কালিগঞ্জের সড়কে অবৈধ যানবাহনের বেপরোয়া চলাচল: ঘটছে দুর্ঘটনা


প্রকাশিত : নভেম্বর ১৫, ২০১৮ ||

 

 

নিয়াজ কওছার তুহিন: কালিগঞ্জের প্রধান সড়কসহ এ উপজেলার আভ্যন্তরীণ সকল সড়কে দাপটের সাথে চলাচল করছে নসিমন- করিমন, ভটভটি, ট্রলি, আলমসাধু, ড্যাম্পারসহ বিভিন্ন অবৈধ যানবাহন। শ্যালো ইঞ্জিনের সাথে লাগসই প্রযুক্তি কাজে লাগিয়ে নসিমন-করিমনসহ প্রচলিত বিভিন্ন নামের এসব যানবাহন চলাচলের ক্ষেত্রে উচ্চ আদালতের সরাসরি নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও কিছু অসাধু পুলিশ সদস্য, রাজনীতিক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মদদে সড়কে তারা দুর্বার গতিতে চলছে। ফলে একদিকে সরকার রাজস্ব হারাচ্ছে, অন্যদিকে ঝুঁকিপূর্ণ এসব যানবাহন হরহামেশাই কেড়ে নিচ্ছে প্রাণ। অনেক ক্ষেত্রে প্রাণে বেঁচে গেলেও সারাজীবনের জন্য পঙ্গুত্ব বরণ করছে অসংখ্য নিরীহ মানুষ।

 

সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, কালিগঞ্জ-সাতক্ষীরা, কালিগঞ্জ-নূরনগর, কালিগঞ্জ-মুন্সীগঞ্জ, কালিগঞ্জ-চাম্পাফুল-আশাশুনি, কালিগঞ্জ-বাঁশতলা বাজার, কালিগঞ্জ-কৃষ্ণনগর বাজার সড়কসহ আভ্যন্তরীণ সকল সড়কে অবৈধ নসিমন-করিমন, ভটভটি, ট্রলি, যন্ত্রদানব খ্যাত ড্যাম্পারের দৌরাত্ম উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। অস্বাভাবিক গতিতে এসব অবৈধ যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কে বৈধ যানবাহনগুলোর জায়গা মিলছে না। নিরাপদে হাটাচলা করতে পারছেন না পথচারিরাও। তাছাড়া অসংখ্য মোটরচালিত ভ্যান ও ইজিবাইক রাস্তার মধ্য ভাগ দিয়ে ইচ্ছামতো চলাচল করছে। সম্প্রতি এদের যথেচ্ছ চলাচল পথযাত্রা অনিরাপদ করে তুলেছে। এসব যানবাহনের চালকদের সাধারণ নিয়ম-কানুনের প্রতি তোয়াক্কা নেই। স্থানীয় কারিগরদের দ্বারা অনুমোদনহীন ভাবে তৈরী এসব যানবাহনে নেই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা। তাছাড়া কোনরূপ প্রশিক্ষণ ছাড়াই অপ্রাপ্তবয়স্করাও যানবাহনের চালকের আসনে বসছে। বেপরোয়া গতিতে চলাচলকারি এই যানবাহনগুলো জরুরি মুহূর্তে ব্রেক করতে না পারায় দুর্ঘটনার মুখোমুখি হচ্ছে। তাছাড়া অন্যান্য যানবাহনের সাথে পাল্লা দিয়ে গতি বাড়িয়ে দেয়ায় মারাত্মক দুর্ঘটনার আশংকা বহুগুণ বেড়ে গেছে বলে যাত্রীসাধারণের অভিযোগ। বিশেষ করে রাতের বেলায় সড়কে চলাচলরত এসব যানবাহনে পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা না থাকায় যাতায়াতকারীদের ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। তারপরও উদ্ভট কায়দায় তৈরী এসব যানবাহনে যাত্রীর অভাব হয় না। সাধারণ যাত্রীদের মতে, দুর্ঘটনার শংকা সত্ত্বেও বিশেষ পরিস্থিতিতে অনেকটা বাধ্য হয়ে অবৈধ যানবাহনে যাতায়াত করছেন তারা।

 

এদিকে প্রশাসনের নাকের ডগায় দাপিয়ে বেড়ানো এসব অনুমোদনহীন অবৈধ যানবাহন বন্ধে কার্যকর কোন ব্যবস্থা নিতে দেখা যায় না। ট্রাফিক সপ্তাহটুকুতেই অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান সীমাবদ্ধ থাকে। মাঝে মাঝে বাস মালিক সমিতি ও সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ইউনিয়নের দাবির মুখে অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে প্রশাসন সাময়িক ব্যবস্থা নিলেও সেটি বেশীক্ষণ স্থায়ী হয় না। এর মধ্যেও এক শ্রেণির অসাধু শ্রমিক সড়কে চলাচলরত অবৈধ যানবাহনে আটক করে তাদের নিকট থেকে অর্থ আদায় করে চলাচলের সুযোগ করে দিচ্ছে। অনেকটা প্রকাশ্যে এসব বেআইনী কার্যক্রম চললেও এব্যাপারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ পদক্ষেপ নেন না বলে সচেতন মহল আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন। তাদের মতে, প্রায় সময়ই সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নজর থাকে শুধু মোটর সাইকেলের দিকে। এদের বৈধ কাগজপত্র, চালকের ড্রাইভিং লাইসেন্স, আরোহীদের হেলমেট না থাকলে নেয়া হয় কড়াকড়ি ব্যবস্থা। অথচ অবৈধ যানবাহনগুলো বন্ধে কার্যকর কোনো ব্যবস্থা না নেয়ায় তারা বেশ হতাশ। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানি ও পঙ্গুত্ববরণ রোধ করতে উপজেলার প্রধান ও আভ্যন্তরীণ সড়কগুলোতে চলাচলকারী অবৈধ যন্ত্রদানবের বেপরোয়া গতি কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ বা চলাচল পুরোপুরি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের নিকট জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।