নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে সাতক্ষীরায় মানববন্ধন আজ

সাতক্ষীরায় নাগরিক নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবিতে আজ শনিবার মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। বিশিষ্ট সাংবাদিক, যুদ্ধাপরাধ মামলার সাক্ষী ও নাগরিক আন্দোলন মঞ্চের অন্যতম নেতা হাফিজুর রহমান মাসুমের বাড়ির সামনে গভীর রাতে অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী বাহিনীর আত্মগোপন করে থাকার প্রতিবাদে এবং শহরের নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবিতে আজ সকাল ১০টায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হবে। নাগরিক আন্দোলন মঞ্চ, সাতক্ষীরার আয়োজনে উক্ত মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করার জন্য সংগঠনের পক্ষ থেকে সকলকে অনুরোধ জানানো হয়েছে। উল্লেখ্য, গত ২৮ সেপ্টেম্বর শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার পর সাংবাদিক হাফিজুর রহমান মাসুম ও সাংবাদি মেহেদী আলী সুজয়ের বাড়ির সামনে ১০/১২ জন অস্ত্রধারী ওৎ পেতে ছিল। সাংবাদিক সুজয় বাড়িতে ফিরলে তিনি ওই সন্ত্রাসীদের সামনে পড়ে যান। অজ্ঞাত পরিচয় মুখোশধারীরা তার গলায় ধারালো দা ধরে তাকে ‘টু’ শব্দটি না করে বাড়ির ফিতরে চলে যেতে বলে। তখনও সাংবাদিক হাফিজুর রহমান মাসুম বাড়িতে ফেরেননি। এঘটনায় তিনি ৩০ সেপ্টেম্বর সাতক্ষীরা সদর থানার একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। যার নং ১৫৩৯। এদিকে, শুক্রবার রাতের ঘটনার দুই দিন পর আবারও সাংবাদিক মাসুমের বাড়ির কয়েক শ’ গজ দূরে গভীর রাতে সেখানকার নাইটগার্ড বেল্লালকে আর ডিউটি না করার কথা বলে দা হাতে শাসিয়ে যায় কয়েকজন মুখোশধারী ব্যক্তি। পরপর দুটি ঘটনার কথা জানাজানি হলে শহরবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

উন্নয়ন মেলার দ্বিতীয় দিনে শিক্ষার্থীদের উপচে পড়া ভিড়

এসএম শহীদুল ইসলাম: ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় সাতক্ষীরায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলা-২০১৮। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলা অদম্য বাংলাদেশের এমডিজি বাস্তবায়নের সাফল্য ও এসডিজি অর্জনে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ১০ উদ্যোগের সাফল্য সম্ভাবনার বর্ণিল প্রদর্শনী চলছে মেলার স্টলসমূহে।
সাতক্ষীরা স্টেডিয়ামে ৪ থেকে ৬ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী চলমান এ মেলার দ্বিতীয় দিনে সকাল ১০টায় মেলা প্রাঙ্গণের মূলমঞ্চে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে ‘ডিজিটার বাংলাদেশ বিনির্মাণে শেখ রাসেল ডিজিটাল ল্যাবের ভূমিকা’ শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল তিনটায় ছিল সরকার গৃহীত উন্নয়ন কর্মকান্ডের ওপর বিশেষ প্রদর্শনী। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক শাহ্ আব্দুল সাদী। সদর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা অফিসার মো. জাহিদুর রহমানের সভাপতিত্বে ও পরিচালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন জেলা শিক্ষা অফিসার এসএম আব্দুল্লাহ আল মামুন। এছাড়া অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ল্যাব সহকারী শরিফুল ইসলাম, আলিপুর আদর্শ মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ মিজানুর রহমান, ডিবি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. এমাদুল ইসলাম, বল্লী হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক, সোনার বাংলা হাইস্কুলের প্রধান শিক্ষক আমিনুর রহমান, ডিবি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী জান্নাতুল ফেরদৌস মিম ও তুজুল হাইস্কুলের শিক্ষার্থী মেহেদি হাসান। সেমিনারে সদর উপজেলার দশটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান অংশগ্রহণ করে। প্রতিষ্ঠানগুলো হচ্ছে আলিপুর আদর্শ মহিলা কলেজ, ডিবি মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, এ করিম মাধ্যমিক বালিকা বিদ্যালয়, বল্লী হাইস্কুল, গোবরদাড়ি জোড়দিয়া স্কুল এন্ড কলেজ, সোনার বাংলা হাইস্কুল, তুজুলপুর হাইস্কুল, মির্জানগর আদর্শ মাধ্যমিক বিদ্যালয়, বৈকারি ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ঘোনা ইউনিয়ন মাধ্যমিক বিদ্যালয়।
সন্ধ্যায় ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান। উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আলোকসজ্জাসহ স্থাপন করা হয়েছে বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-২ এর মডেল, সড়ক ও জনপদ বিভাগের উন্নয়ন চিত্র, কৃষি বিভাগের সাফল্য, গণপূর্ত বিভাগের সাফল্য, পাওবোর উন্নয়ন, পুলিশ বিভাগের সেবা-পরিসেবা, মা ও শিশু কেন্দ্রের সেবাসহ বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরা হয়েছে মেলায়।
জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ মেলা প্রাণবন্ত ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। মেলায় আনন্দঘন পরিবেশে সরকারি বেসরকারি দপ্তরসমূহ তাদের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরছে।
আজ ৬ অক্টোবর মেলার শেষ দিন। আজ থাকছে উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রদর্শন ও আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।

কমিউনিটি ক্লিনিকের সিএইচসিপি ও ন্যাশনাল সার্ভিসের কর্মীদের সাথে বাবুর মতবিনিমিয়

নিজস্ব প্রতিনিধি: সদরের স্বাস্থ্য বিভাগ ও কমিউনিটি ক্লিনিকে কর্মরত কমিউনিটি হেলথ কেয়ার প্রভাইডারদের (সিএইচসিপি), এইচআই, এএইচআই ও এমটিইপিআই এবং ন্যাশনাল সার্ভিসের কর্মীদের সাথে মতবিনিময় করেছেন সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাতক্ষীরা-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আসাদুজ্জামান বাবু। শুক্রবার সকাল ১০টায় সদর উপজেলা ডিজিটাল কর্নারে এ মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভায় সভাপতিত্ব করেন, সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও সাতক্ষীরা-২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী আসাদুজ্জামান বাবু। এসময় উপস্থিত ছিলেন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান কহিনুর ইসলাম, সদর উপজেলা সিএইচসিপি এ্যসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আলমগীর হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মো. রবিউল ইসলাম, প্রচার সম্পাদক মো. আমিরুল ইসলাম, সদস্য মুর্শিদা খাতুন, জেসমিন, শারমিন সুলতানা, ছাদিকুর রহমান এবং ন্যাশনাল সার্ভিসের রাজিয়া খাতুন, তানজুরা খাতুন, জান্নাতুল খাতুন, হালিমা খাতুন, জেসমিন আক্তার, সারাবান তাহেরা প্রমুখ।
এ সময় সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে স্বাস্থ্য খাতে ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে। স্বাস্থ্য সেবা গ্রাম পর্যায়ে পৌছে দিতে কমিউনিটি ক্লিনিক চালু করেছেন। এখন আর মানুষ বিনা চিকিৎসায় মারা যায় না। এছাড়া বেকার সমস্যা দূর করতে ন্যাশনাল সার্ভিসের মাধ্যমে শিক্ষিত বেকারদের কর্মস্থানের সুযোগ করে দিয়েছে। দেশের প্রতি ক্ষেত্রে দৃশ্যমাণ উন্নয়ন হয়েছে। তাই এই উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখতে আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে বিজয়ী করতে হবে। এর জন্য সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরই জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদের নির্বাচন

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা জেলা সাংস্কৃতিক পরিষদের সাধারণ সভা জেলা শিল্পকলা একাডেমীতে গতকাল সকাল ১০টায় অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন পরিষদের সভাপতি ও জেলা প্রশাসক মো. ইফতেখার হোসেন।
প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছেন জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ।
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্টেট ও জেলা সাংস্কুতিক পরিষদে নিযুক্ত প্রশাসক অনিন্দিতা রায়ের পরিচালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি নাসিম ফারুক খান মিঠু, দৈনিক দক্ষিণের মশাল সম্পাদক অধ্যক্ষ আশেক-ই-এলাহী, পল্টু বাসার, আবু আফনান রোজ বাবু, শহিদুল ইসলাম, শেখ নিজাম উদ্দিন, এড. শফিকুল ইসলাম খোকন,
হেনরী সরদার প্রমুখ।
সভার সভাপতি জেলা প্রশাসক মো. ইফতেখার হোসেন সাংস্কৃতিক কর্মীদের মধ্যকার বিরাজমান সমস্যা সমাধান করে সকলকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহবান জানান। একই সাথে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই পরিষদের সাধারণ নির্বাচনের তফশিল ঘোষণার কথা জানান। সভায় বিপুল সংখ্যক সাংস্কৃতিক কর্মী ও পরিষদের সদস্য উপস্থিত ছিলেন।

কলারোয়ায় উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে প্রীতি ফুটবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত হয়েছে। ইউএনও’র নেতৃত্বে উপজেলা প্রশাসন একাদশ ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে উপজেলা পরিষদ একাদশ পরষ্পর মোকাবেলা করে। শুক্রবার বিকেলে সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুল ফুটবল মাঠে অনুষ্ঠিত হয়।
খেলার প্রথমার্ধের ৩ মিনিটে উপজেলা পরিষদের হাবিল চেয়ারম্যান ১টি গোল করে দলকে এগিয়ে নেন। এর কিছুক্ষণ পরে একই দলের ইমরান চেয়ারম্যান ১টি গোল করেন। দ্বিতীয়ার্ধে উপজেলা প্রশাসন একাদশের জাহিদ খাঁন চৌধুরি ১টি গোল করে ব্যবধান কমান। তার কিছুক্ষণ পরে প্রশাসন একাদশের আরেক খেলোয়ার ১টি গোল করে দলকে সমতায় আনেন। পরে আর কোন গোল না হওয়ায় ২-২ গোলে ড্র থাকে এবং উভয় দলকে যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা করা হয়।

ফাঁসি রদ করে যাবজ্জীবনের নির্দেশ হাইকোর্টের

কলকাতা প্রতিনিধি: ডাইনি অপবাদে তিন মহিলাকে খুন করার অভিযোগে সাতজনকে ফাঁসির নির্দেশ দিয়েছিল আদালত। এবার সেই সাতজনের ফাঁসির নির্দেশ রদ করে যাবজ্জীবন কারাদ-ের নির্দেশ দিলেন কলকাতা হাইকোর্টের বিচারপতি জয়মাল্য বাগচি এবং মৌসুমি ভট্টাচার্যের ডিভিশন বেঞ্চ। হাইকোর্ট সূত্রে জানা গিয়েছে, পশ্চিম মেদিনীপুরের দুবরাজপুর এলাকার একটি প্রামে পর পর কয়েকজনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। যার জেরে ‘জানগুরু’ নির্দেশ দেয়, গ্রামে ডাইনি রয়েছে। তিন মহিলাকে ডাইনি সন্দেহে চিহ্নিত করা হয়। তাঁরা হলেন ফুলমণি সিং, সম্বারি সিং ও সম্ভারি সিং। ২০১২ সালের ১৬ অক্টোবর গ্রামের মোড়লের বাড়ির সামনে পঞ্চায়েত বসে। সিদ্ধান্ত হয়, ওই তিনজনকে ৬০ হাজার টাকা ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। ওই তিনজন এবং তাঁদের পরিজনরা এই ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ব্যাপারে অক্ষমতার কথা জানালে, তাঁদের কংসাবতী নদীর দিকে টেনে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে মারধর করে খুনের পর ১৭ অক্টোবর নদীর ধারে পুঁতে দেওয়া হয়। এরপর দাসপুর থানায় ৪২ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের হয়। ২০১৬ সালের ১৬ মে মেদিনীপুর আদালত সাতজনকে ফাঁসি, ছ’জনকে যাবজ্জীবন, এবং একজনকে সাত বছর জেলের নির্দেশ দেয়। এরপর একজন বাদে বাকিরা আইনজীবী শেখর বসু এবং শৌভিক মিত্রের মাধ্যমে হাইকোর্টে আবেদন করেন। এদিন ডিভিশন বেঞ্চ দু’জন মহিলাকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছে।

ভবানীপুরে এমপি রবির উটান বৈঠকভবানীপুরে এমপি রবির উটান বৈঠক

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সাফল্য তুলে ধরতে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। শুক্রবার বিকালে সদরের বাঁশদহা ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামে সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড ও সাফল্য তুলে ধরে উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন সদর আসনের সংসদ সদস্য মীর মোস্তাক আহমেদ রবি।
এসময় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন জেলা আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদক শেখ হারুন উর রশিদ, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মো. শহিদুল ইসলাম, নির্বাহী সদস্য অতিরিক্ত পিপি আব্দুল লতিফ, ডা. মুনছুর আহমেদ, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদিকা জ্যোৎ¯œা আরা, জেলা বঙ্গবন্ধু পরিষদের সভাপতি মকসুমুল হাকিম, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি আনছার আলী, যুব নেতা মীর মহিতুল আলম মহি, আগরদাড়ি ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাবিবুর রহমান, শিবপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মো. শওকাত আলী, কুশখালী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি ইউছুফ আলম, যুবলীগ নেতা জিয়াউর বিন সেলিম যাদু, জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সুলেখা দাস, রোখসানা পারভীন, দপ্তর সম্পাদক তহমিনা ইসলাম, সদর উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. ফজলে রাব্বি শাওন, মির্জা নগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা জালাল উদ্দিন, ঘোনা রহমানিয়া দাখিল মাদ্রাসার সুপার মনিরুল ইসলাম ও শিক্ষক কামাল হোসেন প্রমুখ। সমগ্র অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন বাঁশদহা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাস্টার মফিজুর রহমান।

