বহেরায় জেএসসি পরীক্ষার্থী আফরোজার উপর মাদক ব্যবসায়ীর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার কুলিয়া ইউনিয়নের বহেরা এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থী আফরোজা খাতুন (১৫) এর উপর স্থানীয় মাদক ব্যবসায়ীর হামলার প্রতিবাদে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। স্কুল ম্যানেজিং কমিটির উদ্যোগে রোববার সকাল ৯টায় বহেরা এটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে অনুষ্ঠিত মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন, প্রধান শিক্ষক এমাদুল হক, সহকারী শিক্ষক জাহাঙ্গীর কবির, স্কুল ম্যানেজিং কমিটির বিদ্যোৎসাহী সদস্য ডা. শোকর আলী। উপস্থিত ছিলেন বিদ্যালয়ের সকল সহকারী শিক্ষকবৃন্দ, অভিভাবক সদস্য নুরে আযম, সাংবাদিক অহিদুজ্জামান, রমজান মোড়ল, বহেরা রয়েল ক্লাবের সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম বাবু, শহীদুল ইসলাম শাহাজী, মোজাফ্ফর হোসেন খোকন প্রমুখ। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, গত পয়লা অক্টোবর বিদ্যালয়ের জেএসসি পরীক্ষার্থী আফরোজা খাতুনের উপর তারই আপন চাচা কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী আব্দুল ওহাব হামলা করে। সে বর্তমানে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছে। ফলে সে টেস্ট পরীক্ষা দিতে পারছেনা এবং তার এসএসসি পরীক্ষায় অংশগ্রহণ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। তাই এই ঘটনায় মাদক ব্যবসায়ী বহেরা গ্রামের আলী জব্বারের ছেলে আব্দুল ওহাবকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার পূর্বক দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। এছাড়া বক্তারা আরো বলেন, হামলাকারী যে কেউ হোক, যদি কোন ছাত্র-ছাত্রীর উপর হামলা হয় আমরা অভিভাবকরা ঘরে বসে থাকবো না। তাদের সামাজিকভাবে সতর্কবার্তা দিচ্ছি। আর যেনো ভবিষ্যতে কোন শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার কোন প্রকার ক্ষতি না হয়।

এব্যাপারে আফরোজা পারভীনের পিতা আইয়ুব আলি বাদী হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে গত ০৬-১০-২০১৮ তারিখে দেবহাটা থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে।

কালিগঞ্জের যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্যদের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের রতনপুরে শিশুবলাৎকারকারী কর্তৃক স্থানীয় যুবলীগ নেতা ও ইউপি সদস্যদের নামে অপপ্রচারের প্রতিবাদে সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। রবিবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলনে করেন, কালিগঞ্জের রতনপুর ইউনিয়ন যুবলীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য সেলিম আহমেদ এবং রতনপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাত হোসেন। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে সেলিম আহমেদ বলেন, গত ৩০ সেপ্টেম্বর কালিগঞ্জের রতনপুর ইউপির ৪নং ওয়ার্ড সদস্য মাসুম বিলাহ সুজনের বিরুদ্ধে পীরগাজন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীকে বলাৎকারের অভিযোগে পত্রপত্রিকায় একটি সংবাদ পরিবেশিত হয়। ওই বলাৎকারের সাথে সুজনের সরাসরি সম্পৃকতার অভিযোগের সকল প্রমান সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের হাতে ইতোমধ্যে এসে পৌছেছে। সুজন মেম্বর এই প্রথমবারই না ইতোপূর্বে একাধিকবার শিশু বলাৎকারের মত জঘণ্য কাজ করলেও প্রভাবখাটিয়ে পার পেয়ে যান। এছাড়া স্থানীয় পীরগাজন দীঘিরপাড় জামে মসজিদের ৩৩ শতক ও দক্ষিন মলেঙ্গা মসজিদের সাড়ে ১৬শতক জমি প্রভাবখাটিয়ে ভোগদখল করছে। অথচ ওই সম্পত্তি আব্দুল মজিদ ২০ বছর নিকণ্ঠকভাবে ভোগদখলের পর তিনি স্বেচ্ছায় ওই মসজিদের নামে দান করেন। ওই সুজন এতই নিকৃষ্ট যে ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে মসজিদের জমিও দখল করে রেখেছে। তাছাড়া এলাকার শিক্ষিক-বেকার যুবক-যুবতীদের চাকরি দেওয়ার নাম করে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়ে আত্মসাথ করেছে। সে জামায়াতের সাথে সম্পৃক্ত। তার নামে কালিগঞ্জ থানায় দুটি নাশকতা মামলাও রয়েছে। যার একটি মামলা নং- ৮৬/১২ জিআর, (কালি:)। এসব বিষয়ে এলাকার মানুষ প্রতিবাদ করতে গেলে তাদের মিথ্যা মামলার ভয়দেখিয়ে দমিয়ে রাখে। সম্প্রতি কাটুনিয়া গ্রামের আব্দুলাহর পুত্র তরিকুল কে বলাৎকার করলে কালিগঞ্জ থানা এবং সাংবাদিকদের কাছে ন্যায় বিচারের স্বার্থে অভিযোগ করেন। অভিযোগের পর ওই জঘন্য ঘটনা থেকে বাঁচতে সুজন ভিকটিমের পরিবারের সদস্যদের নাশকতা মামলায় ফাঁসিয়ে হয়রানিসহ বিভিন্ন হুমকি প্রদর্শন করছে। সে নিজেকে রক্ষা করতে ৩ অক্টোবর’১৮ তারিখে আমাদের কে মাদকব্যবসায়ীসহ বিভিন্ন বিতর্কিত মন্তব্য করে একটি সংবাদ সম্মেলন করে। আমি এলাকার মানুষের ভালোবাসায় প্রথমবার ইউপি সদস্যপদে নির্বাচন করে বিপুল ভোটে বিজয়ী হয়েছি এবং সাজ্জাত হোসেন দীর্ঘদিন ধরে রতনপুর ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হিসাবে সুনামের সাথে দায়িত্ব পালন করে আসছে। শুধু মাত্র ওই কথিত যুবলীগ নেতা পরিচয়দানকারী সুজনের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ায় সে আমাদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মিথ্যা অপপ্রচার চালিয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সুরত আলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সদস্য হওয়ার সুবাধে সে যখন তখন ওই বিদ্যালয়ে ঢুকে শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সাথে খারাপ আচারণ করে। এবিষয়ে প্রতিবাদ করলে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয় থেকে বের করে দেওয়া এবং শিক্ষকদের বিভিন্নভাবে লাঞ্চিতের ঘটনা তার নৈত্ত নৈমিত্তিক ব্যাপার। এব্যাপারে আমরা ওই লম্পট, প্রতারক সুজন কর্তৃক মিথ্যা অপপ্রচারের তীব্র প্রতিবাদ জানাচ্ছি এবং ওই লম্পট সুজনের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তির দাবিতে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপারসহ সংশিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে নৌকা নিয়ে এমপি হতে চান নজরুল

 

পত্রদূত রিপোর্ট: জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে চান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা পাওয়ার জন্য তিনি এবার কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। প্রতিদিন সমর্থক নেতাকর্মীদের নিয়ে সাতক্ষীরা সদর আসনের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন গণসংযোগে। তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীরা যেভাবে আমাকে সমর্থন দিচ্ছে, তাতে আমি শতভাগ নিশ্চিত সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে আমিই দলীয় মনোনয়ন পাব।

নজরুল ইসলাম ১৯৭১ সালে সাতক্ষীরা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমনরুম সম্পাদক ছিলেন। সেই থেকে মূলত তার রাজনীতি শুরু। ১৯৭৩ সালে বিএসসি পাস করে পেশা হিসেবে বেছে নেন শিক্ষকতা। এরপর সাতক্ষীরা সদরের গাভা হাইস্কুল, তালার সরুলিয়া হাইস্কুল, সর্বশেষ সাতক্ষীরার সদরের শিমুলবাড়িয়া হাইস্কুলে তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। এর পর ১৯৯২ সালে তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে লড়লেও জয়ী হতে পারেননি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রথা চালু করে। এই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সুনামের সাথে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনও করেন। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি জোর চেষ্টা করেও দলীয় টিকিট পাননি। এই নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনসুর আহমেদ দলীয় মনোনয়ন পান। কিন্তু মো. নজরুল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, সবার ইচ্ছা থাকে পার্লামেন্টে একবার যেতে। আমারও সেই ইচ্ছাটা রয়েছে। দলের হাইকমান্ড চাইলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি প্রার্থী হবো। সম্প্রতি আমি দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমাকে স্পষ্ট বলেছেন, কারে মুখ দেখে আমি এবার প্রার্থী দেব না। তৃণমূল নেতাকর্মীরা যাকেই চাইবে, তাকেই এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমি সভানেত্রীয় এই কথায় অত্যন্ত আশাবাদী। আগামী নির্বাচনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব ইনশাল্লাহ।

