ৭২ বছর পরে প্রাজ্ঞ রাজনীতিবিদ শেখ হাসিনার দূরদর্শী উদ্যোগে ১৯৯৭ সালে চালু করা হয়েছে বিশ^নন্দিত বয়স্কভাতা কর্মসূচি; অবসর গ্রহণের বয়স ৫৯/৬০ বছর করা হয়েছে: অনুমোদিত হয়েছে বহু প্রতীক্ষিত ‘প্রবীণবিষয়ক জাতীয় নীতিমালা-২০১৩’ এবং ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ
আইন-২০১৩’।
২০১৫ সালে রাষ্ট্রপতি এ দেশের প্রবীণদের সিনিয়র সিটিজেন ঘোষণা করে কিছু সুযোগ সুবিধার কথা বলেছেন। কিস্তু কথাগুলো যেন কথাই থেকে যায়। বাস্তবে আমরা প্রবীণদের জন্য তেমন কোন সুযোগ সুবিধা দেখতে পাই না, বরং দিন দিন বাড়ছে প্রবীণদের প্রতি মানবাধিকার লঙ্ঘন। প্রবীণরা নির্যাতিত হচ্ছে ঘরে, সমাজে তথা রাষ্ট্রে। আমাদের ঘর, সমাজ ও রাষ্ট্র অনেকটাই প্রবীণবান্ধব নয়। গবেষণা বলছে, এ মুহূর্তে বাংলাদেশের প্রবীণরা তিন ধরনের নির্যাতনের শিকার, শারীরিক, মানসিক ও অর্থনৈতিক। পুরুষের চেয়ে মহিলারা এই নির্যাতনের শিকার বেশি হন। শহুরে প্রবীণরা তবুও পরিবারে কোন রকম টিকে থাকলেও গ্রামীণ প্রবীণদের চিত্রটা আরও ভয়াবহ। যে ব্যক্তি সারাজীবন কৃষিকাজ করতেন বা কঠোর পরিশ্রমের কাজ করে আয়রোজগার করতেন, তিনি প্রবীণ বয়সে আর ভারী কাজ করতে পারছেন না; অন্যদিকে ছেলেমেয়েরাও আয়রোজগারের আশায় শহরমুখী। তারাও তাদের বাবা-মাকে ঠিকমত দেখভাল করতে পারে না। তাই গ্রামীণ প্রবীণ জনগোষ্ঠীর একটি বড় অংশ ছিটকে যাচ্ছে সমাজ থেকে। বেঁচে থাকার জন্য তারাও শহরমুখী হচ্ছে, বেছে নিচ্ছে ভিক্ষাবৃত্তি। বাড়ছে ছিন্নমূল প্রবীণের সংখ্যা, পথ প্রবীণের সংখ্যা। শহরের চিত্রটা কিছুটা ভিন্ন হলেও প্রবীণরা নিজ বাড়িতেই অনেক সময় দুর্ভোগের শিকার হন। নিজের ইচ্ছার কথাগুলো তারা ছেলেমেয়েদের বলতে পারছেন না। ছেলেমেয়েরা তাদের সম্পত্তি লিখে নিচ্ছে এবং তারপর তাদের আর খোঁজখবর রাখছে না। তারা ভুগছেন অর্থনৈতিক নিরপত্তাহীনতায়। অনেক ক্ষেত্রেই সঠিক চিকিৎসা সেবা থেকে তারা বঞ্চিত। ছেলে ও ছেলের বউয়ের সঙ্গে বনিবনা না হওয়ায় অনেক প্রবীণই মনে মনে আলাদা থাকতে চান; কিন্তু কে নেবে তাদের দায়িত্ব। আবার অনেক প্রবীনই পেনশনের টাকা বা তার নিজ জমানো টাকা দিয়ে নিজের মতো বাস করতে চান। সে ক্ষেত্রে তারা খুঁজে বেড়ান বাসযোগ্য একটি জায়গা। আমাদের সমাজ ব্যবস্থা এখনও প্রবীণদের জন্য বাসযোগ্য ‘প্রবীণ নিবাস’ তৈরী হয়নি। এটি হওয়া জরুরী। প্রবীণরা চাইলেও আলাদা করে বসবাস করতে পারছেন না। প্রবীণদের জন্য নেই কোন আলাদা অধিকারের ব্যবস্থা। সরকারি হাসপাতালগুলোয় এখন পর্যন্ত নেই কোনো জেরিয়েট্রিক মেডিসিন স্পেশালিস্ট, নেই জেরিয়েট্রিক মেডিসিন বিভাগ, স্বল্পোমূল্যে চিকিৎসার ব্যবস্থা। তাই প্রবীণদের কথা চিন্তা করে স্থানীয় গন্যমাণ্য ও সমাজসেবী ব্যক্তি বর্গের সমন্বয়ে “আরা” সাতক্ষীরা উত্তর কাটিয়া দাস পাড়া প্রাইমারী স্কুলের পশ্চিম পাশে অবস্থিত একটি প্রবীণ আবাসন কেন্দ্র (বৃদ্ধাশ্রম) গড়ে তুলেছে যা বর্তমানে চলমান।
সম্মানিত প্রবীণদের অধিকারের দিকটি ভেবে এবং সবার বার্ধক্যের কথা মাথায় রেখে জাতিসংঘের ডাকে সাড়া দিয়ে আজকের এই দিনে আসুন নবীন-প্রবীণ সবাই মিলে বাংলাদেশের প্রতিটি শহর-গ্রাম গঠন-পুনর্গঠন করি স্বস্তি, স্বাচ্ছন্দ্য এবং তৃপ্তির সঙ্গে প্রবীণদের বসবাসের ব্যবস্থা যদি আমরা নিশ্চিত করতে পারি, তবে শহর- গ্রাম জীবনে একদিন আমাদের বার্ধক্যও হবে সফল, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ। আসুন শপথ নিই, শহর-গ্রাম থেকে প্রবীণদের বিচ্ছিন্ন করব না। তাঁদের নিয়ে সবাই মিলে আমরা এই দেশকে করব সব বয়সীর জন্য সমান সুরক্ষিত এবং উভোগ্য এক অনিন্দ্য সুন্দর বাংলাদেশ। লেখক: নির্বাহী পরিচালক, আরা, সাতক্ষীরা।

দুবলার চরে যেতে পাইকগাছার জেলে পল্লীতে ব্যাপক প্রস্তুতি

প্রকাশ ঘোষ বিধান, পাইকগাছা (খুলনা): শীত মৌসুমে বঙ্গোপসাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য পাইকগাছার জেলে পল্লীগুলোতে ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। নতুন নৌকা ও ট্রলার তৈরি এবং পুরাতন নৌকা মেরামত, জাল বুনা ও জাল শুকানোর ধুম পড়েছে। জেলে পল্লীর নারী-পুরুষরা সুন্দরবনের দুবলার চরে যাওয়ার জন্য কর্মব্যস্ত দিন কাঁটাচ্ছে। সুন্দরবন ও সাগরে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতির মধ্য বিরাজ করছে সারা বছরের জীবিকা অর্জনের খুশির আমেজ। পাইকগাছা উপজেলার বোয়ালিয়া, হিতামপুর, মাহমুদকাটী, নোয়াকাটি, কপিলমুনি, কাটিপাড়া, রাড়–লী, শাহাপাড়া, বাঁকা সহ বিভিন্ন গ্রামের জেলে পল্লীর প্রায় ২৪০টি নৌকা বা ট্রলার সমুদ্রে মাছ ধরতে নিয়ে যাওয়ার জন্য ব্যাপক প্রস্তুতি চলছে। নতুন নৌকা বা ট্রালার তৈরি, পুরাতন ট্রলারগুলো সংস্কার, জালবুনা, নৌকায় রং করা, জালে গাবকুটে তার রস লাগানোসহ সমুদ্রে যাওয়ার বিভিন্ন কাজ কর্ম নিয়ে জেলে পল্লীর নারী-পুরুষরা ব্যস্ত দিন কাঁটাচ্ছে। উপজেলার বোয়ালিয়া মালোপাড়ার বিশ্ব বিশ্বাস, দিপংকর বিশ্বাস, সিতেরাম, তাপস বিশ্বাস, কেনা বিশ্বাস, জয়দেব, সুজন, দয়াল মন্ডল, প্রদীপ বিশ্বাসের নতুন নৌকা তৈরি ও পুরাতন নৌকা মেরামত চলছে কপোতাক্ষ নদের তীরে বোয়ালিয়া ব্রীজের দুই পাশে। বোয়ালিয়া মালোপাড়ার বিশ্ব বিশ্বাস ও দিপংকর বিশ্বাস জানায়, নতুন ১টি ট্রলার তৈরি করতে সর্বমোট খরচ পড়ছে সাড়ে ৩ লাখ টাকা। ৬০ ফুট লম্বা ১৭ ফুট চওড়া একটি ট্রলার তৈরি করতে প্রায় ৪শ’ সেফটি কাঠ লাগে। সব কাট দিয়ে নৌকা তৈরি হয় না। এলাকায় পাওয়া যায় এমন চম্বল, বাবলা, শিরিস, মেহগনী, খৈই কাঠ দিয়ে তারা ট্রলার তৈরি করছে। প্রতি সেফটি খৈ, বাবলা ও চম্বল কাঠ ৫শ’ টাকা থেকে ১৫শ’ টাকা দরে ক্রয় করেছে। নৌকা বা ট্রালার তৈরি করতে বিভিন্নস্থান থেকে মিস্ত্রী আনতে হয়। সাতক্ষীরা জেলার, দওগাহপুর গ্রামে ট্রলার-নৌকা মিস্ত্রী শেখ আব্দুল হাফিজ, শেখ মিরাজ হোসেন তাদের দুইটি দলে ৪জন সহকারী মিস্ত্রী নিয়ে নতুন ট্রলার তৈরির কাজ করছে। মিস্ত্রী শাহ আলম, রবিউল সহ এলাকার মিস্ত্রী দিয়ে পুরাতন ট্রলার মেরামত করা হচ্ছে। ট্রলার তৈরিতে মিস্ত্রীদের থাকা খাওয়া বাদে প্রতিটি নতুন ট্রলার-নৌকা তৈরী বাবদ মজুরী ৭০হাজার টাকা। নৌকা বা ট্রালার তৈরির পর তাতে রং করতে প্রায় ১২টিন আলকাতরা লাগে। পুরাতন ট্রলার-নৌকা মেরামত করতে ২০-৭০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। একটি নতুন ট্রলারে প্রায় ৩ মন পেরেক, ১শ’ কেজি বলই প্রয়োজন হয়। নৌকা বা ট্রালার তৈরি পর ইঞ্জিন বসাতে ১ লাখ টাকা খরচ হচ্ছে। প্রতিটি মাছ ধরার জাল তৈরি করতে তাদের খরচ হচ্ছে ৯০ হাজার থেকে ১লাখ টাকা। সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য প্রতি ট্রলারে ২টি জাল প্রয়োজন হয়। প্রতি ট্রলারে জাল ধরার জন্য ৫/৬ জন কর্মচারীর প্রয়োজন হয়। তাদের থাকা-খাওয়া বাদে প্রতি মাসে ৮/১০ হাজার টাকা বেতন দিতে হয়। সমুদ্রে মাছ ধরার জন্য নৌকা প্রতি ৫/৬ মাসে সব কিছু মিলে খরচ পড়ে প্রায় ৫/৬ লাখ টাকা। তারা আরো জানায়, এলাকার বিভিন্ন মহাজনদের কাছ থেকে চড়া সুদে টাকা ধার নিতে হয়। ৬ থেকে ৭ মাসের জন্য তারা সুদে টাকা নেয়। প্রতি ১ লাখ টাকায় মহাজনদের প্রতি মাসে ২৫ থেকে ৩০ হাজার টাকা সুদ দিতে হবে। জেলে পাড়ার অজয় বিশ্বাস জানান, সরকার যদি তাদেরকে ব্যাংকের মাধ্যমে মাছ ধরার জন্য ঋণের ব্যবস্থা করে দেয় তাহলে তাদের মাছ ধরে উপার্জিত টাকা ঘরে ফিরে আনতে পারে। তা না হলে মহাজনের কাছ থেকে নেওয়া চড়া সুদের টাকা শোধ করার পর উপার্জিত টাকা আর ঘরে ফিরে আসে না। তাই জেলে পরিবাররা সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে, শীত মৌসুমে মাছ ধরতে যাওয়া সময় জেলেদেরকে যেন ঋণের ব্যবস্থা করা হয়। তাহলে তারা আর্থিকভাবে স্বচ্ছলতা ফিরে পাবে। জেলেরা বিভিন্ন মহাজনের অধীনে থেকে সমুদ্রে মাছ ধরতে যায়। মহাজনরা জেলেদের পাস পার্মিট করে রাখে। দুবলার চরে রওনা দেওয়ার আগে মংলা থেকে পাসপার্মিট নিয়ে জেলেরা মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য রওনা দেয়। এ বছর মংলা হয়ে বলেশ্বর নদী দিয়ে দুবলার চরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। এতে করে পাইকগাছার জেলেদের প্রায় ৩দিন বাড়তি সময় লাগবে এবং খরচ বেড়ে যাবে দ্বিগুন। সমুদ্রে যাওয়া জন্য বন বিভাগ থেকে পাশ পারমিট নেয়ার জন্য প্রস্তুতি চলছে। সব কিছু ঠিক থাকলে পূজা শেষে জেলেরা মাছ ধরার জন্য সুন্দরবনের দুর্বলার চরের উদ্দেশ্যে রওনা দিবে। তবে সূত্রে জানাগেছে, বন সু-রক্ষার জন্য বনের ১৩টি চর নিয়ে জেলেরা যে মৎস্য পল্লী তৈরি করে তা এ বছর সীমিত করা হতে পারে বলে জানা গেছে। সুন্দরবন পশ্চিম বন বিভাগ সূত্রে জানাগেছে, বঙ্গোপসাগর উপকূলে মাছ ধরার মৌসুম শুরু হতে যাচ্ছে। উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা পেলে বন বিভাগ সে মত তারা সব রকম ব্যবস্থা গ্রহন করবে বলে জানান। বোয়ালিয়া জেলে পল্লীর দিপংকর বিশ্বাস ও বিশ্বজিৎ বিশ্বাস জানায়, দূর্গা পূজার পর উপজেলার সকল ট্রলার এক সঙ্গে রওনা দিবে। মংলা হয়ে সুন্দরবনের দুবলার চরে গিয়ে বাসা বেঁধে অবস্থান নিবে। জীবিকার জন্য প্রতি বছর বড় ধরনের ঘূর্ণিঝড়, জলোচ্ছ্বাস, বনদস্যু ও জলদস্যুদের সাথে জেলেদের জীবন সংগ্রাম করে বেঁচে থাকতে হয়। মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে ভয়ংকর, বিক্ষুদ্ধ উত্তাল ঢেউয়ের সংগে যুদ্ধ করে জেলেদের জাল ফেলে মাছ ধরতে হয়। জেলেপল্লী মানুষের আয়ের উৎস্য সমুদ্রে মাছ ধরা জেলেদের নেশা ও পেশা হয়ে দাড়িয়েছে। এতো বিপদের সংগে লড়াই করে জীবিকা অর্জনের জন্য জেলে পল্লীর নারী-পুরুষ সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছে। এই নিয়ে জেলে পল্লীগুলোতে চলছে প্রস্তুতির মহাকর্মযজ্ঞ।