নীরব ঘাতক ক্যান্সার কেড়ে নিল জবি ছাত্র নীরবের প্রাণ

নিজস্ব প্রতিনিধি: অবশেষে সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে নীরব ঘাতক ক্যান্সার কেড়ে নিলো মেধাবী ছাত্র নীরবের প্রাণ। শুক্রবার দুপুরে সাতক্ষীরার বেসরকারি সিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায় এএইচ মোকলেছুর রহমান ওরফে নীরব। তার বয়স হয়েছিল ২৫ বছর। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষ সম্মানের ছাত্র এএইচ মোকলেছুর রহমান নীরব। সাতক্ষীরা শহরের সরকারপাড়ার কাজী এনামুল হকের পুত্র নীরবের পাকস্থলিতে ক্যান্সার ধরা পড়ে বছর দুয়েক আগে। এরপর প্রথমে ঢাকার ডেল্টা, পরে ভারতে চিকিৎসার পর তার অবস্থার কিছুটা উন্নতিও হয়। কিছুদিন আগে সে ফের অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে আবারও চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। সম্প্রতি সাতক্ষীরার ফারজানা ক্লিনিকে চিকিৎসা নিচ্ছিল নীরব। দুদিন আগে তার অবস্থার অবনতি হতে থাকায় তাকে ভর্তি করা হয় সাতক্ষীরার সিবি হাসপাতালে। সেখানে মারা যায় নীরব। বন্ধুদের সার্বিক সহায়তায় চলছিল নীরবের চিকিৎসা। দিনের পর দিন তারা অর্থ সংগ্রহ করে নীরবকে বাঁচিয়ে রাখার সব চেষ্টা চালিয়েও যাচ্ছিল। কিন্তু তাদের সব চেষ্টাকে ব্যর্থ করে দিয়ে চির নিদ্রায় গেল নীরব। এর আগে গত ২৮ সেপ্টেম্বর নিজের ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় নীরব ‘এইটুকু মেসেজ লিখবার জন্য আল্লাহ হয়তো আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছেন। আল্লাহ যেনো আমার জন্য বেহেশত নসিব করেন। দোয়া করবেন’। নীরবের অকাল মৃত্যুতে শোকাহত তার সহগাঠী বন্ধুরা। শোকে মুহ্যমান তার বাবা এনামুল হক, মা জোলেখা পারভিন এবং ভাই বোনসহ সব প্রতিবেশি। জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের হাসানের বন্ধু অরুপ সরকার জানান, মৃত্যুর শেষ কয়েক দিন আগে পর্যন্ত প্রতিদিন ৫ হাজার টাকা করে স্যালাইন ও ঐষধ লেগেছে। সেটিও আমরা বিভিন্নভাবে জোগাড় করছি। হাসান বাঁচতে চেয়েছিলো। আমরাও সর্বাতœক চেষ্টা করেছি। কিন্তু মৃত্যুর কাছে হেরে গেছি আমরা। হাসানকে তত্ত্বাবধানে রাখা ডাক্তার খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সহকারি অধ্যাপক ডা. মো. মনোয়ার হোসেন বলেন, হাসানকে প্রথমদিকে অপারেশনের কথা বলেছিলাম কিন্তু রাজি হয়নি। পরবর্তীতে ক্যামোথেরাপি দেওয়া হয়। লিভার একেবারে নষ্ট হয়ে গিয়েছিলো। যা চিকিৎসাসেবার আওতার বাইরে চলে যায়। তার পরিবারকে আগেই সব জানানো হয়েছিলো। শহরের কোর্ট মসজিদে জানাজা শেষে নীরবকে দাফন করা হয়েছে রসুলপুর সরকারি গোরস্থানে।

প্রতিবন্ধীরা বোঝা নয়, তাদেরও আছে স্বপ্ন পূরণের অধিকার: এমপি রুহুল হক

দেবহাটা ব্যুরো: বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের উপদেষ্টা মন্ডলীর অন্যতম সদস্য, সাবেক সফল স্বাস্থ্যমন্ত্রী, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সাংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও সাতক্ষীরা-৩ আসনের সাংসদ অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক এমপি বলেছেন, শারিরীক অক্ষমতার জন্য প্রতিবন্ধীরা কখনও পরিবার, জাতি তথা দেশের বোঝা হতে পারেনা। কোন শিশুই তার প্রতিবন্ধীকতার জন্য নিজে দায়ী নয়। প্রত্যেকটি সাধারণ মানুষের মতো তাদেরও রয়েছে স্বপ্ন। রয়েছে সেই স্বপ্ন পূরণের অধিকার। প্রতিবন্ধীদেরকে বোঝা না ভেবে বরং তাদের সেই স্বপ্ন পূরণে সহযোগিতা ও সহমর্মিতা দেখিয়ে পাশে থাকলে প্রতিবন্ধীরাও জীবনে বড় কিছু করে দেশের সম্পদে পরিণত হতে পারে। বর্তমান সরকার প্রতিবন্ধীদের উন্নয়ন শিক্ষাসহ অন্যান্য ভাতা প্রদানের পাশাপাশি প্রয়োজনীয় যাবতীয় সুযোগ সুবিধা, জীবনযাত্রা সহজকরনে দরকারী বিভিন্ন সামগ্রী দেয়ার পাশাপাশি প্রতিবন্ধীদের অস্বচ্ছল পরিবারের স্বচ্ছলতা ফেরাতে নানা প্রকল্প বাস্তবায়ন করে যাচ্ছে। আর তাই প্রতিবন্ধীদের পাশে থাকার জন্যও তাদের পরিবারের সদস্যসহ সমাজের সর্বস্তরের মানুষের প্রতিও আহব্বান জানান তিনি। শুক্রবার দেবহাটার হাদিপুরে নিউরো-ডেভেলমেপমেন্টাল প্রতিবন্ধী সুরক্ষা আইন-২০১৩ এর বাস্তবায়নের অগ্রগতি বিষয়ে অভিভাবকদের সাথে মত-বিনিময় শীর্ষক এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যকালে তিনি এসব কথা বলেন। ডিজএ্যাবল্ড রিহ্যাবিলিটেশন এ্যান্ড রিসার্চ এ্যাসোসিয়েশন (ডিআরআরএ)’র আয়োজনে এবং লিলিয়ানা ফন্ডস এর সহযোগীতায় অনুষ্ঠিত উক্ত সভায় সমাজ কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব শুশান্ত কুমার পারমানিক,ডিআরআরএ এর নির্বাহী পরিচালক ফরিদা ইয়াসমিন,উপজেলা আওয়ামীলীগের সভাপতি মুজিবর রহমান,দেবহাটা প্রেসক্লাবের সভাপতি আব্দুল ওহাব,সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হাসান শাওনসহ অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন।

