নাম প্রকাশ না করার শর্তে অনেকেই জানান, ছাত্রাবস্থায়ও হাবিবুল ইসলাম হাবিব ছিলেন বেপরোয়া। তার হাতে ঝরেছে অনেক নেতাকর্মীর রক্ত।


প্রকাশিত : অক্টোবর ৮, ২০১৮ ||

 

এদিকে অপর এক সূত্রে জানা যায়, ২০০২ সালে তৎকালীন বিরোধী দলীয় নেত্রী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী জাতির জনক কন্যা শেখ হাসিনা একজন মুক্তিযোদ্ধার ধর্ষিতা স্ত্রীকে দেখতে সাতক্ষীরা এসে ফিরে যাবার পথিমধ্যে কলারোয়ায় পৌছালে হাবিবুল ইসলাম হাবিবের নির্দেশে শেখ হাসিনার গাড়িবহরে চালানো হয় হামলা। গুলি ও বোমা নিক্ষেপ করা হয় গাড়িবহরে। প্রাইভেট কারের ভিতর থেকে টেনে হিছড়ে নামিয়ে মারপিট করা আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের। ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে তান্ডব চালানো হয় রাস্তায়। এ ঘটনায় মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোসলেম আলী বাদী হয়ে থানায় মামলা করতে গেলে সে সময়ের ওসি মামলা না নেওয়ায় আদালতে মামলা করেন। মামলাটি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। এ মামলার প্রধান আসামী হাবিবুল ইসলাম হাবিব।

সূত্র আরো জানায়, ২০১৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জামাত নেতা দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিরুদ্ধে যুদ্ধাপরাধ মামলায় আদালত ফাঁসির রায় দিলে ওই দিন এবং পরবর্তী সময়ে সাতক্ষীরাকে রক্তাক্ত করেছে বিএনপি-জামাতের নেতাকর্মীরা। এসব নেতাকর্মীদের নেতৃত্ব ও জেলা সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করেছেন সাবেক এমপি ও তৎকালীন জেলা বিএনপির সভাপতি হাবিবুল ইসলাম হাবিব। বিভিন্ন সময় সরকার উৎখাতের ষড়যন্ত্র ও নৈরাজ্য নাশকতার অভিযোগে রয়েছে আরো প্রায় অর্ধডজন মামলা।

সূত্র জানায়, ২০১৩ সালে আমান হত্যার পর রাজধানী ঢাকায় আত্মগোপনে ছিলেন হাবিবুল ইসলাম হাবিব। মাঝে মধ্যে বিএনপির কর্মসূচিতে দেখা যেতো তাকে। টেলিভিশনে দেখা গেলেও তাকে আটক করা যায়নি বলে সূত্রের দাবি।

সূত্র বলছে, একাদশ জাতীয় সংসদে অংশ নেয়ার লক্ষ্যে নাকি হাবিবুল ইসলাম হাবিব আদালতে স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পন করেছেন। হাবিবুল ইসলাম হাবিবের বিরুদ্ধে হত্যাসহ বোমাবাজি, চাঁদাবাজি ও নৈরাজ্য নাশকতার মামলা হলেও তিনি গ্রেপ্তার হননি। কিছুদিন আগে গণমাধ্যমকে তিনি বলেছিলেন, তার বিরুদ্ধে দায়ের করা সকল মামলা নাকি রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক।