দেবহাটায় কন্যা শিশু দিবসে মানববন্ধন ও র‌্যালী

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলা মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরের আয়োজনে এবং উপজেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় বাল্যবিবাহ নিরোধ দিবস এবং জাতীয় কন্যাশিশু দিবসে মানববন্ধন ও র‌্যালি অনুষ্ঠিত হয়েছে। সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত উপজেলা পরিষদ সম্মুখে প্রধান সড়কে ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তা মিসেস নাজমুন নাহারের সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা প্রনব কুমার মল্লিক, দেবহাটা সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী, সাংবাদিক আরকে বাপ্পা, পারুলিয়া ইউনিয়নের ইউপি সদস্যা লালবানু কাদেরী, দেবহাটা সরকারি বিবিএমপি ইনস্টিটিউশন হাইস্কুলের শিক্ষার্থী ইপ্তি, দেবহাটা মডেল প্রাইমারী স্কুলের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী লতা বিশ^াস প্রমুখ।

দেবহাটায় জাইকার অর্থায়নে ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন

দেবহাটা প্রতিনিধি: দেবহাটা উপজেলার সদর ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত টাউনশ্রীপুরে জাইকার অর্থায়নে ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করলেন দেবহাটা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নে জাইকার অর্থায়নে বিভিন্ন অবকাঠামোগত উন্নয়ন করা হচ্ছে। তারই ধারাবাহিকতায় গতকাল সকাল সাড়ে ১০টায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা হাফিজ-আল আসাদ উপজেলার সদর ইউনিয়নের অর্ন্তভূক্ত টাউনশ্রীপুর বাজারের পাশের্^ আফছার মাস্টারের বাড়ির পাশ থেকে আজিজপুরগামী পাকা ড্রেন নির্মাণ কাজের উদ্বোধন করেন। এসময় উপজেলা প্রকৌশলী মমিনুল ইসলাম, সদর ইউপি চেয়ারম্যান আবু বকর গাজী, উপজেলা ঠিকাদার কল্যান সমিতির সভাপতি শেখ মারুফ হোসেন, সাধারন সম্পাদক মাহমুদুল হক লাভলু প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

শিবপুর ও আগরদাঁড়ীতে ১৯টি মন্ডপে দুর্গোৎসব

নিজস্ব প্রতিনিধি: ‘ধর্ম যার যার উৎসব সবার’ এই স্লোগানকে সামনে রেখে প্রতি বছরের ন্যায় এবাও হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। এবার সদর উপজেলার আগরদাড়ী ও শিবপুর ইউনিয়নে ১৯টি স্থানে পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। শিবপুর ও আগরদাঁড়ী ইউনিয়নে ১৯টি পূজামন্ডপে শারদীয় দুর্গোৎসব অনুষ্ঠিত হবে। উৎসবকে ঘিরে রেখে ইতোমধ্যে সদরে আগরদাঁড়ী ১১টি ও শিবপুরের ৮টি স্থানে পূজামন্ডপগুলোতে সকল কাজ প্রায় সম্পন্ন করা হয়েছে। তাছাড়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে উৎসব পালনের জন্য প্রসাশনের পক্ষ থেকে নেওয়া হয়েছে নিরাপত্তা ব্যবস্থা। শিবপুর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি অরবিন্দু কুমার জানান, শিবপুর এলাকায় ৮টি পূজামন্ডপ তৈরি করা হয়েছে বাঁশতলা, পাইরাডাঙ্গা, বারোপোতা, সোনাডাঙ্গা, পরানদহ, গোধাঘাটা, বধুডাঙ্গা, শিবপুর। অপরদিকে আগরদাঁড়ী ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক তাপস কুমার আচার্য্য জানান, আগরদাঁড়ী এলাকায় ১১টি স্থানে পূজামন্ডপে প্রতিমা তৈরি করা হয়েছে। সেগুলো হলো রামেরডাঙ্গা, চুপড়িয়া, নেহা, ইন্দ্রিরা, বাঁশঘাটা, পালপাড়া, আবাদেরহাট, হলদারবাড়ি, ইন্দ্রিরা বাদামতলা, নিলিখালী ও বাবুলিয়া।

দেবহাটায় পুলিশের অভিযানে থ্রিপিচ প্রাইভেটকারসহ ২জন আটক

দেবহাটা সংবাদদাতা: দেবহাটা থানা পুলিশের অভিযানে ভারতীয় ১১০টি থ্রিপিচ, প্রাইভেটকারসহ দুইজন আটক হয়েছে। এঘটনায় প্রাইভেটকার চালক সেলিম মোড়ল ও সহযোগী মাসুম বিল্লাহর বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের হয়েছে। জানা যায়, সোমবার বেলা ১২টার দিকে দেবহাটা থানা পুলিশের একটি দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে দক্ষিণ পারুলিয়া জেলিয়া পাড়া ফুটবল মাঠের পাশ্ববর্তী স্থানে (ঢাকা মেট্রো-ক ০৩-৯৯৮১) নাম্বারের প্রাইভেটকার তল্লাশী করে উক্ত মালামাল আটক করে। এসময় চালক দক্ষিন কুলিয়া গ্রামের মিজান মোড়লের পুত্র সেলিম মোড়ল এবং তার সহযোগী শ্যামনগর উপজেলার কৈখালি গ্রামের হারুন-অর-রশিদের পুত্র মাসুম বিল্লাহ আটক হয়। এব্যাপারে আটক দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানান দেবহাটা থানার অফিসার ইনচার্জ সৈয়দ মান্নান আলী। যার নং- ৫ তাং-০৮-১০-২০১৮।

দেবহাটায় ট্যালেন্ট হ্যান্টিং প্রোগ্রাম

দেবহাটা সংবাদদাতা: দেবহাটায় ট্যালেন্ট হ্যান্টিং প্রোগ্রাম অনুষ্ঠিত হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টায় উপজেলা পরিষদ মিলনায়তনে এসময় উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ-আল-আসাদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান আব্দুল গণি। বিশেষ অতিথি ছিলেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও নওয়াপাড়া ইউপি চেয়ারম্যান মুজিবর রহমান, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক ও সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ ফারুক হোসেন রতন, উপজেলা মহিলা ভাইস চেয়ারম্যান আফরোজা পারভীন প্রমূখ।