মজুরি বৈষ্যমের শিকার নারীরা: দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনের দাবি

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: কর্মক্ষেত্রে নারীর সম্পৃক্ততা বৃদ্ধি পাচ্ছে। কৃষির পাশাপাশি, হস্তশিল্প, কারিগর, নির্মাণ ও গ্রামীন উন্নয়নে পুরুষের সমান তালে কাজ করছে নারীরা। দিন দিন উপকুলীয় এ জেলাটিতে কৃষিতে পুরুষের চেয়ে নারী শ্রমিকের চাহিদা বাড়ছে। তুলনামূলক নারী শ্রমিকের পারিশ্রমিক কম থাকায় মহাজনরা নারী শ্রমিকের শ্রম নিতে সাচ্ছন্দবোধ করেন। এতে উৎপাদন খরচ হ্রাস পাচ্ছে। নারীদের অভিযোগ পুরুষের সমান কাজ করলেও তারা মজুরি বৈষ্যম্যের শিকার। তারা পুরুষের তুলনায় অর্ধেক মজুরি পান। যদিও জেলায় পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর মতে ২০১১ সালের জরিপে সাতক্ষীরা জেলা মোট জনসংখ্যা ছিল ১৯ লক্ষ ৮৫ হাজার ৯৫৯ জন। এর মধ্যে নারীর সংখ্যা ১০ লক্ষ ৩ হাজার ১৮২ জন এবং পুরুষের সংখ্যা ৯ লক্ষ ৮২ হাজার ৭৭৭ জন। জেলা পরিসংখ্যান ব্যুরোর মতে বর্তমানে জেলাতে পুরুষ ও মহিলার সংখ্যা ২৩ লাখের কাছাকাছি। পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বেশি। জেলায় প্রায় ৪ লক্ষ নারী বছরের বিভিন্ন সময়ে শ্রম বিক্রি করেন। আর দুই লক্ষ নারী সারা বছরই শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন। প্রায় ৪ লক্ষাধীক নারী স্বামীর গৃহে কাজ করেন। ২ লক্ষাধীক নারী লেখাপড়ার কাজে কর্মরত। পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য মতে এমন চিত্র উঠে এসেছে।

কয়েকজন নারীর সাথে কথা হলে তারা জানান, সমাজে নারী হল-অবহেলা, বৈষম্য আর নির্যাতনের শিকার ভাগ্য বিড়ম্বিত এক জীবন। যে জীবনে সংকট নিত্যদিনের, নেই সমাধান।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত বাংলাদেশ শ্রমশক্তি বিষয়ক এক জরিপ বলছে, কৃষি অর্থনীতিতে গ্রামীণ নারীর অবদান ৬৪.৪ শতাংশ এবং পুরুষর অবদান ৫২.৮ শতাংশ। বিবিএসের অপর এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক দশকের ব্যবধানে দেশের কৃষিতে নারীর অংশগ্রহণ বেড়েছে ১০২ শতাংশ। সেখানে পুরুষের অংশগ্রহণ কমেছে ২ শতাংশ। ২০০০ সালে দেশের কৃষিতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা ছিল ৩৮ লাখ। ২০১০ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ১ কোটি ৫ লাখে। বর্তমানে তা প্রায় দেড় কোটি ছাড়িয়ে গেছে।

