জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার শেষ মুহূর্তে শিক্ষার্থীদের করণীয়


প্রকাশিত : অক্টোবর ২৮, ২০১৮ ||

প্রিয়, জেএসসি ও জেডিসি পরীক্ষার্থী বন্ধুরা! প্রীতি ও শুভেচ্ছা নিও। আর কয়েকদিন পেরুতেই পরীক্ষা। ইতোমধ্যে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছো। শেষবারের মতো নিজেদেরকে ঝালাই করে নেয়ার কাজটা চলমান। পরীক্ষার্থীদের সকলের লক্ষ্য ভালো ফলাফল অর্জন করা। আর এ প্রক্রিয়া যাতে সুদূর প্রসারী হয় সে লক্ষ্যে আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। আশা রাখি, নিম্নলিখিত পন্থা অবলম্বনের মাধ্যমে নিজেদেরকে এক ধাপ এগিয়ে রাখবে। পন্থাসমূহ নিম্নরূপ-
১. রিভিশন: রিভিশনের কোন বিকল্প নেই। এটার মাধ্যমে পড়াটা স্থায়ী স্মৃতিতে (খড়হম ঃবৎস সবসড়ৎু) সন্নিবেশিত হয়। পরীক্ষার্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্র্থীরা যা পড়ে শেষ করেছো সেগুলোকে পুন:পুন: রিভিশন করবে। নতুন করে কোন কিছু পড়ার প্রয়োজন নেই, তাহলে আবার জগাখিচুড়ি হয়ে যাবে।
২. সময়ের সদ্ব্যবহার: আর মাত্র হাতেগোনা কয়েকটা দিন রয়েছে। পরীক্ষার আগের সপ্তাহ এবং পরীক্ষার রাত সবচেয়ে গুরুত্ববহ। কারণ এ সময়ের পড়াটা স্মৃতিতে ভালোভাবে সংরক্ষিত থাকে। অনেকেই আগ থেকে সবকিছু পড়ে ফেলেছে। কিন্তু পরীক্ষার কয়েকদিন আনন্দে আত্মহারা হয়ে একেবারে পড়াশুনা করেনা। এরকম ক্ষেত্রে ফলাফলটা বেশিরভাগ বিপরীতে যায়। সুতরাং এ সময়ের প্রতিটা মুহূর্ত মূল্যবান জ্ঞান করবে।
৩. সাজেশনের পিছনে ছোটাছুটি না করা: ইতোমধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও অন্যান্য মাধ্যম ব্যবহার করে শাজেশন সংগ্রহের হিড়িক বিদ্যমান। কোন কোন কোচিং বা ব্যক্তিবর্গ বলছে,আমাদের সাজেশন অনুসরণ করলে নিশ্চিত সাফল্য। আমি বলবো, তোদের সাফল্য তোরা ধুয়ে খা। তোমরা যা পড়েছো,তোমাদের শিক্ষকরা যে যে নির্দেশনা দিয়েছে সেগুলো মাথায় রেখে শেষ সময়ের প্রস্তুতি নাও। অযথা গাঁজাখুরি অথবা নামসর্বস্ব শাজেশনের পিছনে ছোটাছুটি করে মূল্যবান সময় খোয়াইয়া না।
৪. শিক্ষকের সান্নিধ্য: টার্ম পরীক্ষায় অনেকেই শর্টকাট পদ্ধতি অবলম্বন করে। কিন্তু এ পরীক্ষার ক্ষেত্রে তা মোটেও তা যুক্তিযুক্ত নয়। আর এখন পরীক্ষার্থীদের প্রতিটা বিষয় পরখ করতে হবে সুনিপুণভাবে। সুতরাং মাঝেমধ্যে নানারকম সমস্যা দৃশ্যমান হতে পারে, সেক্ষেত্রে বিষয়ভিত্তিক শিক্ষকের পরামর্শ নিবে। অন্যথায় তা ভীষণ দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়ায় যা পক্ষান্তরে ভালো ফলাফলের পথে অন্তরায়।
৫. সুষ্ঠু পরিকল্পনাঃ পরিকল্পনা ব্যতিরেকে কোন কাজ সফলতার মুখ দেখে না। বলা হয়ে থাকে, যথাযথ পরিকল্পনার মাধ্যমেই অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হয়ে থাকে। পরিকল্পনা মুলত একধরণের কূটকৌশল। অর্থাৎ কেমন করে তুমি সৃজনশীল প্রশ্নের উত্তর দিবে, কোন প্রশ্ন আগে লিখবে, কোন কোন অধ্যায় থেকে প্রশ্নের উত্তর করবে ইত্যাদি ইত্যাদি। এগুলো নিজের মতো করে করবে। কারণ সবাই স্ব-স্ব চিন্তাচেতনা ও মননশীলতার অধিকারী।
৬. আত্মবিশ্বাস: সফলতার পিছনে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অনুঘটক হলো আত্মবিশ্বাস। পরীক্ষার্থীদের প্রস্তুতি যাইহোক মনে সবসময় সাহস সঞ্চার করবে। ভাববে তুমি সব পারবে, তোমার দ্বারা সবকিছু সম্ভব। অনেকেই ভালো পড়ালেখা করে, কিন্তু আত্মবিশ্বাসের অভাবে অনেকসময় খারাপ ফলাফল করে থাকে। মূলত আত্মবিশ্বাস’ই একজন মানুষের সফলতা অর্জনে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
৭. প্রয়োজনীয় উপকরণ সংগ্রহে রাখা: পরীক্ষা সহায়ক উপকরণগুলো হাতের নাগালে রাখবে। যেমন- প্রবেশপত্র, কলম, পেন্সিল, রুলার, শার্পনার, ইরেজার, জ্যামিতি বক্স, ক্যালকুলেটর ও অনুরুপ অন্যান্য উপকরণ।
৮. স্বাস্থ্য সচেতনতা: আমরা সকলেই জানি, ঐবধষঃয রং ঃযব ৎড়ড়ঃ ড়ভ ধষষ যধঢ়ঢ়রহবংং অর্থাৎ স্বাস্থ্য সকল সুখের মূল। সাম্প্রতিক সময়ে আবহাওয়া পরিবর্তনে ভাইরাস জ্বরের প্রকোপটা মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়েছে। পরীক্ষার্থীরা অনেকেই আক্রান্ত হয়েছে অথবা হওনি। যারা হয়েছে বা কিছুটা খারাপ অনুভব করছে অতিসত্বর ডাক্তারের স্মরণাপন্ন হবে। আর যারা হওনি তারা সর্বাধিক সকর্ততা অবলম্বন করবে। আবার অনেকেই এ সময় অধিক রাত জেগে পড়াশুনা করে অসুস্থ হয়ে যায় বা কারও বাতিক রয়েছে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অসুস্থ হওয়া। সুতরাং প্রয়োজনীয় ঘুম ও বিশ্রাম নিবে। মনে রাখবে, ভালো ফলাফলে করতে সুস্বাস্থ্য অধিক জরুরী।
৯. প্রার্থনা ও গুরুজনের আশির্বাদ: সর্বশক্তিমান বিধাতার কাছে নিয়মিত প্রার্থনা করবে সফলকাম হওয়ার জন্য এবং সাথে সাথে পিতা-মাতা ও গুরুজনের আশির্বাদ নিবে।
সর্বোপরি, সম্মানিত অভিভাবকদেরকে অনুরোধ করবো, এ সময়টা আপনার স্নেহের সন্তানদের সান্নিধ্যে থাকুন যথাসম্ভব, তাদেরকে উৎসাহ দিন, আশাব্যঞ্জক বাণী শোনান যা তাদের ভিতরে এক ধরণের ভালো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে এবং এটাই তাদের অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছে দিবে অনায়াসে। অগ্রজ হিসেবে তোমাদের একগাল মিষ্টি হাসি দেখার প্রতিক্ষায় রইলাম। অনি:শেষ ভালোবাসা তোমাদের প্রতি।
লেখক: আব্দুল্লাহ্-আল-মামুন, শিক্ষার্থী সমাজকর্ম বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা