খালেদার মুক্তি চান না ড. কামাল, ফখরুলর!


প্রকাশিত : অক্টোবর ৩০, ২০১৮ ||

বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলার রায় ঘোষণার জন্য ২৯ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আদালত। জিয়া চ্যারিটেবল ট্রাস্টের নামে আসা সোয়া তিন কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে এ মামলা করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বেগম খালেদার এই দুর্নীতির মামলার রায় নিয়ে চিন্তিত মির্জা ফখরুল, রিজভীরা। তারা চায় না এই মামলায় বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাক কারণ খালেদা জিয়া মুক্তি পেলে ড. কামাল এর সাথে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টে যোগদান করতে সমস্যা হবে। ডঃ কামাল ও চাইছেন না খালেদা মুক্তি পাক। কারণ খালেদা মুক্তি পেলে ড. কামাল বিএনপি এর উপর খবরদারি করতে পারবে না। সেক্ষেত্রে তার কর্তৃত্ব কমে যাবে।
এর আগে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে জিয়া অরফানেজ ট্রাস্ট দুর্নীতি মামলায় সাজাপ্রাপ্ত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার পক্ষে লড়তে সিনিয়র আইনজীবী ড. কামাল হোসেনের দ্বারস্থ হয়েছিল বিএনপি। কিন্তু তখন সরাসরি না করে দিয়েছিলেন ড. কামাল হোসেন। বিশেষ সূত্রে জানা গেছে শুধু ড. কামাল কিংবা ফখরুল রিজভিরা নন, বিএনপির কেন্দ্রীয় অনেক সিনিয়র নেতাই চাচ্ছেন না এই মুহূর্তে খালেদা জিয়া মুক্তি পাক। বর্তমানে বেগম খালেদা জিয়া এতিম এর টাকা মেরে খাওয়া মামলায় সাজাভোগ করছেন।

একটি বিশেষ সূত্র বলছে, বিএনপির মতো একটি রাজনৈতিক দল এতটা দুর্বল নয় যে খালেদা জিয়ার মুক্তির আন্দোলনে যেতে ভয় পাবে। অথচ দলটির নেত্রী দুর্নীতির মামলায় আট মাসের অধিক সময় ধরে জেল হাজতে। দলটির সিনিয়র নেতারা প্রায় প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং করে, চিঠি লিখে অভিযোগ করে। খালেদা জিয়াকে মুক্ত করতে কোনো সিনিয়র নেতার ইচ্ছার প্রতিফলন দেখা যায় না। মুক্তির বিষয়ে দুএকটা কথা বলেই সিনিয়র নেতারা যে যার মতো ব্যবসা-বাণিজ্য, কাজ-কর্মে ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অথচ বিএনপির শাসনামলে উপরোক্ত নেতারা সম্পদের পাহাড় গড়েছেন। কোটি কোটি টাকা নামে-বেনামে বিদেশে পাঠিয়ে বিএনপির পাপের বোঝা ভারী করেছেন এই নেতারা। কোনো সিনিয়র নেতা বিএনপিকে ভালবেসে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বাস্তবিক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে গেলে তাকে মির্জা ফখরুলদের রোষানলে পড়তে হয়। মির্জা ফখরুলরা খালেদা জিয়ার মুক্তি চান না । খালেদার কারাজীবনকে পুঁজি করে নিজেদের ভবিষ্যত গোছাতে চান সিনিয়র নেতারা। খালেদার ব্যক্তিগত সহকারী শিমুল বিশ্বাসের বিরুদ্ধে গোপন তথ্য পাচার করে দেওয়ারও অভিযোগ রয়েছে।