দেবহাটায় ভাইস চেয়ারম্যান খোকনের বিরুদ্ধে গৃহবধু হত্যা মামলার বাদীর নিকট থেকে অর্থ বাণিজ্যের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন!


প্রকাশিত : অক্টোবর ৫, ২০১৮ ||

দেবহাটা সংবাদদাতা: দেবহাটার পারুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের আলোচিত প্রতারকের কবলে গৃহবধু হত্যার মামলার বাদী পক্ষকে সহযোগিতা করার নামে অর্থ হাতিয়ে নিয়ে আসামিদের পক্ষে কাজ করার অভিযোগ উঠেছে। বৃহস্পতিবার বেলা ১২টায় দেবহাটা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে এ অভিযোগ করেন দক্ষিণ পারুলিয়া গ্রামের মৃত আজিবর রহমানের পুত্র সিরাজুল ইসলাম (২৬)। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, গত ২৪ জুলাই তারিখে বেলা ১০টার দিকে আমাদের বাড়িতে ২জন লোক আসে। তারা আমার মাকে বিভিন্ন ভাবে প্রতারিত করে আমাদের বাড়ি থেকে স্বর্ণালঙ্কার, টাকা নিয়ে চলে যায়। আমার মা ঘরে ঢুকে বিষয়টি বুঝতে পারে। সাথে সাথে একটি ভাড়াটিয়া মোটরসাইকেল নিয়ে তাদের পিছু নেয়। তারা আশাশুনি উপজেলার হাজিপুর এলাকায় পৌছালে আমার মা ও মোটরসাইকেল চালক প্রতারকদের গতিরোধে চেষ্টা করলে তারা চলন্ত মোটরসাইকেল থেকে লাথি মেরে আমার মা কে ফেলে দেয়। এতে ঘটনাস্থলে আমার মায়ের অনেক রক্ত ক্ষরণ হয়। আমার মাকে হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনি মারা যান। এঘটনায় আমার ভাই সাইফুল ইসলাম বাদি হয়ে ২৫ জুলাই দেবহাটা থানায় ৩জনকে আসামী করে মামলা দায়ের করে। মামলার ২ আসামীকে পুলিশ আটক করে জেল হাজতে প্রেরণ করে। এরপর থেকে শুরু হয় দেবহাটা উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান মাহবুব আলম খোকনের ব্যবসা। সে এই হত্যার ঘটনায় জড়িত অন্যতম আসামী দিলিপ কুমারের নাম বাদ দিতে মোটা অংকের টাকা নেয়। সে আমার বোন মাজিদা খাতুন খুকি’র কাছ থেকে মামলা চালানো নামে ৫ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। তার সহযোগী রাজুকে দিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করে চলেছে। হত্যার দিন স্থানীয়রা আসামীদের ব্যবহৃত বাজাজ সিটি ১০০সিসি মোটরসাইকেলটি আমাদের জিম্মায় রেখে দেয়। ওই রাতে ভাইস চেয়ারম্যান খোকন সুকৌশলে মোটরসাইকেলটি আমার বাড়ি থেকে নিয়ে চলে যায়। আমরা তার কাছে মোটরসাইকেলের বিষয়ে জানতে চাইলে সে বলে পুলিশের ঝামেলা হবে তাই কুলিয়ায় জালালের বাড়িতে রেখে আসছি। কিছু দিন পরে জানতে পারি যে, ভাইস চেয়ারম্যান খোকন সাতক্ষীরা পুরাতন মোটরসাইকেল হাটে বিক্রি করে দিয়েছে। আমরা খোকনের কাছে মোটরসাইকেল বিক্রয় করার বিষয় জানতে চালে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। এমনকি আমাকে ও আমার ভাইকে মামলায় ফাঁসিয়ে দিয়ে জেল খাটানোর ভয়ভীতি প্রদর্শন করছে। আমার মায়ের হত্যা মামলার আসামীদের জামিনে মুক্ত করে নতুন প্রতারণার কৌশল চালাচ্ছে। বর্তমানে আমি ও আমার পরিবারের সদস্যরা ভয়ে, আতঙ্কে দিনপার করছি। তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে আমরা পুলিশ সুপারসহ উদ্ধতন কর্তপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করছি।