জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে সেবার দরজা খোলা


প্রকাশিত : নভেম্বর ৮, ২০১৮ ||

আব্দুস সামাদ: গণশুনানী দেশের জনগণ ও সরকারের মাঝে নিবিড় সম্পর্ক বজায় রেখে বর্তমান জনবান্ধব সরকারের ইতিবাচক এবং কল্যাণকামী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরতে ভূমিকা রাখবে। এতে জনগণ উপকৃত হবে। তাই জেলার সেবক হিসেবে প্রতি বুধবার সকাল ৯টা থেকে জনগণের কথা শুনে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন সাতক্ষীরার জেলা প্রশাসক এসএম মোস্তফা কামাল। জেলা প্রশাসক হিসেবে যোগদানের পর থেকে তিনি সেবার দরজা খোলা রেখেছেন। গত একমাসে বেশ কয়েটি কার্যকর গণশুনানী করেছেন তিনি। এসময় জণগণের কথা শুনে কোনটির তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা গ্রহণ করেছেন আবার কোনটির ব্যবস্থা গ্রহণের নিদের্শ দিয়ে প্রেরণ করেছেন সংশ্লিষ্ট দপ্তরে।
সড়ক দুর্ঘটনা রোধে এবং নির্বিঘেœ সড়কে চলাচলের জন্য সড়কের পাশে ইট, বালি, রড ও খোয়াসহ বিভিন্ন ভাবে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমান আদালত পরিচালান করেছেন। তার অংশ হিসেবে শহরের মুন্সিপাড়া এলাকার নবারুণ স্কুলের রাস্তার ওপর ইট বালি রড ইত্যাদি রাখায় একজনকে দোষী সাব্যস্ত করে জরিমানা করা, শহরের হাটের মোড়, মুন্সিপাড়া, সুলতানপুর, আমতলা রোড, পোস্ট অফিস মোড়ে রাস্তার উপরে বালি, ইট রেখে স্থানীয় সরকার (পৌরসভা) আইন, ২০০৯ এর ১০৮ ধারা লংঘন করার আইন অমান্যকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। পাশাপাশি বিভিন্ন পরিমাণে অর্থদন্ড করা হয়েছে। আইন থাকলেও এতদিন তার তেমন কোন কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দেখা যায়নি। সাম্প্রতি এ নিয়ে কার্যক্রম শুরু হলে জনগণের মধ্যে নতুন ভাবে প্রাণের সঞ্চার হয়েছে। সেই সাথে দাবি উঠেছে দিনের বেলায় শহরের ভেতর ভারি যানবহনের প্রবেশ বন্ধ করা, পানির গাড়ির প্রবেশ বন্ধ করা, ট্রলি, ইঞ্জিনভ্যানসহ বিভিন্ন মালবাহি যানবহন প্রবেশ বন্ধ, দিনের বেলা রাস্তা বন্ধ করে বড় বড় ট্রাক দাড় করিয়ে মালামাল আনলোড করাসহ অবৈধ পার্কিং বন্ধের। দাবি আছে শহরের সড়কে নির্মাণ করা ছোট-বড় স্পিড ব্রেকারগুলো রং করে দৃর্শমান করার।
প্রশ্নপত্র ফাঁস প্রতিরোধ করে শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খল পরিবেশে জেলার প্রতিটি কেন্দ্রে জেএসসি, জেডিসি ও ভোকেশনাল পরীক্ষা গ্রহণের জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন। গুণগত ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতকল্পে পরীক্ষা কেন্দ্রের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় প্রতিটি কেন্দ্রে একাধিক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট নিয়োজিত করেছেন। জেলায় শান্তিপূর্নভাবে চলছে এ পরীক্ষা। আমাগীতে সকল পরীক্ষা শান্তিপূর্ণভাবে গ্রহনের প্রত্যয় ব্যক্ত করেন জেলা প্রশাসক। এসএম মোস্তাফা কামাল। একই সাথে ইভটিজিংকে সমাজের ব্যাধি হিসেবে চিহ্নিত করে শহরের গুরুত্বপূর্ণ স্কুল, কলেজ ও পার্কে অভিযান পরিচালনা করেছন। এ অভিযোনে কতিপয় যুবকদের সতর্কও করা হয়েছে। ইভটিজিং (যৌন হয়রানি), বাল্য বিবাহ, জঙ্গিবাদ ও যৌতুকের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে তিনি সকলের প্রতি আহবান জানান।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, দুর্নীতি, মাদক, বাল্যবিবাহ, যৌতুক, যৌন হয়রানি, ইভটিজিং, মানব পাচার, নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা প্রতিরোধ এবং এসডিজির স্থানীয় করণে স্থানীয় সরকার কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণ করে চলেছেন। জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে প্রবেশের প্রধান সিঁড়ির মুখে প্রতিস্থাপিত হয়েছে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ দশ উদ্যোগ ও এসডিজির ১৭টি লক্ষ্যের সমন্বয়ের প্রতিচ্ছবি। ১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত সাতক্ষীরার লাইব্রেরীর মানোন্নয়ন, পুস্তক সংখ্যা বৃদ্ধি, পাঠক সংখ্যা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। একটি সমৃদ্ধ জাতি গঠনে পাঠাভ্যাসের ভূমিকা তুলে ধরে সবাইকে বই পড়ার জন্য এবং বই সংগ্রহের জন্য সাতক্ষীরা কেন্দ্রীয় পাবলিক লাইব্রেরীতে আসার আমন্ত্রণ জানান।
তারই (জেলা প্রশাসক) নির্দেশে আশাশুনি উপজেলার বুধহাটায় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন ২০০৯, করাত কল (লাইসেন্স) বিধিমালা ২০১২, পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধি ২০১০ এই তিনটি ভিন্ন আইনে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হয়েছে। এসময় অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার প্রস্ততকরন ও পরিবেশন, অপচনশীল প্লাস্টিকের প্যাকেটে পণ্য সরবরাহ এবং করাতকল লাইসেন্স না থাকায় কয়েকজনকে অভিযুক্ত করে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এতে আইন অনুযায়ী ভিন্ন ভিন্ন পরিমাণ জরিমানা করে এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ না করতে নির্দেশ প্রদান করে ভ্রাম্যমাণ আদালত । একইভাবে পাটকেলঘাটা বাজারে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশে খাবার তৈরীর দায়ে ১০টি রেস্টুরেন্টের মালিককে ৭টি মামলায় ১০ হাজার ৫শত টাকা জরিমানা করা হয়। এছাড়াও আশাশুনি উপজেলার গুনাকরকাটিতে ফাঁসজাল দিয়ে ৬টি শিয়াল নির্মমভাবে পিটিয়ে মারার বিষয়ে জেলা ম্যাজিস্ট্রেট হিসেবে সংশ্লিষ্ট বিভাগকে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের অনুরোধ করেন।
সাতক্ষীরাবাসীর প্রাণের দাবি প্রাণসায়র খালের নাব্যতা ফেরাতে তিন দিন সকালে সাতক্ষীরা বাসীকে নিয়ে পায়ে হেটে খালের এমাথা ওমাথা পরিদর্শন করেছেন। পরিদর্শন শেষে প্রাণসায়র রক্ষায় ঐক্যের শপথ করেন উপস্থিত সকলে। নির্বাচনের পর এ বিষয়ে সকল কার্যক্রম হাতে নেবেন বলেও ঘোষণা দিয়েছেন। বিষয়গুলো নিয়ে উপর মহলে আলোচনা শুরুও করেছেন জেলা প্রশাসক। প্রাণসায়র বাঁচাতে মন্ত্রাণালয়ে দাবিও পেশ করেছেন তিনি।
এছাড়াও সাতক্ষীরা জেলার সার্বিক বিষয় নিয়ে তিনি আলোচনা করেছেন মুক্তিযোদ্ধা, রাজনৈতিক ব্যক্তি, সাংবাদিক, স্থানীয় পত্রিকার সম্পাদক, শিক্ষক, সুশীলসমাজ, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তা, এনজিও কর্মকর্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে। সরকারের বিভিন্ন উন্নয়ন কর্মকান্ডসহ উল্লেখ্য যোগ্য কার্যক্রম পরির্দশন করেছেন জেলার সাতটি উপজেলায়। সেখানে উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে সকল শ্রেণি পেশার মানুষের সাথে কথা বলেছেন জেলা প্রশাসক। এসব মুক্ত আলোচনার মাধ্যমে জেলায় বিদ্যমান বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে তা সামাধানের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন।
গত ৯ই অক্টোবর-১৮ মঙ্গলবার জেলায় শুরুটা করেছিলেন ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে নিহত সকল শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে শহীদ আব্দুর রাজ্জাকের সমাধীতে পুস্পস্তবক অর্পনের মাধ্যমে। আজ ৯ নভেম্বর-১৮ শুক্রবার এ জেলায় তার (জেলা প্রশাসকের) এ মাস যোগদান। ইতোমধ্যে জেলায় বিভিন্ন জনবান্ধব কাজ করে সাধারণ মানুষের মনে অনেকখানি জায়গা করে নিয়েছেন। জেলার জনবান্ধব এসব কর্মকান্ডের পথচলা আরও সুগম করতে জেলার সর্বস্তরের জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করেছেন।