কর্মসংস্থানের অভাবে জেলায় মৌসুমি বেকারত্বের সংখ্যা বাড়ছে

পত্রদূত রিপোর্ট: জেলায় বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। চলতি আশ্বিন-কার্তিক মৌসুমে কাজ না পেয়ে শত শত শ্রমিক বেকার বসে আছে। পরিবেশ বিপর্যয়, ধানের পরিবর্তে চিংড়ি চাষ, কল-কারখানা গড়ে না উঠা, আন্তজার্তিক শ্রম বাজারে মন্দাভাব ও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে না পারায় বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো বলছে বিগত এক বছরে দেশে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ১ দশমিক ৮ ভাগ। অন্য দিকে, শ্রমশক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে ২ দশমিক ৩ ভাগ। এক বছরে মোট ১৬ লাখ নতুন শ্রমশক্তি যোগ হয়েছে। কর্মস্থানের সুযোগ সৃষ্টি না হওয়াতে উপকুলীয় জেলাটি দিন দিন বেকার শ্রমিকের সংখ্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। মাসের ১৫ দিনই কাজ না পেয়ে দারুণ কষ্টে দিনাতিপাত করছেন অনেকে। কর্মসংস্থানের অভাবে অনেক শ্রমিক এখন মানবেতর জীবন যাপন করছে। আগামি দু’মাসও তেমন কাজ হবে না বলে শ্রমিকরা দুচিন্তায়। কয়েক জন শ্রমিকের সাথে কথা বলে এমন তথ্য উঠে এসেছে। হিসেব মতে জেলার ২২ লক্ষ মানুষের মধ্যে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার পাঁচ লক্ষাধীক মৌসুমি বেকার রয়েছে। এদেরকে কর্মসংস্থানের আওয়তায় আনতে পারলে জেলার অবস্থা পাল্টে যাবে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা।
মতলেব গাজী শহরের সুলতানপুর এলাকায় বসবাস করেন। ৪০ বছর ধরে তিনি শ্রম বিক্রি করে সংসার চালান। বর্তমানে তার বয়স ৭০ বছর। বয়সেরভারে ও তিনি স্বাচ্ছন্দে শ্রমের মাধ্যমে প্রতি দিন ২ থেকে ৩শ’ টাকা উপার্জন করে সংসার চালান। কিন্তু শহরে শ্রমিকের চাহিদা কম থাকায় বর্তমানে মাসের ১৫ দিনই বেকার হয়ে তাকে বসে থাকতে হয়।
কথা হয় আশাশুনির বুধহাটা গ্রামের ওজিয়ার রহমানের সাথে। এলাকাতে কাজ না পেয়ে শহরের সুলতানপুরে সরকারি জমিতে তার বসবাস। ৩৫ বছর ধরে তিনি শ্রমিক হিসেবে শ্রম দিয়ে অর্থ উপার্জন করেন। তারও অভিযোগ মাসের বেশির ভাগ সময়ে কাজ না পেয়ে বসে থাকতে হয়।
শ্যামনগর কৈখালি এলাকা থেকে কাজের সন্ধানে সাতক্ষীরা শহরে এসেছেন আবু সাইদ (৫০)। বর্তমানে তিনি শহরের কামালনগরে থাকেন। সদরের ধুলিহর গ্রামের পরিতোষ (৫০), আশাশুনির শোভানালি এলাকার কামরুল ইসলাম, শ্যামনগরের পরানপুর গ্রামের হাবিবুর থাকে শহরের পলাশপুল এলাকায়। এরা সকলেই শহরের পাকাপুলের মোড়ে প্রতিদিন সকালে ঝুড়ি কোদাল নিয়ে শ্রম বিক্রি করতে আসেন। কথা হয় তাদের সাথে। একটাই দাবি তাদের, কাজ চাই। কাজ না পেলে সংসার চালাবো কি করে। আগের মত এখন আর কাজ হয় না। এমন অবস্থা জেলার অনেকেরই। সংশ্লিষ্টরা বলছে ধান উঠতে শুরু করলে মান্দা কেটে যাবে। তখন শ্রমিক সংকট দেখা দেবে।
অর্থনীতির নানা সূচকে বাংলাদেশ চোখে পড়ার মতো সাফল্য দেখালেও বেকারত্বের সংখ্যা বৃদ্ধি তা নিষ্প্রভ করে দিচ্ছে। প্রতি বছর জেলাতে যে পরিমাণ শ্রমশক্তি যুক্ত হচ্ছে কর্মসংস্থানের বাজারে তাদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশকে বেকার থাকতে হচ্ছে। দেশে বেকারের সংখ্যা এখন ২৬ লাখ ৮০ হাজার। যা মোট জনসংখ্যার দেড় শতাংশেরও বেশি। বাংলাদেশের মোট বেকার সংখ্যা দুনিয়ার বহু দেশের জনসংখ্যার চেয়ে বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর শ্রমশক্তি জরিপে বেকারত্ব বৃদ্ধির জানান দিয়ে বলা হয়েছে, ২০১৬-১৭ অর্থবছরে দেশে ১৪ লাখ শ্রমশক্তি যুক্ত হয়েছে। কিন্তু এ সময় দেশের অভ্যন্তরে নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ১৩ লাখ। ফলে এক বছরেই প্রায় এক লাখ বেকার বেড়েছে। সব মিলিয়ে দেশে বেকার সংখ্যা ২৬ লাখ ৮০ হাজার। বেকারত্বের হার বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, দেশে উচ্চশিক্ষিতদের মধ্যে বেকারের হার বাড়ছে। ২০১৫-১৬ অর্থবছরে তরুণ বেকারদের মধ্যে উচ্চ শিক্ষিতের হার ছিল ১২ দশমিক ১১ ভাগ। ২০১৬-১৭ অর্থবছর এই হার দাঁড়িয়েছে ১৩ দশমিক ৪ ভাগে। সংখ্যার হিসাবে ৩ লাখ ৯০ হাজার তরুণ উচ্চশিক্ষিত বেকার রয়েছে যাদের বয়স ৩০ বছরের নিচে। তাদের মধ্যে ১১ দশমিক ২ ভাগ ২ বছরের বেশি সময় ধরে বেকার রয়েছেন। প্রকৃত বেকারের সংখ্যা আরও বিশাল। দেশে উচ্চশিক্ষার হার দ্রুত বাড়লেও সে হারে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি না পাওয়ায় সংকট সৃষ্টি হচ্ছে।
এশিয়ার প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বেকারত্বের হার বাংলাদেশেই বেশি। ২০১০ সালের পর থেকে প্রতিবেশী দেশ শ্রীলঙ্কা ও ভুটান এ হার কমিয়ে এনেছে। ভারতে স্থিতিশীল রয়েছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) সম্প্রতি প্রকাশিত ‘ওয়ার্ল্ড এমপ্লয়মেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল আউটলুক-২০১৮’ শীর্ষক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। এতে বিশ্বজুড়ে বেকারত্ব ও কর্মসংস্থানের অবস্থা এবং পূর্বাভাস তুলে ধরা হয়।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৩ সাল থেকে গত বছর পর্যন্ত বাংলাদেশের বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ৪ শতাংশ। চলতি কিংবা আগামী বছরেও হারটি কমবে না। দক্ষিণ এশিয়ার আটটি দেশের মধ্যে বেকারের সর্বোচ্চ হারের দিক থেকে বাংলাদেশ তৃতীয় অবস্থানে।
আইএলওর প্রতিবেদন বলছে, ২০১৭ সালে বৈশ্বিক বেকারত্বের হার ছিল ৫ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি বছর বেকারত্বের হার কমে সাড়ে ৫ শতাংশ হতে পারে। তবে কর্মবাজারে কাজ খুঁজতে আসা মানুষের সংখ্যা বাড়বে। ফলে সংখ্যার দিক দিয়ে বেকারত্বের হার গত বছরের চেয়ে বেশি হবে। ২০১৯ সালেও বেকারত্বের হার কমবে।
এদিকে সাতক্ষীরা জেলাতে বেকারত্ব কমানে সরকার নানামুখি উদ্যোগের কথা বলছে। বেকার যুবক ও যুব মহিলাদের কর্মসংস্থান তৈরীর লক্ষ্যে সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করা হয়েছে।
সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র বিনেরপোতা, সাতক্ষীরার অধ্যক্ষ মো. মুছাব্বেরুজ্জামান জানান, বেকার নারী, পুরুষ ও যুবক যুবতীদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সরকার কর্মসংস্থান সৃষ্টিাতে কাজ করে যাচ্ছে। আশা করছি সাতক্ষীরা কারিগরি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের সকল কার্যক্রম পরিচালিত করতে পারলে বেকারত্ব অনেকাংশ হ্রাস পাবে।
সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন জানান, সাতক্ষীরা জেলায় বেকারত্ব কমানে সরকার নানামুখি উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যুবউন্নয়ন, সমাজসেবা, ন্যাশনাল সার্ভিসসহ বিভিন্ন বিষয়ে সরকার উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এছাড়া আরো বেকার জনবল স্বাবলম্বী করতে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।

আলিপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হয়রানির অভিযোগ

আলিপুর প্রতিনিধি: সদর উপজেলার আলীপুর ইউনিয়ন ভূমি অফিসের এমএলএসএস সাইদুর রহমান ও মাহমুদুল্লার বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও ভূমি মালিকদের হয়রানি করে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। এব্যাপারে জেলা প্রশাসকের নিকট একটি অভিযোগ করেছেন আলিপুর গ্রামে মৃত কায়কোবাদের পুত্র মো. আব্দুস সামাদ।
লিখিত অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আলিপুর ভূমি অফিস থেকে চেক দাখিলা কাটাসহ নামপত্তনের বিষয়ে তহশীল অফিসে গেলে তহশীলদারের নিকট যেতে চাইলে উক্ত দুইজন কর্মচারীর নিকট থেকে পরামর্শ নিতে হয় অন্যথায় যে অথিক টাকা দাবী করে। প্রতি নামপত্তরের জন্য দশ হাজার টাকা করে দাবী করে তারা। এছাড়া খাজনা বিলম্বে কাটতে গেলে তারা বলে যে, জমি নিলামের আদেশ হয়েছে, নিলামের রদ কাটতে গেলে অধিক টাকা লাগবে। কোন প্রকার ছোট খাট কাজে গেলে তারা বিভিন্ন অনুহাতে এলাকার গরীব স্বল্প ভূমি মালিকদের নিকট থেকে অর্থ দাবী করে। আর দাবীকৃত অর্থ না পেলে ভোগান্তি পেতে হয়। অনেকেই বাড়ির গরু, ছাগল বিক্রি করে এই দুই পিয়নের হাত থেকে কাজ আদায় করেন। এমর্মে একাধিক বার তহশীলদারের নিকট অভিযোগ করা হলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়নি। এরই প্রেক্ষিতে গত ৩ অক্টোবর সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকের নিকট আলিপুর ভূমি অফিসের পিয়ন সাইদ ও মাহমুদুল্লাহর নিকট একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। লিখিত অভিযোগটি জেলা প্রশাসকের ইসেবা তথ্যের ফেরদৌসী গ্রহন করেন। এলাকার সকল স্তরের ভূমি মালিকদের দাবী যাতে এহেন দুর্নীতির বিরুদ্ধে তদন্তপূর্বক সঠিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়।

শ্যামনগরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও এমপি জগলুল হায়দারের ছবি ছেড়ার ঘটনায় থানায় জিডি

শ্যামনগর (সদর) প্রতিনিধি: শ্যামনগরে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাতক্ষীরা-৪ সংসদীয় আসনের এমপি জগলুল হায়দারের ছবি ছেড়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্যামনগর থানায় জিডি হয়েছে। শুক্রবার মুন্সিগঞ্জ ইউনিয়ণ আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সিরাজুল ইসলাম শ্যামনগর থানায় ২২২নং জিডি করে। জিডি সূত্র মতে গত ৪অক্টোবর বিকালে মুন্সিগঞ্জ কলেজ মাঠে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন মূলক কর্মকান্ড নিয়ে এক জনসভা করেন এমপি জগলুল হায়দার। উক্ত সভাকে কেন্দ্র করে মুনসুর সরদার গ্যারেজ সংলগ্ন স্থানে বিশাল তোরণ নির্মাণ করা হয়। ওই তোরণে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এমপি জগলুল হায়দারের ছবি সন্নিবেশিত করা হয়। কিন্তু সভাশেষে গতকাল শুক্রবার রাতে পরিকল্পতি ভাবে ছবি দুইটি ছিড়ে ফেলা হয়। এ বিষয়ে শ্যামনগর থানার ওসি ইলিয়াস হোসেন বলেন, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উন্নয়ন মেলার দ্বিতীয় দিনেও মিলছে বিভিন্ন দপ্তরের সেবা

 

পত্রদূত ডেস্ক: খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে জেলা প্রশাসন আয়োজিত চতুর্থ জাতীয় উন্নয়ন মেলার দ্বিতীয় দিনেও মিলছে বিভিন্ন দপ্তরের সেবা। ১৫৬টি স্টলে ভীড় করছে উৎসাহী মানুষ।
ইসলামিক ফাউন্ডেশনের স্টলে থাকছে পঁচিশ শতাংশ ছাড়ে বই কেনার সুযোগ। কারাবন্দিদের তৈরি করা চমৎকার পণ্য সম্ভার নিয়ে সাজানো হয়েছে জেলা কারাগারের স্টল। স্বাস্থ্য বিভাগের স্টলে পাওয়া যাবে রক্তচাপ নির্ণয়, রক্তের গ্রুপ পরীক্ষা ও রক্তের সুগার পরীক্ষার সুযোগ। প্রাথমিক শিক্ষা সমাপণী পরীক্ষার্থীরা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের স্টলে এসে সমাপনী পরীক্ষার রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করতে পারবে। সাথে থাকছে উপবৃত্তি সংক্রান্ত সকল সেবা। খাদ্য ব্যবসায়ীরা চাইলে জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রণ অফিসের স্টল হতে লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন করতে পারবে। কর্মী হিসেবে বিদেশে গমনেচ্ছুকরা সহজে রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রম সম্পাদন করতে পারবে জনশক্তি অফিসের স্টল হতে।
জেলা সমবায় দপ্তর সমবায় সমিতির সদস্যদের উৎপাদিত পণ্য নিয়ে তাদের স্টল সাজিয়েছে। এর সাথে থাকছে মিল্কভিটার পণ্য প্রদর্শন ও সবার জন্য সলিড মধু ক্রয়ের সুযোগ। ব্যবসায়ীরা সরকারকে ভ্যাট প্রদান করতে মেলা প্রাঙ্গণে কাস্টমস এর স্টলে এসে গ্রহণ করতে পারেন বিজনেস আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (বিআইএন)। মেলায় অনলাইন ও অফলাইন ভূমি সেবার মধ্যে থাকছে ই-মিউটেশন, ই-ভিপি-নবায়ন, ই-পর্চা, ভূমি উন্নয়ন কর প্রদানের সুযোগ। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের মাঝে নিরাপদ পানি সরবরাহ করছে খুলনা ওয়াসা ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল দপ্তর। মেলায় সঞ্চয়পত্র ক্রয়ের ফরম পূরণ ও জমাদানের সুযোগ রেখেছে জেলা সঞ্চয় অফিস। মেলায় আগত দর্শনার্থীদের জন্য জেলা প্রশাসন স্থাপন করেছে শিশু কর্ণার ও সিনিয়র সিটিজেন কর্ণার। এছাড়া বেসরকারি সংস্থার স্টলসমূহ তাদের আকর্ষণীয় পণ্য ও বর্ণিল উপস্থাপনা নিয়ে মেলায় হাজির হয়েছে।

