কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করে কৃষকের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন ইয়ারব হোসেন


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৩, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: পরিবেশ বান্ধব কৃষিকে এগিয়ে নিতে কাজ করে চলেছেন সাংবাদিক ইয়ারব হোসেন। কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করে কৃষককের মধ্যে সাড়া ফেলেছেন তিনি। সার তৈরি করে বিনা পয়সায় কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করছেন। কৃষকরা সেই সার ব্যবহার করে ভাল ফলন পাচ্ছেন। ইয়ারব হোসেনের দেখাদেখি এলাকার অনেক কৃষক সার নিয়মিত ব্যবহার করছেন।
ইয়ারব হোসেন ইতোমধ্যে সদর উপজেলার তুজলপুর গ্রামের ১৫ জন কৃষককে কেঁচো কম্পোস্ট তৈরির জন্য সিমেন্টের নাঁদা, কোঁচো ও চাল তৈরির ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ইতোমধ্যে পরিবেশ বান্ধব ও কৃষি সম্প্রসারণে তার জৈব সার গ্রামে গ্রামে বিনামূল্যে বিতরণ করেছেন। শুধুমাত্র কৃষি ও কৃষকদের মুখে হাসি ফুটানোর জন্য তার এ উদ্যোগ।
ইয়ারব হোসেন বলেন, ‘প্রথম প্রথম কেঁচোতে হাত দিলে গা ঘিন ঘিন করতো। তারপরও প্রাণিটি কৃষকের পরম বন্ধু তাই তাকে আর অবহেলা করতে পারলাম না। মাটির উর্বরা শক্তি বাড়াতে প্রকৃতির লাঙ্গল হিসেবে কাজ করে। মাটির জৈব সার তৈরিতেও এর জুড়ি নেই।’ একটা সময় ছিল যখন মাটি খুঁড়লেই কেঁচো কিলবিল করতো। বর্তমানে জমিতে মাত্রাতিরিক্ত রাসায়নিক সার ও কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জমির উর্বরা শক্তি যেমন কমেছে, তেমনি কমেছে কেঁচোও। এর কুফল ভোগ করেছে কৃষকরা। কেঁচো দিয়ে জমির উর্বরা শক্তি বাড়াতে তৈরি করা হচেছ কেঁচো দিয়ে জৈব সার। যা ইতোমধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে।
ইয়ারব হোসেন জানান, বছর খানেক আগে কৃষি বিভাগের আয়োজনে কৃষকদের নিয়ে এক অনুষ্ঠানে যান। সেখানে গোবর দিয়ে কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরির উপর আলোচনা শোনেন। ওই কথা শোনার পর শুরু করেন গোবর দিয়ে কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি। কৃষি বিভাগের সহযোগিতায় কেঁচো নিয়ে প্রথমে ৪টি সিমেন্টের নাঁদা দিয়ে শুরু করেন এ চাষ। খুব সহজে তৈরি করা যায় এ সার। খরচ নেই বললেই চলে। বর্তমানে ২২টি নাঁদায় তৈরি করা হচ্ছে সার। এসব কেঁচো দেখতে লাল। গোবর খেয়ে এগুলো যে মল ছাড়ে এটিই জৈব সার। দেখতে চায়ের দানার মতো লালচে কলো। সার জনপ্রিয় করার জন্য কৃষকদের মধ্যে বিনামূল্যে বিতরণ করা হচেছ। তিনি দুই বিঘা ধানের জমিতে সার ব্যবহার করেছেন। ব্যবহারের ফলে তার জমিতে বাড়তি ফলন দেখে আশপাশের কৃষকরা জৈব সার ব্যবহারে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। এ সার জমিতে ব্যবহার করা হলে জমিতে কোন প্রকার রাসায়নিক সার ব্যবহার করা লাগে না। এছাড়া সার প্রথমে বিনামূল্যে দিলেও এখন আর দেওয়া লাগছে না। কৃষকদের প্রয়োজনে তারা নিজেরা কেঁচো সার বাড়িতে তৈরি করছেন। নিজের গরু থাকায় কেঁচো চাষ ও সার উৎপাদনে বাড়তি কোন খরচ নেই। শীতকাল ছাড়া সারা বছর কেঁচোর বাচ্চা হয়। আর এগুলোর বংশবিস্তারও খব দ্রুত ঘটে। এ কারণে অল্প দিনে ৫ হাজার কেঁচো থেকে বর্তমানে প্রায় ৩ লাখে পৌছে।
সদর উপজেলার তুজলপুর গ্রামের কৃষক আমিনূর ইসলাম জানান, তিনি ১০ কাঠা জমিতে পটল চাষ করেছেন। ইউরিয়া সারের বদলে ইয়ারব হোসেনের উদপাদিত ব্যবহার জৈব সার ব্যবহার করছেন। এতে তার খরচ কম হচ্ছে। জমির উর্বরতা শক্তি বেড়ে পটলের চেহারা হচ্ছে দেখার মত। আমিরুল ইসলাম জানান, কৃষককের বন্ধু হিসেবে পরিচিত ইয়ারব হোসেন আমাকে ৪টি সিমেন্টের নাঁদা, কেঁচো ও ছাউনির জন্য বিনামূল্যে টিন কিনে দিয়েছেন। তার গরু রয়েছে। বাড়ির গোবর আর ইয়ারব হোসেনের দেওয়া উপকরণ দিয়ে তিনি বর্তমানে বাড়িতে নিজে জৈব সার তৈরি করছেন। বাড়িতে তৈরি জৈব সার নিজের জমিতে ব্যবহার করে কৃষিতে লাভবান হচ্ছেন। একই গ্রামের আবু সিদ্দিক, গোলাম রহমান, জাহাঙ্গীর হোসেন, নূরুল হকসহ ২২ জন কৃষককে তার মত কেঁচোসহ সকল উপকরণ বিনামূল্যে দিয়েছেন। এতে তারা উপকৃত হয়েছেন। কৃষিকে এগিয়ে নিতে ইয়ারব হোসেনের নিরবে কাজ করে চরেছেন।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবীদ আমজাদ হোসেন জানান, কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করে ইতোমধ্যে জেলাব্যাপী পরিচিত হয়ে উঠেছেন ইয়ারব হোসেন। তার সার নিজের তৈরি দেখে গ্রামের ২২ জন কৃষক েেকঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করছেন। কেঁচো কম্পোস্ট সার ফসল উৎপাদনে সহায়ক ভুমিকা রাখে। এ সারে রয়েছে পানি, নাইট্রোজেন, পটাশ, ম্যাগনেশিয়াম, ফসফরাস, সালফার ও বোরন। এ সার মাটির পুষ্টিগুন বৃদ্ধি করে। বেলে মাটির পানি ধারণ ক্ষমতা বৃদ্ধিতে সাহয্য করে। মাটিতে উপকারি অনুজীবের কার্যক্রম বৃদ্ধি করে। মাটির ভৌত রাসায়নিক ও জৈবিক গুনাগুন বৃদ্ধি করে। এ স্যার ব্যবহারে মাটির গঠন উন্নত হয় এবং উৎপাদিত ফসলের গুনগতমান ভালো হয়।
খামারবাড়ির উপ পরিচালক কাজী আব্দুল মান্নান জানান, কৃষক ইয়ারব হোসেন কৃষিকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে কাজ করেছে। তিনি কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরি করে সাধারণ কৃষকের মধ্যে দিচ্ছে। ইয়ারব হোসেনের কেঁচো কম্পোস্ট সার তৈরির খামার পরির্দশন করেছেন। তার নিজের হাতের কাজ আমি দেখেছি। তিনি একজন কৃষকের বন্ধু হিসেবে পরিচিতি লাভ করেছেন। ইতোমেধ্যে বৃক্ষ সংরক্ষণ, গবেষণার জন্য প্রধানমন্ত্রীর পুরস্কার পেয়েছেন।