প্রতিবেদন বলছে, ১০ বছরের মধ্যে প্রায় ৭০ লাখ নারী কৃষিতে যুক্ত হয়েছেন। কৃষির বিভিন্ন পর্যায়ে শ্রমবিভাজনের কারণে নারী শ্রমিকের চাহিদা বেড়েছে। বেশিরভাগ পুরুষ পেশা পরিবর্তন করে অ-কৃষিকাজে নিয়োজিত হচ্ছেন, কিংবা গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমাচ্ছেন ।

জেলায়, আমন, ইরি ও চলতি আউশ মৌসুমে মাঠের পাকা ধান কাটতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা চোখে পড়ার মত। অনেক ক্ষেতে পুরুষ মহিলা সমান সংখ্যক আর অনেক ক্ষেতে পুরুষের চাইতে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বেশি।

নিম্ন আয়ের পরিবারে আর্থিক টানাপোড়েন কাটিয়ে উঠতে পুরুষের পাশাপাশি নারীরাও কাজে যোগ দেন। সরেজমিনে পাওয়া তথ্যসূত্র বলছে, শুধু ধান কাটা নয়, ধানের চারা রোপণ, ধান শুকানো, ধান মাড়াই, সবজি আবাদ, গরু-ছাগল পালনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে সম্পৃক্ত এখানকার নারী। পুরুষের অনুপস্থিতিতে নারী প্রধান পরিবারের ব্যক্তি নারী প্রধানত কৃষি কাজের মাধ্যমেই জীবিকা নির্বাহ করছেন। শুধু উৎপাদন নয়, একাধারে ফসল উৎপাদন, প্রক্রিয়াজাতকরণ এবং বাজারজাতকরণের সঙ্গে জড়িত নারীরা। খাঁটুনি বেশি, কাজে ফাঁকির সুযোগ নেই, আবার কাজের সময়সীমাও বেশি-অথচ মজুরি কম। কৃষিতে নারীর অবদানের কোন স্বীকৃতিও এখনো নেই।

তালার ফসলের মাঠে নারী কৃষকের দেখা মেলে। অন্যান্য স্থানে সবজি আবাদ, গরু-ছাগল পালন, মৎস্য খামার পরিচালনা, হাঁস-মুরগি পালন, ফসলের ক্ষেত নিড়ানি, মাঠের ফসল ঘরে তোলা ইত্যাদি কাজে অসংখ্য নারীকে দেখা যায়। নারী কৃষক গোপী রাণী বলেন, পুরুষের চেয়ে আমরা বেশি কাজ করি। কাজে ফাঁকি দেই না। বিড়ি-সিগারেট টানতে আমাদের সময় অপচয় হয় না। সময় ধরে কাজে আসতে হয়, যেতে হয়। তবুও আমাদের মজুরি কম। মালিক বলে, আমরা নারী, আমরা পুরুষের মত কাজ পারি না।

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে পাওয়া তথ্যসূত্র বলছে, জেলার কোন কোন এলাকায় শতকরা ৫০ শতাংশ নারী ঘরের বাইরের কাজে নিয়োজিত। কৃষি মাঠে নারী শ্রমিকের সংখ্যা বৃদ্ধি প্রসঙ্গে আকাশী দাস কিছুটা ভিন্ন প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, কাজের মৌসুমে বাড়তি মজুরি পাওয়ার আশায় এই এলাকার পুরুষেরা নড়াইল,ফরিদপুর, গোপালগঞ্জসহ বিভিন্ন এলাকায় কাজে যায়। ফলে এলাকায় পুরুষ কৃষি মজুরের সংখ্যা কমে যায়। তখন ভূমি মালিকেরা মাঠের কাজে টানেন নারীদের। আবার সংসারের অভাব ঠেকাতে নারীরাও সেই ডাকে সাড়া দিয়ে কাজে নামেন। এভাবেই জেলায় নারী কৃষকের সংখ্যা বেড়ে যায়।

জেলার ধানের চাতালে কর্মরত শ্রমিকের ৯০ ভাগই নারী শ্রমিক। জাহানার বেগম একটি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। সে জানালেন প্রতিদিন সকালে পুরষ সদস্যদের অন্তত একঘন্টা আগে কাজে যোগ দেন তারা। দিনশেষে আধঘন্টা থেকে একঘন্টা পরে কর্মস্থল ত্যাগ করতে হয়। এরপরেও তাদের সবাইকে মজুরি বৈষম্যের শিকার হতে হয়। এমনকি অনেক ঠিকাদার নারী বলে তাদের কাজেও নিতে চান না। কাজের ধরন ও সময় অনুসারে মুজরি নির্ধারণ করা হলেও নারীরা প্রায় প্রতিটা ক্ষেত্রে পুরুষ শ্রমিকের অর্ধেক কিংবা তার চেয়েও কম মজুরি পান। একজন পুরুষ শ্রমিক দৈনিক দুই বেলায় ৫০০ টাকা মজুরি পেলেও একজন নারী শ্রমিক পান ৩০০ টাকা।

খলিষখালির মঙ্গলানন্দকাটী গ্রামের মোতালেব শেখের স্ত্রী খাদিজা সংসারের পাশাপাশি কয়েক বছর ধরে নারী শ্রমিক হিসেবে কৃষিতে শ্রম দেন। এতে প্রতি দিন দেড় থেকে দুইশত টাকা উপার্জন হয় তার। কিস্তু সব সময় কাজ না হওয়াতে তার সংসার চলতোনা। ছেলে মেয়ের পড়া লেখার খরচ মেটানো কষ্টকর হয়ে পড়ত। বাধ্য হয়ে সাতক্ষীরা টিটিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্র থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে বিদেশ যায়। বর্তমানে সে ২০ হাজার করে টাকা দেশে পাঠাতে পারে। তিনি জানান, দেশে কত কষ্ট করেও টাকা আয় করতে পারতান না এখন অনেক ভাল আছি। সে চলতি মাসে ১০ কাঠা কৃষি জমি বন্ধক রাখবে। যাতে তার স্বামী কাজ কাম করতে পারে।

জেলা মহিলা অধিদপ্তর, সমাজ সেবা, যুব উন্নয়ন, বিনেপোতা টিটিসি প্রশিক্ষণ কেন্দ্রসহ বিভিন্ন এনজিও নারীদের অধীকার নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। নারীদের শিক্ষিত করতে সরকার ডিগ্রী পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়া লেখা নিশ্চিত করেছে। বিশেষ করে নারী বৈষম্য কমাতে সকলের দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন আনা দরকার। বাল্য বিবাহ বন্ধ হলে নারী নির্যতন হ্রাস পাবে। এজন্য সকলের সহযোগিতা দরকার। আর নারীদের কাজকে খাটো করে না দেখে তাদের মূল্যায়ন করা দরকার।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, ছাত্রাবস্থায়ও হাবিবুল ইসলাম হাবিব ছিলেন বেপরোয়া। তার হাতে ঝরেছে অনেক নেতাকর্মীর রক্ত।

 

এদিকে অপর এক সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক কন্যা শেখ হাসিনা একজন মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা এসে ফিরে যাবার পথিমধ্যে কলারোয়ায় পৌছালে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নির্দেশে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে চালানো হয় হামলা। গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয় গাড়িবহরে। প্রাইভেট কারের ভিতর থেকে টেনে হিছড়ে নামিয়ে মারপিট করা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তান্ডব চালানো হয় রাস্তায়। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে সে সময়ের ওসি মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এ মামলার প্রধান আসামী হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

সূত্র আরো জানায়, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামাত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলায় আদালত ফাঁসির রায় দিলে ওই দিন এবং পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরাকে রক্তাক্ত করেছে বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা। এসব নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব ও জেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক এমপি ও তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বিভিন্ন সময় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য নাশকতার অভিযোগে রয়েছে আরো প্রায় অর্ধডজন মামলা।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে আমান হত্যার পর রাজধানী ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। মাঝে মধ্যে বিএনপির কর্মসূচিতে দেখা যেতো তাকে। টেলিভিশনে দেখা গেলেও তাকে আটক করা যায়নি বলে সূত্রের দাবি।

সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে নাকি হাবিবুল ইসলাম হাবিব আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করেছেন। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বোমাবাজি, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য নাশকতার মামলা হলেও তিনি গ্রেপ্তার হননি। কিছুদিন আগে গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।

দলীয় কোন প্রতিপক্ষকে সহ্য করতে পারেন না বিএনপির হাবিবুল ইসলাম হাবিব

 

পত্রদূত রিপোর্ট: ২০০৪ সালের ৪ মে রাত সাড়ে ৮টার দিকে তালা উপজেলার পাটকেলঘাটা পাঁচ রাস্তার মোড়ে তৎকালীন উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলতাফ হোসেনকে বোমা মেরে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এসময় তার সাথে মারা যান পথচারী কাঠমিস্ত্রি হাবিবুর রহমান মোড়ল। এ সংক্রান্ত দুটি মামলার চার্জশীটভুক্ত হাবিবুল ইসলাম হাবিব। ২০০৬ সালের ৯ জুলাই নৃশংসভাবে বোমা মেরে হত্যা করা হয় জেলা মৎস্যজীবী দলের তৎকালীন সভাপতি মির্জা মাসুদ জুয়েলকে। এ হত্যাকান্ডেও তৎকালীন এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব জড়িত বলে অভিযোগ ওঠে। ২০১৩ সালের ৬ সেপ্টেম্ব সাাতক্ষীরা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বিএনপির কর্মী সমাবেশ চলাকালে সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নির্দেশে তার সমর্থকরা নৃশংসভাবে কুপিয়ে ও পিটিয়ে হত্যা করে জেলা মৎস্যজীবী দলের সাধারণ সম্পাদক ও সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের সাবেক ভিপি আমানউল্যাহ আমনকে। এভাবেই একের পর এক নিজের দলীয় নেতা কর্মীদের হত্যা করে একক আধিপত্য বিস্তার করতে মরিয়া হয়ে উঠেছিলেন সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বিএনপির একাধিক নেতাকর্মী এমন তথ্য দিয়ে বলেছেন, দলীয় কোন প্রতিপক্ষকে সহ্য করতে পারেন না হাবিবুল ইসলাম হাবিব। যখনই কোন নেতা তার প্রতিপক্ষ হয়ে উঠেছেন তখনই তাকে সরিয়ে দেয়া হয়েছে। যে কারণে অকালে জীবন দিতে হয়েছে আলতাফ হোসেন, মির্জা মাসুদ জুয়েল ও আমান উল্যাহ আমানকে। জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক এড. সৈয়দ ইফতেখার আলীকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাবিব বাহিনী ধারলো অস্ত্র দিয়ে কোপ মারতে গেলে সেই কোপ লাগে আমানের মাথায়। আমান মাটিয়ে পড়ে গেলে তাকে সাপের মত পিটিয়ে মারে হাবিবের সমর্থকরা। জেলা তথা তালা-কলারোয়াকে বিএনপির নেতৃত্ব শূন্য করে একক আধিপত্য বিস্তারের লক্ষ্যে সাবেক ডাকসু নেতা বিএনপির কেন্দ্রীয় শিক্ষা বিষয়ক সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বার বার রক্তাক্ত করেছেন সাতক্ষীরার শ্যামল মাটি।

হাবিবুল ইসলাম হাবিব আত্মসমর্পন করায় জেলা বিএনপিতে চাঞ্চল্য

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: আদালতে বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব আত্মসমর্পন করায় জেলা বিএনপিতে চাঞ্চল্যভাব দেখা দিয়েছে। রবিবার (৭অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে জেলা যুগ্ম জজ আদালত-২ এ আত্মসমর্পন করে তিনি জামিন আবেদন করেন সাবেক এমপি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। শুনানী শেষে আদালতের বিচারক অরুনাঘ চক্রবর্তী জামিন নামঞ্জুর করে হাবিবকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

এরআগে সকালে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য হাবিবুল ইসলাম হাবিব সাতক্ষীরা আইনজীবী সমিতি ভবনে পৌছে আত্মসমর্পন ও জামিনের কাগজপত্রের আনুষঙ্গিকতা সম্পন্ন করে আদালতে যান। এড. আব্দুল মজিদ, এড. মিজানুর রহমান পিন্টুসহ বিএনপিপন্থী আইনজীবীরা সাবেক এমপি হাবিবের জামিন শুনানীতে অংশ নেন।

এসময় বিএনপির বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী আদালত চত্তরে উপস্থিত ছিলেন। অনেকটা গোপনীয়ভাবে আত্মসমর্পন করতে গেলেও মুহূর্তের মধ্যে সেই খবর ছড়িয়ে পড়ায় কলারোয়া ও তালা উপজেলাসহ বিভিন্ন এলাকার দলীয় নেতাকর্মী আদালতে চত্তরে পৌছান। কয়েক বছর পর হাবিবুল ইসলাম হাবিবকে কাছে পেয়ে উপস্থিত নেতাকর্মীরা উজ্জীবিত হয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেন। সেসময় অতিরিক্ত পুলিশের অবস্থানও চোখে পড়ে। পুলিশি তৎপরতায় নেতাকর্মীরা আদালত এলাকার বিভিন্ন স্পটে অবস্থান নেন।

দুই সাংবাদি‌কের বা‌ড়ির সাম‌নে অস্ত্রধারী‌দের মহড়ায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লা‌বের উ‌দ্বেগ

 

গত ২৮ সে‌প্টেম্বর দিবাগত রা‌ত ২:৩০টার দি‌কে প‌রে আবার ১ অ‌ক্টোবর রাত ৩টার দি‌কে সাতক্ষীরা দুই সাংবাদি‌কের বা‌ড়ির সাম‌নে গভীর রা‌তে অস্ত্রধারী‌দের মহড়ায় উদ্বেগ জানিয়ে বিবৃত্তি দিয়েছেন সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সভাপতি অধ্যাপক আবু আহমেদ, সহ-সভাপতি আব্দুর ওয়াজেদ কচি, সাধারণ সম্পাদক মো: আব্দুল বারী, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম সরোয়ার, সাংগঠনিক সম্পাদক মো: রবিউল ইসলাম, অর্থ-সম্পাদক মোশারফ হোসেন, সাহিত্য সংস্কৃতি ও ক্রীড়া সম্পাদক আমিনা বিলকিস ময়না, দপ্তর সম্পাদক আহসানুর রহমান রাজীব, নির্বাহী সদস্য আব্দুস সামাদ, ইব্রাহিম খলিল, কৃষ্ণ মোহন ব্যানার্জী, আমিনুর রশীদ, অসীম বরণ চক্রবর্তীসহ সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সকল সদস্যবৃন্দ । প্রেস বিজ্ঞপ্তি

হত্যা ও চাঁদাবাজির মামলায় বিএনপি দলীয় সাবেক সাংসদ হাবিবুল ইসলাম হাবিব কারাগারে

 

বদিউজ্জামান: জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি, তালা কলারোয়া আসনের দুই বারের সাবেক সংসদ সদস্য ও কেন্দ্রীয় নেতা হাবিবুল ইসলাম হাবিব হত্যা ও চাঁদাবাজির চারটি মামলায় আদালতে আত্মসমর্পন করেছেন।

এ সময় আদালত তিনটি মামলায় জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। অপর একটি মামলায় তাকে জামিন দেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, হাবিবুল ইসলাম হাবিব তালা উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলতাফ হত্যার দুটি ও চাঁদাবাজির ১টি মামলায় রোববার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ (দ্বিতীয় আদালত) এর বিচারক অরুনাভ চক্রবর্তীর আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন প্রার্থনা করেন।

তার জামিনের পক্ষে আইনগত যুক্তি তুলে ধরেন এডভোকেট আবদুল মজিদ সহ বিএনপি পন্থী কয়েকজন আইনজীবী। সরকার পক্ষে তার জামিনের বিরোধীতা করে বক্তব্য দেন পিপি এড. ওসমান গনি।

উভয়পক্ষের বক্তব্য শেষে আদালত আলতাফ হত্যাসহ তিনটি মামলায় জামিন আবেদন নাকচ করে দিয়ে তাকে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এদিকে যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ২য় আদালত চাঁদাবাজির অপর একটি মামলায় তার জামিন মঞ্জুর করেন।

উল্লেখ্য যে ২০০৪ সালের ৪ মে তালা উপজেলা বিএনপি সভাপতি আলতাফ হোসেনকে বোমা মেরে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এ সংক্রান্ত দুটি মামলায় হাবিবুল ইসলাম হাবিব জামিন নিয়ে পলাতক থাকায় তাঁর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ইস্যু করেন আদালত। দীর্ঘ দিন পর তিনি জামিন নিতে আদালতে আত্মসমর্পন করেন। আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করেন।