কেএম মোশাররফ হোসেনের জ্যেষ্ঠ কন্যা সাফিয়া পারভীনের কর্মী সমাবেশ

কৃষ্ণনগর, (কালিগঞ্জ) প্রতিনিধি: শুক্রবার বিকালে কালিগঞ্জ উপজেলার ১নং কৃষ্ণনগর ইউনিয়ন পরিষদের উপ-নির্বাচনের জন্য প্রার্থী হিসেবে কর্মী সমাবেশ করেন প্রয়াত চেয়ারম্যান কেএম মোশাররফ হোসেনের জ্যেষ্ঠ কন্যা সাফিয়া পারভীন। এসময় তিনি তার পিতার অসমাপ্ত কাজগুলো এবং ইউনিয়নকে সন্ত্রাসমুক্ত করার লক্ষ্যে উপ-নির্বাচনের প্রার্থীতা ঘোষণা দেন এবং পিতার সাথে যেভাবে কর্মীরা সহযোগিতা করেছিলেন সেভাবে তাদের কাছে সহযোগিতা কামনা করেন। কর্মী সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন মো. আব্দুর রহমান মোল্যা (ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান), আলী বক্স গাইন, শহিদুল ইসলাম, মাও. রওশন কাগুচী, নজরুল ইসলাম, জবেদ আলী, মোমতাজুল ইসলাম, শফিকুল ইসলাম, আফছার আলী, সংরক্ষিত মহিলা সদস্যা রাশেদা খলিল, শ্যামলী রানী বাপ্পী, ফরিদা পারভীন, মুজিবার রহমান, ডা. মাও. আইয়ুব হোসেন প্রমুখ।

উৎসাহ উদ্দীপনামুখর উন্নয়ন মেলার দ্বিতীয় দিন

পত্রদূত ডেস্ক: বিপুল জনসমাগম ও ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনা নিয়ে খুলনায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে চতুর্থ জাতীয় উন্নয় মেলা-২০১৮। উন্নয়ন অগ্রযাত্রায় এগিয়ে চলা অদম্য বাংলাদেশের এমডিজি বাস্তবায়নের সাফল্য ও এসডিজি অর্জনে গৃহীত পদক্ষেপসমূহের সাথে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ ১০ উদ্যোগের সাফল্য সম্ভাবনার বর্নিল প্রদর্শনী চলছে মেলার স্টলসমূহে।
খুলনা সার্কিট হাউজ মাঠে ৪ থেকে ৬ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী চলমান এ মেলার দ্বিতীয় দিন সকাল ১০টায় মেলা প্রাঙ্গণের মূল মঞ্চে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রীদের অংশগ্রহণে রিয়েলিটি শো, রচনা ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। বিকেল তিনটায় ছিল সরকার গৃহীত উন্নয়ন কর্মকান্ডের ওপর বিশেষ প্রদর্শনী। বিকেল চারটায় অনুষ্ঠিত হয় ‘শিক্ষিত জাতি সমৃদ্ধ দেশ শেখ হাসিনার বাংলাদেশ’ শীর্ষক সেমিনার। সেমিনারে প্রধান অতিথি ছিলেন খুলনার অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (উন্নয়ন) নিশ্চিত কুমার পোদ্দার। প্রধান আলোচক ছিলেন খুলনা উন্নয়ন কতৃপক্ষের চেয়ারম্যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল এএসএম মাহমুদ হাসান। সেমিনারে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ ফায়েক উজ্জামান। এতে সভাপতিত্ব করেন খুলনা জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হেলাল হোসেন। সন্ধ্যায় ছিল বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতি অনুষ্ঠান। উন্নয়ন মেলা উপলক্ষে নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে আলোকসজ্জাসহ স্থাপন করা হয়েছে এগিয়ে চলা বাংলাদেশের উন্নয়ন বর্ণনা সম্বলিত ব্যানার।
খুলনা জেলা প্রশাসন আয়োজিত এ মেলা প্রণবন্ত ও কার্যকর মাধ্যম হিসেবে জনসাধারণের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। এর মাধ্যমে দেশে চলমান সার্বিক উন্নয়ন প্রকল্প, শেখ হাসিনার বিশেষ ১০ উদ্যোগ ও দেশে বিদেশে এ সকল কার্যক্রমের স্বীকৃতি, পদ্মাসেতু, মেট্রোরেল, এক্সপ্রেসওয়ে, রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ন্যায় মেগা প্রকল্প সমূহ সম্পর্কে সাধারণ মানুষ জানার সুযোগ পাচ্ছে। মেলায় আনন্দঘন পরিবেশে সরকারি বেসরকারি দপ্তরসমূহ তাদের উন্নয়ন ভাবনা তুলে ধরছে। তাৎক্ষণিক সেবা প্রদান, মানুষের অভিযোগ ও তার ত্বরিত সমাধানের মাধ্যমে অংশীজনের আস্থার জায়গাটি আরও দৃঢ় হচ্ছে।
আগামীকাল ৬ অক্টোবর মেলার শেষ দিনের আয়োজনে থাকছে সকাল ১০টায় উন্নয়ন কর্মকান্ড প্রদর্শন ও বিকেল সাড়ে চারটায় আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। সমাপনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান।