ভুঁয়া করিরাজের প্রতারণা মাটির নিচে সোনা দেখলে নিতে হবে, বাবার থানে দেড়লাখ টাকা সাদকা


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৩, ২০১৮ ||

শেখ হেদায়েতুল ইসলাম: আশাশুনি উপজেলা বড়দলে ভুয়া করিরাজের ফাঁদে পড়ে দেড়লাখ টাকা খোয়া গেছে এক ভাটা শ্রমিকের। সহায় সম্বল হারিয়ে মানসিক ভারসাম্য হারাতে বসেছে পরিবারের লোকজন। ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ১৪ অক্টোবর মধ্যম বড়দল এলাকার কারিগরপাড়ার বাছের আলীর স্ত্রীর কবিরাজি চিকিৎসা করতে যান নাম সর্বস্ব কবিরাজ একই ইউনিয়নের গোয়ালডাঙ্গা গ্রামের শফিকুল ইসলাম সরদারের স্ত্রী আঞ্জুয়ারা বেগম। চিকিৎসাকালে কবিরাজ আঞ্জুয়ারা বেগম তাদের জানান আপনাদের বাড়িতে মাটির নিচে স্বর্ণ আছে। আপনারা যদি চান আমি তুলে দিতে পারি। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার যাতায়াতের মধ্যে কবিরাজ আঞ্জুয়ারা বেগম ও তার নাম না জানা গুরুবাবা অন্ধকার রাতে বাছের আলীর স্ত্রী, পুত্র শাহীনুর রহমান ও পুত্রবধুকে নিয়ে তাদের টিউবওয়েলের পার্শ্ববর্তী স্থানে কোদাল দিয়ে মাটি খুড়ে একটি স্বর্ণের সাদৃশ্য পুতুল ও একটি ছোট সোনার খনি দেখান। যার ওজন প্রায় সাড়ে উনিশ কেজি বলে জানান কবিরাজ। এরপর কবিরাজ জানান এ স্বর্ণগুলো পেতে হলে সাতক্ষীরা লাশকাটা ঘরের পাশে শ্মশানের বাবার থানে দেড়লাখ টাকা সাদকা দিতে হবে। বাবা রাজি খুঁশি হলে তোমরা পেয়ে যাবে প্রায় সাড়ে উনিশ কেজি সোনা। এমতাবস্থায় শাহীনুর রহমানের পরিবার তড়িৎ ধনী হওয়ার লোভে পড়ে দুষ্ট কবিরাজের মিষ্টি কথায় রাজি হয়ে যান। তার কিছুদিন পরে শাহীনুর রহমান তাদের সহায় সম্বল বিক্রি ও বন্ধক রেখে মোট দেড়লাখ টাকা সাতক্ষীরায় বাবার থানে দিয়ে আসেন। কবিরাজের শর্ত থাকে বাবার থানে টাকা দিয়ে আর পিছু ফেরা যাবে না, ফিরলে ছেলে মারা যাবে। বাবার থানে টাকা দিয়ে আসার পর থেকে কবিরাজ ও তার সহকারীরা স্বর্ণ তুলে দেওয়া তো দূরের কথা ঘটনার পর থেকে তারা এলাকা ছেড়ে অন্যত্র চলে গেছে বলে জানা গেছে। এ ব্যাপারে খোজ নিয়ে জানতে চাইলে কবিরাজ আঞ্জুয়ারা বেগম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, মামলা হামলায় না গিয়ে আমি আপনাদের ও শাহীনুরদের নিয়ে বসাবসির মাধ্যমে একটি মিমাংসা করে নেব। কিন্তু পরবর্তীতে তার মুঠো ফোনে একাধিক বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনবারই ফোন রিসিভ করেন নি। এব্যাপারে ভুক্তযোগী শাহীনুর ইসলামের পরিবার জানান, আমরা অতি দরিদ্র পরিবারের মানুষ। ভুয়া কবিরাজের মিথ্যা কথা বিশ্বাস করে আমরা আমাদের সহায় সম্বল বন্ধক বা বিক্রয় করে এখন পথে বসে গেছি। সময় শেষ হতেই পাওনাদারদের পাওনা মিটিয়ে দিতে না পারলে হয়তো আত্মহত্যা করা ছাড়া আর কোন পথ থাকবে না।
এমতাবস্থায় সমাজের শত্রু, সমাজের কলঙ্ক, ভুয়া কবিরাজ আঞ্জুয়ারা বেগম ও তার সহযোগীদের অতি দ্রুত গ্রেপ্তারপূবর্ক আইনের আওতায় নিয়ে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহনের জোর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকার সচেতন মহল।