জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে নৌকা নিয়ে এমপি হতে চান নজরুল


প্রকাশিত : অক্টোবর ৮, ২০১৮ ||

 

পত্রদূত রিপোর্ট: জেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের পদ ছেড়ে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে লড়তে চান জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. নজরুল ইসলাম। সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রতীক নৌকা পাওয়ার জন্য তিনি এবার কোমর বেঁধে মাঠে নেমেছেন। প্রতিদিন সমর্থক নেতাকর্মীদের নিয়ে সাতক্ষীরা সদর আসনের বিভিন্ন এলাকায় যাচ্ছেন গণসংযোগে। তিনি বলেন, তৃণমূল নেতাকর্মীরা যেভাবে আমাকে সমর্থন দিচ্ছে, তাতে আমি শতভাগ নিশ্চিত সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে আমিই দলীয় মনোনয়ন পাব।

নজরুল ইসলাম ১৯৭১ সালে সাতক্ষীরা কলেজ শাখা ছাত্রলীগের কমনরুম সম্পাদক ছিলেন। সেই থেকে মূলত তার রাজনীতি শুরু। ১৯৭৩ সালে বিএসসি পাস করে পেশা হিসেবে বেছে নেন শিক্ষকতা। এরপর সাতক্ষীরা সদরের গাভা হাইস্কুল, তালার সরুলিয়া হাইস্কুল, সর্বশেষ সাতক্ষীরার সদরের শিমুলবাড়িয়া হাইস্কুলে তিনি দীর্ঘদিন শিক্ষকতা করেছেন। এর পর ১৯৯২ সালে তিনি সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ফিংড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হওয়ার পর শিক্ষকতা পেশা ছেড়ে দেন। ১৯৯৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসনে অংশ নিয়ে পরাজিত হন। ২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি পুনরায় দলীয় মনোনয়ন পেয়ে নির্বাচনে লড়লেও জয়ী হতে পারেননি। ২০০৮ সালে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উপজেলা পরিষদ নির্বাচন প্রথা চালু করে। এই নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন নিয়ে সাতক্ষীরা সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। সুনামের সাথে পাঁচ বছর দায়িত্ব পালনও করেন। ২০১৬ সালের ২৮ ডিসেম্বর জেলা পরিষদ নির্বাচনে দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তিনি জোর চেষ্টা করেও দলীয় টিকিট পাননি। এই নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মনসুর আহমেদ দলীয় মনোনয়ন পান। কিন্তু মো. নজরুল ইসলাম জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতির বিপক্ষে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়ে বিপুল ভোটের ব্যাবধানে জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।

নজরুল ইসলাম বলেন, সবার ইচ্ছা থাকে পার্লামেন্টে একবার যেতে। আমারও সেই ইচ্ছাটা রয়েছে। দলের হাইকমান্ড চাইলে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আমি প্রার্থী হবো। সম্প্রতি আমি দলের সভানেত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে দেখা করেছি। তিনি আমাকে স্পষ্ট বলেছেন, কারে মুখ দেখে আমি এবার প্রার্থী দেব না। তৃণমূল নেতাকর্মীরা যাকেই চাইবে, তাকেই এবার মনোনয়ন দেওয়া হবে। আমি সভানেত্রীয় এই কথায় অত্যন্ত আশাবাদী। আগামী নির্বাচনে তৃণমূল নেতাকর্মীদের অকুণ্ঠ সমর্থন নিয়ে আমি নির্বাচনে অংশগ্রহণ করব ইনশাল্লাহ।