জেলার চারটি আসনে মনোনয়ন নিয়ে তৃণমূলের কর্মীরা বিভ্রান্তিতে


প্রকাশিত : নভেম্বর ২৩, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: জেলার চারটি আসনে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে একেক সময় একেক নেতার মনোনয়ন পাওয়ার খবর নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়িয়ে পড়েছে। এতে করে তৃণমূলের কর্মীরা কিছুটা হতাশ। নেতারাও তাদের সঠিক কোনো তথ্য দিতে পারছেন না। মনোনয়ন পাওয়ার আশায় তারা ঢাকায় অবস্থান করায় তৃণমূল কর্মীরা কোনো কূল কিনারা পাচ্ছেন না। আওয়ামী লীগ-বিএনপিসহ সব রাজনৈতিক দলের একই চিত্র।

বিশেষ করে আওয়ামী লীগ-বিএনপি’র নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্বাচনে তফসিল ঘোষণার পর থেকে জেলার চারটি আসনেই নির্বাচনী আমেজ বিরাজ করছে। বিশেষ করে হাটবাজারে, দোকানে ও গ্রামগঞ্জের মোড়ে বিশ্লেষণ চলছে ‘কারা পাবেন মনোনয়ন’ অথবা জনপ্রিয়তায় কারা এগিয়ে আছে তা নিয়ে।

মনোনয়ন পেতে নিজ নিজ আসনের বেশীরভাগ নেতা এখন ঢাকায় অবস্থান করছেন। স্ব-স্ব আসনের মনোনয়ন নিয়ে ফেসবুক, বিভিন্ন  গণমাধ্যমসহ এলাকার মানুষের মুখে নানান খবর ছড়াচ্ছে। শেষ পর্যন্ত কারা মনোনয়ন পাচ্ছেন, তা নিয়ে কৌতুহলের শেষ নেই কারোর-ই।

বিভিন্ন সূত্রে শোনা যাচ্ছে, সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনে বর্তমান সংসদ সদস্য ওয়ার্কার্স পার্টির পলিটব্যুরো সদস্য এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪দলীয় জোট তথা মহাজোটের মনোনয়ন পাচ্ছেন। আবার স্থানীয় আওয়ামী লীগের ইউনিয়ন পর্যায়ের একাধিক নেতা বলছেন, ‘আমরা এলাকায় শুনছি সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান মনোনয়ন পাচ্ছেন।’

বিএনপি সমর্থক তালা উপজেলার ইসলামকাটি গ্রামের আব্দুল আহাদ বলেন, ’হাবিবুল ইসলাম হাবিব-ই মনোনয়ন পাবেন বলে তিনি মনে করছেন। তবে জামাত নেতা অধ্যক্ষ ইজ্জতউল্লাহ শরীক দল হিসেবেও আসতে পারেন।’

সাতক্ষীরা সদর-২ আসনের ঝাউডাঙ্গা ইউনিয়নের আ’লীগের সদস্য বলাডাঙ্গা গ্রামের আবুল হোসেন বলেন, মনোনয়ন পাওয়া নিয়ে একেক সময় একেক খবর আসছে। তাতে কর্মীরা বিভ্রান্ত হচ্ছেন। দলের প্রার্থী যেই হোক না কেন দ্রুত জানা গেলেই মঙ্গল।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার দেবনগর গ্রামের আ’লীগ নেতা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, দলীয় মনোনয়ন নিয়ে আমরা বিভ্রান্ত হচ্ছি। কারণ সঠিক খবর পাওয়া যাচ্ছে না। তিনি মনে করেন, যত দ্রুত মনোনয়নের খবর পাওয়া যাবে, ততই মানুষের মধ্যে ধোঁয়াশা কেটে যাবে।

সাতক্ষীরা-৪ আসনের শ্যামনগর উপজেলা সদরের চায়ের দোকানদার আলামিন হোসেন বলেন, তার দোকানে আসা লোকজন একেক সময় একেকজনের নাম বলছেন। তিনি মনে করেন, মনোনয়ন চুড়ান্ত হলেই এই বিভ্রান্তির অবসান ঘটবে।

সাতক্ষীরা-৪ শ্যামনগর আসনের আ’লীগের বর্তমান এমপি জগলুল হায়দার বলেন, ‘মনোনয়ন আমি পাচ্ছি কিনা জানি না। এনিয়ে কর্মীদেন আগ্রহের কমতি নেই। তাই আমি মনে করি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব মনোনয়ন চুড়ান্ত হোক, তাতে মানুষের বিভ্রান্তি কেটে যাবে।’

সাতক্ষীরা-১ আসনের বিএনপি’র মনোনয়ন প্রত্যাশি কেন্দ্রীয় বিএনপি’র প্রকাশনা সম্পাদক হাবিবুল ইসলাম হাবিব বলেন, ’এখনও পর্যন্ত দল কারাও নাম চুড়ান্ত করেনি। তাই কেউ মনোনয়ন পেয়ে যাচ্ছেন, এমন খবরে বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়।’

কলারোয়া উপজেলা নাগরিক কমিটির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এড. কামাল রেজা বলেন, ‘মানুষের নির্বাচন নিয়ে আগ্রহের শেষ নেই। এ থেকেই তাদের মধ্যে বিভ্রান্তি।’ তিনি বলেন, ’তার মধ্যেও কে কোন দলের মনোনয়ন পাবেন, তা নিয়ে ধোঁয়াশা রয়েছে।’

বিভিন্ন সূত্র মনে করছেন, সাতক্ষীরা-১ আসনে ধানেরশীষ প্রতীকে হাবিবুল ইসলাম হাবিব, নৌকার এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ, সাতক্ষীরা-২ আসনে মহাজোটের পক্ষে জাতীয়পার্টির লাঙ্গল, ২০দলীয় জোটের জামাতের আব্দুল খালেক স্বতন্ত্র কিংবা ধানেরশীষ প্রতীকে, সাতক্ষীরা-৩ আসনে নৌকার ডা.আফম রুহুল হক, ধানের শীষের ডা. শহীদুল আলম, সাতক্ষীরা-৪ আসনে নৌকার জগলুল হায়দার ও ধানের শীষ কিংবা স্বতন্ত্র প্রতীকে জামাতের নজরুল ইসলাম শেষশেষ প্রার্থীতার তালিকায় দেখা যেতে পারে।