দখল দুষণে প্রাণহীন প্রাণসায়র

আব্দুস সামাদ: কামার পাড়ার কাছে বাঁশের সাঁকো। ওটাতে ঝুঁকি নিয়েই চলছে ওপারের সুলতানপুরের সঙ্গে যোগাযোগ। পাড়া থেকে খালের বুকে নামিয়ে দেওয়া হয়েছে নর্দমার মুখ। পাশে রোদে শুকানোর জন্য ঘুটে মেলে রাখা। দূষণে কালো হয়ে যাওয়া নোংরা পানিতে তবু জলকেলীতে মত্ত রাজহাঁসের দল। সব দূষণ শুষে নিয়ে বুঝি খালটাতে প্রাণ ফিরিয়ে আনবে ওরাই। কিন্তু এ পানিতেও যে তারাও হুমকির মুখে সেটা কি করে বুঝবে অবুঝ হাঁসের দল?
খালের দুপাড়ে দীর্ঘ দিনের পুরাতন বসতি। দখল আর দুষণ নিয়েই যাদের বসবাস। এক বছরের শিশুকে কোলে নিয়েই ঘর থেকে বেরিয়ে এলো রেশমা খাতুন। কথা হলো রেশমা খাতুনের সাথে। তিনি জোর গলায় বলতে লাগলেন, বিয়ে করেছেন ১৪ বছর। স্বামী সন্তান নিয়ে এই খাল পাড়েই থাকেন। তাদের কাছে খালের গন্ধকে গন্ধই মনে হয় না। রোগ ছড়াতে পারে এমন আশঙ্কাকেও উড়িয়ে দিয়ে বললেন, আমরা সবাই তো এখানে বসবাস করি। তেমন কোন রোগ হয় না। সামান্য যা হয় তাও হোমিও ডাক্তারের ওষুধে ঠিক হয়ে যায়।
কথা বলতে বলতে চোখ পড়লো কোলে থাকা বাচ্চার পিঠের দিকে। অসংখ্য লালচে দাগ আর গুটি গুটি পিঠ ভরে আছে। মা রেশমা খাতুনের কাছে বিষয়টি জানতে চাইলে সোজা উত্তর, ও কিছু না। মশার কামড় না হয় চুলকানি, সেরে যাবে। তখনই মনে হলো সেই রাজা হাঁসগুলোর কথা। যেখানে মানুষই জানেনা খাল দুষণের ভয়াবহতা। সেখানে হাঁসতো তাদরেই পালিত।
সুলতানপুর বড় বাড়ার ব্রিজের ওপর রীতিমতো জমে উঠেছে কাঁচাবাজার। খালের বুকে ময়লার ভাগাড়টা যেনো দাঁত ভেংচাচ্ছে। একটু দূরেই বরফকল, শৌচাগার। বাণিজ্যিক দোকান, বসত ঘর আর মাছের বাজারও আছে খালের বুক জুড়ে। গড়ের কান্দায় পাড় থেকে খালের বুকে এগিয়ে দখলের দম্ভ ঘোষণা করছে প্রভাবশালীর পাকা দেওয়াল। পাকা পুলের কাছে খালের ওপর ঝুঁকে যেনো জেলা মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের দ্বিতল দালান। বিপরীতে তবু খেয়াজালে জীবনের গান। এদিকটায় কচুরিপানার ছাড়া ছাড়া দল ভাসছে বটে, কিন্তু পানির বর্ণ দূষণে কালোই হয়ে আছে।
অনেক আগেই মজে গেছে প্রাণসায়র। জমিদার প্রাণনাথ রায় চৌধুরীর উদ্যোগে ১৮৬৫ সালে কাটা এই খাল তাই এখন প্রাণহীন। বছরের পর বছর ধরে শহরের বর্জ্য মিশতে থাকায় ঐতিহাসিক এই খাল পরিণত হয়েছে খোলা স্যুয়ারেজ লাইনে। তাই একসময় যে খালের পানি মানুষ পান করতো, সে পানির কাছে আসতে এখন রুমাল চাপা দিতে হয় নাকে।
শহরের মাঝ বরাবর অবস্থানের কারণে শহরবাসীকে নিত্যদিন এই খাল পাড়ি দিতেই হয়। শুনতে হয় প্রাণসায়রের প্রাণ হারানোর আর্তনাদ। কিন্তু সে আর্তনাদও চাপা পড়ে যায় প্রভাবশালীদের খাল দখলের করনে। শহরের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে ওঠার বদলে এই খাল তাই এখন বিষের কাঁটা হয়ে ব্যথা ছড়ায় সাতক্ষীরাবাসির বুকে। জমিদার প্রাণনাথের খোঁড়া এই খালের সংযোগ দক্ষিণের মরিচ্চাপ নদী থেকে উত্তরের নৌখারী খালের সঙ্গে। প্রাণসায়ের আর সায়রের খাল নামেও পরিচিতি আছে এর।
খননের পর এই খালই হয়ে উঠেছিলো সাতক্ষীরা শহরের যোগাযোগের অন্যতম রুট। মাল আর যাত্রীবাহী বড় বড় নৌযান চলাচলে এক সময় ব্যস্ত থাকতো প্রাণসায়র। খননকালে এর দৈর্ঘ্য ছিলো প্রায় ১৩ কিলোমিটার। প্রস্থ ছিলো প্রায় ২শ’ ফুট। কিন্তু সেই প্রশস্থতা কমে এখন অনেক স্থানেই ২০ ফুটের নিচে নেমে গেছে। লঞ্চ-নৌকা তো দূরের কথা, ভেলা ভাসানোর মতো ¯্রােতও নেই প্রাণহীন প্রাণসায়রে।
অথচ একসময় ইছামতির হাড়দাহ দিয়ে কলকাতা খাল হয়ে বড় বড় স্টিমারই ঢুকত প্রাণসায়র খালে। এই খাল খননের ফলে সাতক্ষীরার ব্যবসা-বাণিজ্য আর শিক্ষার প্রসার ঘটতে থাকে দ্রুত। এ শহর তাই পরিণত হয সমৃদ্ধিশালী নগরে। কিন্তু ১৯৬৫ সালের দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের উদ্যোগে বন্যা নিয়ন্ত্রণের নামে বেশ ক’টি স্লুইস গেট নির্মাণ করা হলে প্রাণসায়রের মৃত্যুযাত্রা শুরু হয়।
স্লুইস গেট গড়া হয় ইছামতির হাড়দাহ খাল, কলকাতার খাল, বেতনা নদীর সংযোগ খাল, বালিথা, খেজুরডাঙি নারায়ণজোল ইত্যাদি স্থানে। এরই ধারাবাহিকতায় খোলপেটুয়া নদীর ব্যাংদহা খালের মুখে স্লইসগেট নির্মাণের চেষ্টা শুরু হলে প্রাণসায়রের মরে যাওয়া নিশ্চিত হয়। নদীর স্রোত খালের মধ্যে ঢুকতে না পেরে পলি জমে ভরাট হতে থাকে প্রাণসায়র।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরা সরকারি কলেজের ভূগোল ও পরিবেশ বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আ. ন. ম. গাউছার রেজা বলেন, এতে পরিবেশের প্রধানত দুই ধরনের সমস্যা হচ্ছে। একটা হচ্ছে পানি নিস্কাষণ জনিত সমস্যা অপরটি জৈব বৈচিত্র্য জনিত সমস্যা। প্রথমত, শহরের প্রাণ কেন্দ্র দিয়ে খালের মাধ্যমে যে পানি নিস্কাষন হচ্ছিল তা ব্যাহ হচ্ছে। পানি নিস্কাষন না হওয়ায় পানি জমে দুষণ ঘটাছে। দুরগন্ধ ছড়িয়ে নানা রকম রোগ জীবানুর বিস্তার ঘটাচ্ছে। দ্বিতিয়ত খালের পানি দুষিত হওয়া এই খালে মাছসহ নানা প্রকার জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণির উভয়ের যে সহঅবস্থান হওয়ার কথা ছিল তা হচ্ছে না। এত পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে। এছাড়াও আমাদের অর্থনীতিতে যে ভূমিকা রাখাত সেটিও ব্যাহত হচ্ছে। সৌর্ন্দয্য হানি ঘটাচ্ছে।
এ বিষয়ে সাতক্ষীরার পৌর মেয়র তাসকিন আহমেদ বলেন, খালের প্রাণ ফিরিয়ে আনতে একটি বড় প্রকল্প হাতে নেয়া হয়েছে। এ প্রকল্পের আওতায় আগামী ফেব্রুয়ারিতে টেন্ডারের মাধ্যমে খাল খনন ও সৌন্দর্য্য বর্ধনের কাজ শুরু হবে। তাছাড়া আগামি সপ্তাহে একটি টেন্ডার বিজ্ঞপ্তির প্রকাশ করা হচ্ছে। সেই বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে পাকাপুল থেকে গার্লস স্কুলের ব্রিজ পর্যন্ত সৌর্ন্দয্য বর্ধনের কাজ শুরু হবে বলে তিনি জানান।##

জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করলেন মোস্তফা কামাল

পত্রদূত রিপোর্ট: সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদান করেছেন এসএম মোস্তফা কামাল। মঙ্গলবার দুপুর ১২টায় শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের মাজারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পনের মধ্য দিয়ে তিনি দায়িত্বভার গ্রহণ করেন। এরআগে জেলা প্রশাসকের বাংলোতে বিদায়ী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেনের কাছ থেকে তিনি দায়িত্বভার বুঝে নেন।
এসময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) শাহ আবদুল সাদী, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট অনিন্দিতা রায়, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তহমিনা খাতুনসহ জেলা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা।
নবাগত জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল এর আগে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে কর্মরত ছিলেন। তিনি ২০০৮ সাল থেকে এক বছর যাবত সাতক্ষীরার শ্যামনগর উপজেলায় সহকারি কমিশনার (ভূমি) পদে কর্মরত ছিলেন। পরে তিনি সাতক্ষীরায় স্বল্প সময়ের জন্য অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটের দায়িত্ব পালন করেন। মঙ্গলবার সাতক্ষীরার ২০তম জেলা প্রশাসক হিসেবে দায়িত্ব নিলেন এসএম মোস্তফা কামাল। গোপালগঞ্জের কাশিয়ানির সন্তান এসএম মোস্তফা কামাল ২১তম বিসিএস এর কর্মকর্তা।
জেলা প্রশাসকের অফিস সূত্রে জানা গেছে, এসএম মোস্তফা কামাল অফিসিয়াল দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই শহরের শহীদ আবদুর রাজ্জাক পার্কে আসেন। তিনি শহীদ আবদুর রাজ্জাকের মাজারে পুষ্পাঞ্জলি অর্পন করেন। সেখানে এক মিনিট নীরবতা পালন করেন। পরে তিনি জেলা প্রশাসকের অফিসে ফিরে সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারিদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে মিলিত হন।
এদিকে সাত মাস তিনদিন জেলা প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করে বদলি হলেন মোহাম্মদ ইফতেখার হোসেন। তিনি স্বাস্থ্য সেবা বিভাগে উপসচিব হিসেবে যোগ দিয়েছেন বলে জানা গেছে।

কলারোয়ায় বিএনপি নেতা আশরাফ ও রাজ্জাক আটক

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় নাশকতা মামলায় জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদকসহ দুই বিএনপি নেতাকে আটক করেছে পুলিশ। আটককৃতরা হলো- জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, কলারোয়া উপজেলা কৃষকদলের সভাপতি সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আশরাফ হোসেন (৫৬) ও উপজেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক আব্দুর রাজ্জাক (৪৮)। আশরাফ হোসেন উপজেলার কেঁড়াগাছি ইউনিয়নের পাঁচপোতা গ্রামের মৃত শাহাদত মোড়লের পুত্র ও আব্দুর রাজ্জাক উপজেলা কেরালকাতা ইউনিয়নের নাকিলা গ্রামের মৃত নওশের আলীর পুত্র। আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কলারোয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মারুফ আহম্মদ।
থানা সূত্র জানায়, সোমবার রাত সাড়ে ৮টার দিকে ওসি’র নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল উপজেলার বোয়ালিয়া গ্রামের কেঁড়াগাছি ইউনিয়ন পরিষদের পাশে পূর্ব বোয়ালিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বারান্দায় জামাত-বিএনপির কিছু উচ্ছৃংখল নেতাকর্মীরা নাশকতার পরিকল্পনা করাকালীন সময় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনাকালে পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে আসামিরা দিগি¦দিক পলানোর সময় বিএনপি নেতা আশরাফ হোসেন ও আব্দুর রাজ্জাককে আটক করা হয়। এ ঘটনায় কলারোয়া থানায় ১৭ জনের নাম উল্লেখ্য করে আরো ৪০/৫০জনকে অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি মামলা নং-১০(১০)১৮ দায়ের হয়। যার জিআর-৩২৫/১৮। আটককৃতদের আদালতের মাধ্যমে জেলা কারাগারে প্রেরণ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

কলারোয়ায় শিক্ষকের হাতে শিক্ষক আহত

 

নিজস্ব প্রতিনিধি: কলারোয়ায় এক স্কুল শিক্ষককে পিটিয়ে আহত করেছে একই স্কুলের দুই শিক্ষক। মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে কলারোয়া সরকারি জিকেএমকে পাইলট হাইস্কুলের সামনে এ ঘটনা ঘটে।
প্রধান শিক্ষক আবদুর রব সাংবাদিকদের জানান, স্কুলের সহকারী প্রধান শিক্ষক আব্দুর রকিব ও সহকারী শিক্ষক মাহফুজার রহমানের সাথে একই স্কুলের শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমানের কথা কাটাকাটি হয়। এর জের ধরে মঙ্গলবার সন্ধ্যার দিকে পাইলট হাইস্কুলের সামনে শিক্ষক মোস্তাফিজুর রহমান মারপিটের শিকার হন। পরে তিনি দৌড়ে পাশের জামে মসজিদে গিয়ে আশ্রয় নেন। খবর পেয়ে কলারোয়া থানা পুলিশ তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করেন।

শ্যামনগরে নাশকতার মামলার নামে চাঁদাবাজির অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

নিজস্ব প্রতিনিধি: তালিকা মাফিক চাঁদা না দিলে শ্যামনগরের আওয়ামী কর্মী এবং সাধারণ মানুষের নামে নাশকতার মামলা হচ্ছে। আর টাকা দিলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হচ্ছে। এভাবে শ্যামনগরের রমজাননগর ইউনিয়নে চলছে চাঁদাবাজি। মঙ্গলবার দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন চারজন ভুক্তভোগী। তারা বলেন, আমরা নিজেরা খেটে খাওয়া মানুষ। বনবিভাগের কাছ থেকে পাস পারমিট নিয়ে সুন্দরবনের নদীতে কাঁকড়া অথবা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করি। আমরা স্থানীয়ভাবে আওয়ামী লীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ ও সৈনিক লীগের সাথে জড়িত। অথচ আমরাও বাদ পড়িনি নাশকতার মামলা থেকে।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন মানিকখালির ছলেমান গাজি ও নুর আলম এবং টেংরাখালির আবুল কালাম গাইন ও হযরত আলি। তারা বলেন, গত ৮ অক্টোবর তাদের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানার এসআই রোকন মিয়া বাদি হয়ে কালিঞ্চি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কে ঘটনাস্থল দেখিয়ে বিশেষ ক্ষমতা আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে একটি নাশকতার মামলা করেছেন। অথচ এ ঘটনা সম্পর্কে আমরা কেউ কিছু জানি-ই না। বর্তমানে এসআই হালিম ফোন করে বলছেন, টাকা দাও তাহলে তোমাদের গ্রেপ্তার করবো না।
সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও বলেন, এই মামলা দায়েরের আগে এসআই হালিম রমজাননগর ইউনিয়নের আওয়ামী লীগ সম্পাদক হায়াত আলির কাছ থেকে একটি তালিকা নেন। এই তালিকা অনুযায়ী তিনি ফোন করে ডেকে বলেন তালিকা থেকে তোমার নাম কেটে দেওয়া হবে। তবে টাকা দিতে হবে। তারা বলেন, আমরা টাকা দিতে সম্মত না হওয়ায় আমাদের বিরুদ্ধে এই মামলা করা হয়েছে। একইভাবে কালিঞ্চি গ্রামের সিদ্দিক গাজি, আশরাফ গাজি, নুর মোহাম্মদকে জামাত বিএনপি বানিয়ে মামলা করা হয়েছে। তারা বলেন, এমন তিনশ’ লোকের একটি কম্পিউটার তালিকা তৈরি করে হায়াত আলি ও টেংরাখালির আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল বারী পুলিশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে চাঁদা আদায় করছেন। তারা এর প্রতিকার দাবিতে পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছেন।
তবে এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউপি সদস্য হায়াত আলি বলেন, আমি এমন কোনো তালিকা তৈরি করে তাদেরকে পুলিশ দিয়ে ধরাইনি। এটা মিথ্যা প্রচার। এ সম্পর্কে আমার কিছুই জানা নেই। তিনি বলেন, যারা সংবাদ সম্মেলন করেছেন তারাই তো জামায়াত বিএনপির লোক।