কলেজ পড়–য়া মেয়েকে গাছের সঙ্গে বেঁধে ঘরবাড়ি ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় দ্রুত বিচার আইনে মামলা!


প্রকাশিত : November 3, 2018 ||

মনিরুল ইসলাম মনি: ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীদের দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে এক বিধবার কলেজ পড়–য়া মেয়েকে সুপারী গাছের সঙ্গে বেঁধে রেখে দীর্ঘ ২৫ বছরের বসতবাটি ও সীমান প্রাচীর ফিল্মি স্টাইলে ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। সাতক্ষীরা শহরের সুলতানপুরের মোছা. নাজেরা বেগম বাদি হয়ে বৃহষ্পতিবার সাতক্ষীরার অতিরিক্ত মুখ্য বিচারিক হাকিম আদালতে দ্রুত বিচার আইনে এ মামলা দায়ের করেন। বিচারক হুমায়ুন কবীর তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলার বিবরনে জানা যায়, শহরের সুলতানপুরের পিটিআই মাঠের স, মিলের পাশে স্বামী এল্লারচর সরকারি মৎস্য খামারে নিহত আব্দুল অহিদের কেনা ১০ শতক জমিতে ঘরবাড়ি বানিয়ে সেখানে দু’মেয়েকে নিয়ে বসবাস করে আসছিলেন নাজিরা বেগম। তহশীলদার একই এলাকার মোখলেছুর রহমান কয়েক বছর আগে ওই জমি কিনেছেন দাবি করে তাদেরকে উচ্ছেদের চেষ্টা করে আসছিল। এ নিয়ে দেওয়ানী আদালতে মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এরপরও গত ২৫ অক্টোবর সকাল ১০টার দিকে মোখলেছুর রহমান ও তার শ্যালক জিয়াউল হকের নেতৃত্বে ২০/২৫ জন সশস্ত্র সন্ত্রাসী নাজিরা খাতুনের কলেজ পড়–য়া মেয়ে সানজিদা অহিদ ডালিয়াকে ঘর থেকে টেরে হিচড়ে বের করে উঠানে একটি সুপারী গাছের সঙ্গে বেঁধে রাখে। পরে তারা বাড়ির প্রাচীর, ঘরের দরজা, জানালা ও দেয়াল ভাঙচুর করে। পরে তারা ঘরের মধ্যে থাকা আলমারি ভাঙচুর করে টাকা ও সোনার গহনা লুট করে। একইভাবে তারা ঘরে থাকা টেলিভিশন, সোফা সেট, ফ্যানসহ কয়েক লাখ টাকার মূল্যবান জিনিসপত্র নিয়ে চলে যায়। সন্ত্রাসী হামলা এতটাই সহিংস ছিল যে পার্শ্ববর্তী লোকজন প্রতিবাদ করতে সাহস পায়নি। মামলা থেকে নিজেকে বাঁচাতে মোখলেছ ঘটনার সময় অফিস চলাকালিন সময় বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার পরে ঘটায়।
নাজিরা বেগম আরো জানান, ২৫ অক্টোবর হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের পর দ্বিতীয় দফায় আবারো হামলার আশঙ্কায় তিনি গত ৩০ অক্টোবর মোখলেছুর রহমান ও জিয়াউল হকের বিরুদ্ধে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৪৫ ধারায় মামলা দায়ের করেছেন। বিচারক অনিন্দিতা রায় দ্বিতীয় পক্ষকে কারণ দর্শানোর জন্য আগামি ২৭ নভেম্বর দিন ধার্য করেছেন।