দেবহাটায় উপজেলা পরিষদের মাসিক সমন্বয় কমিটির সভা

দেবহাটা সংবাদদাতা: দেবহাটা উপজেলা সমন্বয় কমিটির মাসিক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে উক্ত সমন্বয় সভা অনুষ্ঠিত হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ্ব আব্দুল গণি। উপস্থিত থেকে বক্তব্য রাখেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীন, কুলিয়া ইউপি প্যানেল চেয়ারম্যান আসাদুল ইসলাম, পারুলিয়া ইউপি চেয়াম্যান সাইফুল ইসলাম, দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী, উপজেলা প্রকৌশলী আলহাজ¦ মমিনুল ইসলাম প্রমূখ। এ সময় সকল দপ্তরের কর্মকর্তারা, এনজিও প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও কমিটির সকল সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন ।

দেবহাটায় সরকারের সাফল্য তুলে ধরে ২০২১ শীর্ষক আলোচনা সভা

দেবহাটা সংবাদদাতা: দেবহাটায় সরকারের সাফল্য অর্জন ও উন্নয়ন ভাবনা বিষয়ে ভিশন ২০২১ শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার বেলা ১টায় উপজেলা মুক্তমঞ্চে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ আল-আসাদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণি। উপস্থিত ছিলেন জেলা তথ্য অফিসার মোজাম্মেল হক, উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন রতন, মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীন, পারুলিয়া ইউপি চেয়াম্যান সাইফুল ইসলাম, সমাজসেবা অফিসার অধির কুমার গাইন প্রমূখ। এ সময় এডিপি’র অর্থায়নে ৪মাসের প্রশিক্ষণ প্রাপ্ত ১৭জন নারীকে সতেরটি সেলাইমেশিন ও উপজেলা পর্যায়ের মহিলাদের আয় বর্ধনমূলক কর্মসূচির আওতায় ৩মাসের প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত ৪০জন নারীর মাঝে ২লাখ ৪০ হাজার টাকা প্রদান করা হয়েছে। সমগ্র অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন উপজেলা মহিলা বিষয়ক অফিসার নাজমুন নাহার।

মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে: এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি

কলারোয়া প্রতিনিধি: বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির পলিট ব্যুরো সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, এমপি বলেছেন, মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় উজ্জীবিত হয়ে অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ বিনির্মাণে সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। সামাজিক ন্যায্যতা ও সমতা প্রতিষ্ঠার লড়াইকে বেগবান করতে হবে। দেশবিরোধী অপশক্তিকে যে কোনো মূল্যে রুখে দিতে হবে। রোববার বিকেলে কলারোয়া জিকেএমকে পাইলট মাধ্যমিক বিদ্যালয় চত্বরে বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির উপজেলা সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন। সামাজিক ন্যায্যতা-সমতা প্রতিষ্ঠাসহ মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় অসাম্প্রদায়িক জনগণতান্ত্রিক আধুনিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার দাবিতে আয়োজিত এ উপজেলা সম্মেলনে জাতীয় সঙ্গীত পরিবেশনের মধ্য দিয়ে জাতীয় ও সংগঠনের পতাকা উত্তোলন করে আনুষ্ঠানিক শুভ সূচনা করেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, এমপি ও সাধারণ সম্পাদক উপাধ্যক্ষ মহিবুল্লাহ মোড়লসহ সম্পাদকমন্ডলীর সদস্যবৃন্দ। সম্মেলনে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য অধ্যাপক সাবীর হোসেন, সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য এড. ফাহিমুল হক কিসলু। সম্মেলন অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন উপজেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদক মুক্তিযোদ্ধা আব্দুর রউফ। সমগ্র অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন জেলা ওয়ার্কার্স পার্টির সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য অধ্যক্ষ ময়নুল হাসান। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আমিনুল ইসলাম লাল্টু, পৌর ওয়ার্কার্স পার্টির সভাপতি অধ্যাপক আবুল খায়ের, সম্পাদক অধ্যাপক শেখ জাভিদ হাসান, ওয়ার্কার্স পার্টির সন্তোষ কুমার পাল, শেখ জুলফিারুজ্জামান জিল্লু, প্রদীপ কুমার পাল, আবু হায়াত বাবু, তৌহিদুর রহমান সাগর প্রমুখ। অনুষ্ঠানে কলারোয়া ও তালা উপজেলার ইউপি চেয়ারম্যানবৃন্দ ও আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। বিকেলে সম্মেলন অনুষ্ঠানের পূর্বে ওয়ার্কার্স পার্টির একটি বর্ণাঢ্য র‌্যালি কলারোয়া পৌর শহর প্রদক্ষিণ করে।

এক সন্তানের জননীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামীর ঘর ছাড়া করলেন সেনা সদস্য!

নিজস্ব প্রতিনিধি: এক সন্তানের জননীকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে স্বামীর ঘর ছাড়া করে প্রতারণার অভিযোগ উঠেছে সেনা সদস্যের বিরুদ্ধে। ওই সেনা সদস্য ছাইফুল ইসলাম সাতক্ষীরা সদর উপজেলার চুপড়িয়া গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে। অপরদিকে গৃহবধু মনিরা খাতুন সেনা সদস্য ছাইফুল ইলামের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের শ্যালক ও কলারোয়া উপজেলার বাটরা গ্রামের খায়রুল ইসলামের স্ত্রী।
মনিরা খাতুন জানান, কয়েকবছর পূর্বে সেনা সদস্য ছাইফুল ইসলামের বড় ভাই আনোয়ার হোসেনের শ্যালক খায়রুল ইসলামের সাথে মনিরার বিয়ে হয়। মনিরার বিয়ে হবার সুবাদে ছাইফুল ইসলাম তার কর্মস্থল থেকে প্রায় ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসতো এবং তার ভাইয়ের শ্যালক খায়রুল ইসলামের বাড়িতে এবং মনিরার পিতার বাড়িতে ৪ বছর ধরে যাতায়াত করত।
সেখান থেকে এক সন্তানের জননী গৃহবধু মনিরার বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে তার সাথে সেনা সদস্য ছাইফুল ইসলাম প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তোলে। একপর্যায় ছাইফুল ইসলাম ইতোমধ্যে রংপুরে তার কর্মস্থল থেকে কয়েক দিনের জন্য ছুটি নিয়ে বাড়িতে আসে। সে বাড়িতে এসে ওই দিন গৃহবধু মনিরা খাতুনকে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে মোবাইল ফোনে কলারোয়া বাসস্ট্যান্ডে তাকে ডেকে নিয়ে আসে। এরপর চুপড়িয়া গ্রামের জনৈক মনিরুল ইসলাম ও বিপ্লব নামে এই দুই ব্যক্তির সহযোগিতায় ছাইফুল ইসলাম ওই গৃহবধু মনিরাকে কলারোয়া বাসষ্ট্যান্ড থেকে মোটরসাইকেল যোগে তুলে এনে মনিরার সাথে ছাইফুল ইসলাম মৌখিক কবুলে বিয়ে করে। বিয়ে করে ছাইফুল তার নিজের বাড়িতে মনিরা খাতুনকে নিয়ে যায়। সেনা সদস্য ওই গৃহবধু মনিরাকে বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার পর এলাকাবাসির মধ্যে হৈ চৈ পড়ে যায় এবং তার বাড়িতে মহিলা পুরুষরা ভিড় জমায়। এরপর ছাইফুল ইসলামের উপর এলাকাবাসিসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিধি বিষয়টি নিয়ে ছাইফুল ইসলাম ও গৃহবধুর উপর চাপসৃষ্টি করতে থাকলে ছাইফুল ইসলামের সাথে কলেমা পড়ে বিয়ে হয়েছে বলে স্বীকার করেন ওই গৃহবধু। তবে ওই গৃহবধু সাথে বিয়ের ও সম্পর্কের কথা অস্বীকার করেন সেনা সদস্য ছাইফুল ইসলাম। কিন্তু তারা একটি কাবিন নামা দেখালেও সেটি পরবর্তীতে ভুয়া বলে প্রমাণিত হয়।
তবে ওই গৃহবধুর মনিরা খাতুনের অভিযোগ ছাইফুল ও তার সহযোগি লোকজন ওই গৃহবধুর পিতার বাড়ির পরিবারের লোকজনের সংবাদ দিয়ে ডেকে এনে তাদেরকে নানা ভয়ভীতি দেখিয়ে ছাইফুল ওই গৃহবধুর সাথে বিয়ের কথা ও সর্ম্পক কথা অস্বীকার করে মনিরাকে তার পিতার বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। ছাইফুল ইসলাম ২০১৩ সালে সেনাবাহিনীতে যোগদান করেন। ছাইফুল ইসলাম বর্তমান রংপুর সেনানিবাসে কর্মস্থলে রয়েছেন। সেনা সদস্য ছাইফুল ইসলামের সাথে বিয়ের প্রতারণার শিকার হয়ে বর্তমান ওই গৃহবধু মনিরা খাতুন কলারোয়া উপজেলার জুইখালী গ্রামের তার পিতার বাড়িতে গিয়ে ফুটফুটে ২ বছরে সন্তান নিয়ে বিচারের জন্য বিভিন্ন মহলে দ্বারে দ্বারে ঘুরে বেড়াচ্ছে। এব্যাপারে সেনা সদস্য ছাইফুল ইসলামের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি ওই গৃহবধুর সাথে সর্ম্পক ছিল বলে স্বীকার করেন আর বিয়ের কথা অস্বীকার করেন। তবে এঘটনা পত্রিকায় না ছাপানোর জন্য সেনা সদস্য ছাইফুল সংবাদকর্মীকে অনুরোধ জানান। এছাড়া এঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার জন্য বিভিন্ন মহলে দৌড়ঝাঁপ দিয়েছেন ওই সেনা সদস্য ছাইফুল ইসলাম। এঘটনায় চুপড়িয়া ইউপি সদস্য এরশাদ আলি জানান, ওই গৃহবধু মনিরার সাথে দীর্ঘদিন ধরে তার সর্ম্পক ছিল। ছাইফুল তাকে বিয়ে করবে বলে তার স্বামীর বাড়ি থেকে কলারোয়া বাসষ্টান্ডে ডেকে নিয়ে ছাইফুলের বাড়ি নিয়ে আসে। এরপর ছাইফুল ওই গৃহবধুকে তার বাড়িতে আনার পর আমি সহ এলাকাবাসি বিষয়টি জানতে পারি। তবে আমাদের সাথে ছাইফুল বিয়ের কথা অস্বীকার করলে ও সর্ম্পকের কথা স্বীকার করেন। তবে বিয়ের কথা অস্বীকার করায় ওই গৃহবধুর বাড়ির লোকজনের সংবাদ দিয়ে ওই গৃহবধুকে তাদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে।

শ্যামনগরে কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ে বারসিকের সংবাদ সম্মেলন

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে বে-সরকারি গবেষনামুলক প্রতিষ্ঠান বারসিক এ অঞ্চলে তাদের কার্যক্রম নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেছেন। গতকাল রোববার বেলা ১১টায় শ্যামনগর উপজেলা প্রেসক্লাবে ওই সংস্থার দায়িত্বশীল পার্থ সারথী পাল লিখিত বক্তব্যে বলেন, শ্যামনগরে বারসিক লোকায়ত জ্ঞান, প্রাণবেচিত্র্য সংরক্ষণ, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব ও অভিযোজন, প্রাকৃতিক সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা, স্থানীয় প্রাকৃতিক সম্পদে স্থানীয় জনগোষ্ঠির প্রবেশাধিকার, সরকারি-বেসরকারি সেবাদানকারী সংস্থায় সাধারণ মানুষের প্রবেশাধিকার, জেন্ডার সমতাসহ সামগ্রিকভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর স্থায়িত্বশীল উন্নয়নের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছে।
বিশ্বব্যাপি খাদ্য সার্বভৌমত্ব এবং কৃষিবিদ্যার উপর সচেতনতা বৃদ্ধি, সমর্থন গোষ্ঠী এবং গ্রামীন সম্প্রদায়গুলোর কাজগুলো তুলে ধরার লক্ষ্যে বিশ্বব্যাপি প্রচারনার অংশ হিসেবে এবছর ১-১৬ অক্টোবর ১৬ দিনব্যাপি গ্লোবাল একশন অন এগ্রোইকোলজী-২০১৮ উদযাপন করা হবে। উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান বারসিক, যুব সম্প্রদায় এবং পেশাজীবি জনসংগঠনগুলো মিলে শ্যামনগর উপজেলায় একটি ধারাবাহিক কর্মসূচীর আয়োজন করেছে।

সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সাথে বনদস্যু শরীফ বাহিনীর গোলাগুলি: ২টি আগ্নেয়াস্ত্র ও ব্যবহৃত বোট উদ্ধার

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: সুন্দরবনে কোস্টগার্ডের সাথে বনদস্যু শরিফ বাহিনীর ব্যাপক গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। রোববার সকাল ৮টার দিকে সুন্দরবনে টগবগির খাল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। সূত্র মতে গোপন সংবাদ পেয়ে সুন্দরবনে বনদস্যু শরিফ বাহিনীর অবস্থান নিশ্চিত হয়ে কোষ্টগার্ড পশ্চিম জোনের সদস্যদল মংলা ও হারবারিয়া এলকায় যৌথভাবে টগবগির খাল সংলগ্ন এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। কোস্টগার্ডের উপস্থিতি বুঝতে পেরে বনদস্যু শরীফ বাহিনীর সদস্যগন কোস্টগার্ড সদস্যদের উপর গুলি চালায়। আত্মরক্ষার্থে কোস্ট গার্ড সদস্যগণ পাল্টা গুলি চালায়। এসময়ে ডাকাত সদস্যগণ উক্ত স্থান হতে বনের গহীনে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে কোস্টগার্ড সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশী করে উক্ত স্থান হতে ২টি একনলা দেশীয় বন্দুক, ২ রাউন্ড তাজা গুলি, বন্দুকের কার্টিজ ১৪ রাউন্ড এবং ০১ টি কাঠের নৌকা উদ্ধার করে। উদ্ধারকৃত আগ্নেয়াস্ত্র ও মালামাল মোংলা থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। বাংলাদেশ কোস্ট গার্র্ড পশ্চিম জোনের গোয়েন্দা কর্মকর্তা লে. জাহিদ আল হাসান জানান কোস্ট গার্ডের এখতিয়ারভূক্ত এলাকাসমূহে আইন শৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রন ও জননিরাপত্তার পাশাপাশি সুন্দরবনে জলদস্যুতা,বনদস্যুতা ও ডাকাতি দমনে কোস্ট গার্ডের অভিযান অব্যাহত থাকবে।

শ্যামনগরে সরকারি ঘর পাচ্ছে ছিন্নমূল ৪০০ পরিবার

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: একখন্ড জমি আছে কিন্তু মাথা গোজার ঠাঁই নেই। এমন ছিন্নমূল মানুষের কথা বিবেচনা করে সরকার ইউনিয়ন ভিত্তিক তালিকা প্রনয়ন করে ঘর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়ে কাজ শুরু করেছেন। এর বাস্তবিকতায় সরকার ইতোমধ্যে শ্যামনগর উপজেলায় ১২ ইউনিয়নে হতদরিদ্র ৪০০ পরিবারকে ঘর দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ওই প্রকল্পের কাজ এখন শেষ পর্যায়ে। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. কামরুজজামানের তৎপরতায় ঘর নির্মাণের কাজ দেখভাল করা হচ্ছে।
বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ উপজেলা শ্যামনগর। আইলা, সিডরের মত প্রাকৃতিক দূর্যোগের কারণে প্রায় এক দশক ধরে এই উপজেলার উপকূলীয় অঞ্চলে হাজার হাজার মানুষ গৃহহারা হয়ে পড়েছে। অনেকের সামান্য বসতভিটা থাকলেও নেই ঘর। ঘর নির্মাণ করারও সক্ষমতা নেই। এসব বিষয় বিবেচনায় রেখে আওয়ামী লীগ সরকার সারা দেশে দৃশ্যমান উন্নয়নের অংশ হিসেবে বাংলাদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অঞ্চল সাতক্ষীরা জেলার সুন্দরবন ঘেষা শ্যামনগর উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে সরকারি ঘর পাচ্ছে ৪০০ ছিন্নমুল পরিবার। শ্যামনগর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. কামরুজজামান বলেন, ২০১৮/১৯ অর্থ বছরে শ্যামনগর উপজেলায় প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর হতে ৪ কোটি টাকা বরাদ্দে ৪০০ দরিদ্র পরিবারকে ঘর নির্মান করে দেওয়া হচ্ছে। ইতোমধ্যে প্রতিটি ঘরে ১ লক্ষ করে ৪০০ ঘরের ৪ কোটি টাকা বরাদ্দ পাওয়া গেছে। এসকল ঘর নির্মানে আরসিসি খুটি তৈরি সহ ইশপাতের কাঠামো তৈরির কাজ দ্রুত গতিতে চলছে। কি ধরনের ঘর হবে এবং এর উপকার ভোগীর ধরন জানতে চাইলে কামরুজজামান বলেন এটির নাম আশ্রয়ন প্রকল্প দ্বিতীয়। প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরের সাধারন বরাদ্দ। যাদের বসত ভিটা আছে কিন্তু ঘর নাই, সরকারি নির্দেশনা আছে তাদের এই ঘর দিতে হবে। সে অনুযায়ী মাঠ পর্যায় থেকে উপকার ভোগীর তালিকা তৈরি করে কয়েক দফা যাচায় করে তালিকা চুড়ান্ত করা হয়েছে। ঘরের ডিজাইন টিনের ছাউনি, আরসিসি খুটি, টিনের বেড়া ও লোহার ইশপাতের কাঠামো সাথে টয়লেট যুক্ত। শ্যামনগর উপজেলায় ১২ ইউনিয়ন যথাক্রমে ভূরুলিয়া, কাশিমাড়ী, শ্যামনগর সদর, নূরনগর, কৈখালী, রমজাননগর, ঈশ্বরীপুর, মুন্সিগঞ্জ, বুড়িগোয়ালীনি, আটুলিয়া, পদ্মপুকুর ও গাবুরাতে এই ঘর নির্মান করা হবে। জন সংখ্যার আনুপাতিক হার হিসেবে প্রতিটি ইউনিয়নের এই ঘর বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। ঘর নির্মানের জন্য সরকারি নীতিমালায় কোন ঠিকাদার নিয়োগের বিধান না থাকায় উপজেলা প্রশাসনের নিয়ন্ত্রনে নির্মান করা হবে দৃশ্যমান এই ৪০০টি ঘর। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট আসনের এমপি এস,এম জগলুল হায়দার বলেন, বর্তমান সরকার দরিদ্র বান্ধব। সরকার মৌলিক অধিকারের চাহিদা অনুযায়ী হতদরিদ্রদের মাঝে ঘর নির্মান করে দিচ্ছে।

পর্যটকদের চাপ সামাল দিতে আরও চারটি পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে সুন্দরবনে

বাগেরহাট সংবাদদাতা: জীববৈচিত্রের আধার পৃথিবীর বৃহত্তম বন হচ্ছে সুন্দরবন। দেশের মোট বনাঞ্চলের অর্ধেকেরও বেশি এ বন। বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবনের কটকার বাদামতলা সমুদ্রসৈকত থেকে দেখা যায় সূর্যাস্থ ও সূর্যোদয়। রাত-দিন ২৪ ঘণ্টায় ৬ বার রূপ বদলায় সুন্দরবনের।
১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো সুন্দরবনের ৩টি পর্যটন এলাকাকে ৭৯৮তম ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ঘোষণা করে। এরপর থেকে এই ম্যানগ্রোভ বনে প্রতিবছরই দেশি-বিদেশি ইকোট্যুরিস্টদের সংখ্যা উল্লেখযোগ্য হারে বেড়ে চলেছে। আর পর্যটকদের এই ক্রমবর্ধমান চাপ সামাল দিতে নতুন করে আরও ৪টি পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে সুন্দরবনে। এই ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র নির্মাণে বন বিভাগের ব্যয় হবে প্রায় ২৫ কোটি টাকা।
৪টি ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের শরণখোলা রেঞ্জের আলীবান্ধা ও চাঁদপাই রেঞ্জের আন্ধারমানিক এবং খুলনার পশ্চিম সুন্দরবন বিভাগের শেখেরটেক ও কৈলাশগঞ্জে। এতে হরিণ ও কুমিরসহ বন্যপ্রাণির মুক্ত বিচরণ ব্যবস্থার পাশাপাশি ইকোট্যুরিস্টদের সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা থাকছে বলে নিশ্চিত করেছে সুন্দরবন বিভাগ।
বিগত ২০১৬-১৭ অর্থবছরে সুন্দরবন দেখতে আসে দেশি-বিদেশি ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪৯০ প্রতিবেশী পর্যটক। গত অর্থবছরে সুন্দরবনে প্রতিবেশী পর্যটকের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ২১ হাজার ৯৬৯ জন। সুন্দরবনে ক্রমবর্ধমান ইকোট্যুরিজমকে আরো বিকশিত করতে নতুন করে ৪টি পর্যটন কেন্দ্র নির্মাণ করা হচ্ছে।
সুন্দরবন বিভাগ জানায়, সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশের আয়তন হচ্ছে ৬ হাজার ১৭ বর্গ কিলোমিটার। সুন্দরবনের লবণাক্তভোজী প্রধান উদ্ভিদ সুন্দরীসহ রয়েছে ৩৩৪ প্রজাতির গাছপালা, ১৬৫ প্রজাতির শৈবাল ও ১৩ প্রজাতির অর্কিড। সুন্দরবনে ৩৭৫ প্রজাতির বন্যপ্রাণি রয়েছে। এরমধ্যে রয়েল বেঙ্গল টাইগার, চিত্রল ও মায়া হরিণ, বিলুপ্তপ্রায় ইরাবতিসহ ৬ প্রজাতির ডলফিন, লোনা পানির কুমির, কচ্ছপ ও কিং-কোবরাসহ বিভিন্ন প্রজাতির সাপ রয়েছে। রয়েছে ৩১৫ প্রজাতির পাখি। সুন্দরবনের ১ হাজার ৮৭৪ দশমিক ১ বর্গ কিলোমিটার জলভাগের নদ-নদীতে রয়েছে ২১০ প্রজাতির সাদা মাছ, ২৪ প্রজাতির চিংড়ি, ১৪ প্রজাতির কাঁকড়া, ৪৩প্রজাতির মলাস্কা ও ১ প্রজাতির লবস্টার। এসব কারণে সুন্দরবনের প্রতি পর্যটকদের রয়েছে বাড়তি আগ্রহ।
সুন্দরবনের পূর্ব অভয়ারণ্য কটকা-কচিখালী, নীলকমল দক্ষিণ অভয়ারণ্য ও পশ্চিম অভয়ারণ্যের ১ লাখ ৩৯ হাজার ৭০০ হেক্টর বনকে ১৯৯৭ সালের ৬ ডিসেম্বর জাতিসংঘের ইউনেস্কো ৭৯৮তম ওয়ার্ল্ড হ্যারিটেজ সাইড ঘোষণা করে। এরপর থেকে করমজল, হারবাড়ীয়া, কটকা, জামতলা, টাইগার পয়েন্ট, বাদামতলা সমুদ্রসৈকত, কচিখালী, দুবলা শুঁটকি পল্লি, দোবেকী, কলাগাছিয়া, মান্দারবাড়ীয়া, হিরণপয়েন্ট-নীলকমল পর্যটন কেদ্রগুলোতে দেশি-বিদেশি ইকোট্যুরিস্টদের সংখ্যা বাড়তে থাকে।
গত অর্থবছরে শুধু পর্যটন খাত থেকে সুন্দরবন বিভাগের রাজস্ব আয় হয় প্রায় ২ কোটি টাকা। তবে ২৪ কোটি ৯৯ লাখ টাকা ব্যয়ে নতুন এ ৪টি ইকো ট্যুরিজম কেন্দ্র হচ্ছে। নদী থেকে ইকোট্যুরিস্টদের এসব পর্যটন কেন্দ্রে উঠতে আধুনিক গ্যাংওয়ে বা জেটি, সুন্দরবনের প্রাকৃতিক চিরসবুজ রূপ দেখতে ওয়াচ টাওয়ার, পায়ে হাঁটার জন্য পর্যাপ্ত উডেন ট্রেইল ও বিশ্রামাগারসহ আধুনিক ওয়াশ রুম নির্মাণ করা হবে।
বাগেরহাটের পূর্ব সুন্দরবন বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘জলবায়ু পরির্বতনের প্রভাব, ফারাক্কা বাঁধের কারণে উজান থেকে নেমে আসা মিঠা পানির প্রবাহ বন্ধ হয়ে যাওয়া ও মনবসৃষ্ট নানা কারণে সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে। এ অবস্থায় সুন্দরবনের জীববৈচিত্র্যের অধিকতর সুরক্ষা দিয়ে পরিবেশ-প্রতিবেশ বান্ধব পরিকল্পিত ইকোট্যুরিজমে গুরুত্ব দিচ্ছে বন বিভাগ।

ডা. আনিছুর রহমানের ৬ষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা

কুলিয়া (দেবহাটা) প্রতিনিধি: গ্রাম ডাক্তার কল্যান সমিতি সাতক্ষীরা জেলা শাখার সাবেক সভাপতি ডা. আনিছুর রহমানের ৬ষ্ঠ মৃত্যু বার্ষিকি উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুর ১২টায় আলিপুর হাটখোলায় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলিপুর ইউনিয়ন গ্রাম ডাক্তার কল্যান সমিতির সভাপতি ডাঃ আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম, সাধারন সম্পাদক ডা. অহিদুজ্জামান (সাংবাদিক), বিশেষ অতিথি হিসাবে উপস্থিত ছিলেন সিবি হসপিটালের দেবহাটা থানার মার্কেটিং অফিসার ওমর ফারুক মুকুল উক্ত অনুষ্ঠানে ডা. আনিছুর রহমানের মাগফেরাত কামনা করেন এবং সিবি হসপিটালের বিভিন্ন মেশিনারিজ ও কার্যক্রম সম্পর্কে আলোচনা করেন। এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন সহ সভাপতি ডা. আক্তার হোসেন, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ সাত্তার, কার্যকরী সদস্য ডা. সদরুজ্জামান, ডা. আব্দুল মাজেদ, ডা. আব্দুল্লাহ, ডা. অসীত মজুমদার, ডা. আবীর হোসেন, ডা. বিপিন বিহারী, ডা. কামাল হোসেন, ডা. সোহরাব হোসেন প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠানটি পরিচালনায় সহযোগিতা করেন অফসোনিন গ্রুপ বাংলাদেশ।

বঙ্গবন্ধু অনূর্ধ্ব-১৭ গোল্ডকাপ ফুটবল ঝিনাইদহ জেলাকে হারিয়ে খুলনা চ্যাম্পিয়ন

পত্রদূত ডেস্ক: যুব ও ক্রীড়ান্ত্রণালয়ের ক্রীড়া পরিদপ্তরের আয়োজনে ও খুলনা বিভাগীয় প্রশাসনের ব্যাবস্থাপনায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় গোল্ডকাপ ফুটবলের খুলনা বিভাগীয় পর্যায়ে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে স্বাগতিক খুলনা জেলা। গতকাল রবিবার বিকেলে খুলনা জিলা স্কুল মাঠে অনুষ্ঠিত ফাইনালে তারা ২-০ গোলে ঝিনাইদহ জেলাকে পরাজিত করে চ্যাম্পিয়ন হয়।
খেলার শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলতে থাকে খুলনা। আর ৫ মিনিটের মধ্যেই গোলের দেখা পেয়ে যায়। এসময় বাম দিক থেকে আক্রমনে ওঠে খুলনা। মধ্যমাঠের এক খেলোয়াড়ের থেকে বল পেয়ে দলের ৯ নম্বর জার্সি পরিহিত খোলোয়াড় ইয়াসিন গোলমুখে অমিতের কাছে বল দিলে তিনি সর্ট নিতে ব্যার্থ হন। পরবর্তীতে ফিরতি বলে কোনাকুনি শর্টে গোল করেন ইয়াসিন (১-০)। এরপর খেলায় ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে ওঠে ঝিনাইদহ জেলার খেলোয়াড়রা। প্রথমার্ধের বাকিটা সময় বেশ কয়েকটি আক্রমন করে ঝিনাইদহের খেলোয়াড়রা। প্রথমার্ধের শেষদিকে সহজ একটি সুযোগ নস্ট করে খুলনা। গোলরক্ষককে একা পেয়েও বল বাইরে মেরে দেন এক খেলোয়াড়।
এরপর দ্বিতীয়ার্ধে খেলা আরো জমে ওঠে। দুই দলই একের পর এক আক্রমন পাল্টা আক্রমন করতে থাকে। দ্বিতীয়ার্ধের ১০ মিনিটে ঝিনাইদহের একটি দারুন আক্রমন ভুন্ডল করে দেন খুলনার রক্ষণভাগের খেলোয়াড়রা। আক্রমন পাল্টা আক্রমেনর মধ্যে খেলার ৫৮ মিনিটে ব্যাবধান দ্বিগুন করে খুলনা। এ সময় ডানদিক থেকে আক্রমনে যায় তারা। দারুন শর্টে কোনাকুনিভাবে বল জালে জড়িয়ে দেন খুলনার ১০ নম্বর জার্সি পরিহিত খেলোয়াড় অমিত (২-০)। খেলার বাকি সময়ে দুই দলের খেলা কিছুটা ঝিমিয়ে পড়ে। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলে জয় নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয় খুলনা। ফাইনালে সেরা খেলোয়াড় নির্বাচিত হন খুলনার অমিত। আর সেরা গোল রক্ষক নির্বাচিত হন খুলনার আল আমিন।
ফাইনাল খেলা শেষে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) মো. ফারুক হোসেন। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (রাজস্ব) সুবাস চন্দ্র সাহা। সার্বিক তত্বাবধায়নে ছিলেন অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নিশ্চিন্ত কুমার পোদ্দার। মাঠে খেলা পরিচালনার সার্বিক দায়িত্বে ছিলেন খুলনা জেলা ক্রীড়া কর্মকর্তা মো. আলীমুজ্জামান।
উল্লেখ্য, গত ২৬ সেপ্টেম্বর থেকে খুলনা বিভাগের ১০ জেলা ও খুলনা মহানগরসহ মোট ১১টি দল নিয়ে এ টুর্নামেন্ট শুরু হয়। এই টুর্নামেন্ট থেকে বাছাই করা খেলোয়াড়দের নিয়ে খুলনা বিভাগীয় দল গঠন করা হবে। যারা এই টুর্নামেন্টের জাতীয় পর্যায়ে অংশগ্রহন করবে।

আশাশুনির কাদাকাটিতে আটদলীয় ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডের শেষ খেলায় কাশিবাটী ফুটবল দল জয়ী

কুল্যা (আশাশুনি) প্রতিনিধি: আশাশুনি উপজেলার ঐতিহ্যবাহী কাদাকাটি যুব মজলিস ফুটবল মাঠে রবিবার বিকেলে আটদলীয় নক আউট ফুটবল টুর্নামেন্টের প্রথম রাউন্ডের শেষ খেলা অনুষ্ঠিত হয়েছে। কাদাকাটি যুব মজলিসের আয়োজনে খেলায় খুলনা জেলার পাইকগাছা পৌরসভার কাশিবাটী ফুটবল একাদশ ও সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার রাজাপুর অগ্রদূত যুব সংঘ ফুটবল একাদশ পরষ্পরের মুখোমুখি হয়। মনোমুগ্ধকর এই খেলায় প্রথমার্ধে কোন গোল না হলেও দ্বিতীয়ার্ধে ১টি গোল করে দলকে এগিয়ে রাখেন কাশিবাটী ফুটবল একাদশ। তারপর থেকে আক্রমন পাল্টা আক্রমনের মধ্যে দিয়ে খেলা চললেও নির্ধারিত সময়ে আর কোন দল গোল করতে পারেনি। ফলে কাশিবাটী ফুটবল একাদশ ১-০ গোলের ব্যাবধানে রাজাপুর অগ্রদূত যুব সংঘ ফুটবল একাদশকে পরাজিত করে জয়লাভ করে। হাজারও দর্শকের উপস্থিতিতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে আকর্ষনীয় এই খেলাটির উদ্ধোধন করেন কাদাকাটি যুব মজলিস ফুটবল মাঠ ও ক্লাবের জমিদাতা বিশিষ্ট সমাজসেবক একেএম ফজলুল হক। এ সময় কাদাকাটি ইউনিয়ন তরুণলীগের সভাপতি মিজানুর রহমান মন্টু, মেম্বর আবু হাসান বাবু, সমাজসেবক শরিফুল ইসলাম খোকা, কাদাকাটি যুব মজলিস সভাপতি মহাসিন আলী বকুল, সম্পাদক মাশহুরুল হক সাজু, গোলাম রসূল, মিজানুর রহমান সহ এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গ ও কাদাকাটি যুব মজলিসের সকল সদস্যবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। মনোমুগ্ধকর খেলাটি পরিচালনা করেন নাসিরউদ্দীন, শিমুল হোসেন ও আবুল বাশার। দর্শক নন্দিত এই খেলার ধারাভাষ্যে ছিলেন আ. সুবহান, আশরাফ হোসেন ও সবুজ আহমেদ।

শংকরকাটি সততা সংগঠনের বৃক্ষরোপণ অভিযান

কাশিমাড়ী (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: ‘গাছে গাছে সবুজ দেশ, আমার সোনার বাংলাদেশ’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে শ্যামনগর উপজেলার শংকরকাটি সততা সংগঠনের সমাজসেবা বিভাগের আয়োজনে বৃক্ষরোপণ অভিযান-২০১৮ অনুষ্ঠিত হয়েছে। এ উপলক্ষে রোববার দিনব্যাপী উপজেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাট-বাজারে দু’শতাধিক বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়।
এসময় সমাজসেবা বিভাগের সম্পাদক অঞ্জন কুমারের নেতৃত্বে গোবিন্দপুর এএইচ উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, কাঁঠালবাড়ীয়া এজি মাধ্যমিক বিদ্যালয়, শংকরকাটি সুন্নিয়া দাখিল মাদ্রাসা, রহমতপুর নবযুব শিক্ষা সোপান মাধ্যমিক বিদ্যালয়, জয়নগর আমিনিয়া হামিদিয়া ফাজিল (ডিগ্রি) মাদ্রাসা, কাশিমাড়ী আইডিয়াল স্কুল এ্যান্ড কলেজ সহ বিভিন্ন প্রাথমিক বিদ্যালয়েও এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হয়। এসময় অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সততা সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইব্রাহীম খলিল, সহ-সভাপতি আসাদুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক রজনী মন্ডল, সাংগঠনিক সম্পাদক হাফেজ আব্দুল কহহর, অর্থ সম্পাদক মিলন কুমার, শিক্ষা সম্পাদক তানভীর হোসেন, অফিস সম্পাদক রাফিউল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক উজ্জ্বল হোসেন প্রমুখ।
এদিকে একইদিন বিকালে শংকরকাটি বাজার কমিটির সদস্যবৃন্দের মাঝে বৃক্ষরোপণে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষে বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা বিতরণ করা হয়। এসময় উপস্থিত ছিলেন বাজার কমিটির সভাপতি আলমগীর হোসেন ঢালী, সাধারণ সম্পাদক আবুজার সহ অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।