৮ দফা দাবিতে সনাকের মানবন্ধন


প্রকাশিত : নভেম্বর ৩০, ২০১৮ ||

পত্রদূত ডেস্ক: সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক) এর আয়োজনে এবং ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) এর সহযোগিতায় সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব চত্বরে প্যারিস চুক্তির আওতায় জলবায়ু অর্থায়নে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের জন্য আইনী বাধ্যতামূলক একটি ‘স্বচ্ছতাকাঠামো’ অবলম্বন করে সংশ্লিষ্ট সকলের শুদ্ধাচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদান নীতি বিবেচনা করে ঋণের পরিবর্তে শুধু অনুদান, যা উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘নতুন’ প্রতিশ্রুতি হবে-এমন স্বীকৃতি দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সংজ্ঞায়ন করাসহ পোল্যান্ডের কাতোভিতসেতে অনুষ্ঠিত আসন্ন কপ-২৪ সম্মেলনে টিআইবি’র উত্থাপিত ৮ দফা দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালিত হয়েছে। সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের সামনে আয়োজিত এক মানববন্ধনে সনাক’র প্রতিনিধি, সমমনা সংগঠনের মধ্যে স্বদেশ, বরসা, ব্রেকিং দ্যা সাইলেন্স, প্রথম আলো বন্ধুসভা, বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেট্রনিক মিডিয়ার সংবাদ কর্মিসহ সুশিল সমাজের নেতৃবৃন্দ ঐক্যমত প্রকাশ করেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন বরসা’র সহকারী পরিচালক নাজমুল আলম মুন্না, স্বদেশ’র নির্বাহী পরিচালক মধাব দত্ত, চ্যানেল আই’র জেলা প্রতিনিধি আবুদল কালাম আজাদ, জেলা নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক মো. আনিছুর রহিম, দৈনিক দক্ষিণের মশালের সস্পাদক আশেক-ই-এলাহী, সনাক সদস্য প্রফেসর আব্দুল হামিদ ও ড. দিলারা বেগম প্রমুখ। মানববন্ধনে টিআইবি’র এরিয়া ম্যানেজার আবুল ফজল মোহাম্মদ আহাদ জলবায়ু অর্থায়নে প্রেক্ষাপট, জলবায়ু অভিযোজন নিশ্চিতে বৈশি^ক অবস্থা, বাংলাদেশের জলবায়ু তহবিল সংগ্রহ ও ব্যবস্থাপনায় অগ্রগতি ও চ্যালেঞ্জসমূহসহ, আসন্ন কপ-২৪ সম্মেলনে টিআইবি’র প্রত্যাশা ও সুনির্দিষ্ট সুপারিশসমূহ তুলে ধরেন।
এতে বলা হয়, আসন্ন কপ-২৪ সম্মেলনে টেকসই উন্নয়নে জলবায়ু অর্থায়নে দৃশ্যমান অগ্রগতি, ন্যায্যতা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিতে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা কাঠামো সম্বলিত রূপরেখা (রুল বুক) চূড়ান্ত করার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ সহ প্যারিস চুক্তির সাক্ষরকারী দেশসমূহের সংশ্লিষ্ট অংশীজনের বিবেচনার জন্য টিআইবি’র ৮দফা দাবিগুলোর মধ্যে আছে: প্যারিস চুক্তির আওতায় জলবায়ু অর্থায়নে উন্নত এবং উন্নয়নশীল উভয় শ্রেণির দেশের জন্য আইনী বাধ্যতামূলক, একটি ‘স্বচ্ছতা কাঠামো’ অবলম্বন করে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের শুদ্ধাচার ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে হবে; দূষণকারী কর্তৃক ক্ষতিপূরণ প্রদান নীতি বিবেচনা করে ঋণ নয়, শুধু সরকারি অনুদান, যা উন্নয়ন সহায়তার ‘অতিরিক্ত’ এবং ‘নতুন’ প্রতিশ্রুতির স্বীকৃতি দিয়ে জলবায়ু অর্থায়নের সংজ্ঞায়ন করতে হবে; স্বল্পোন্নত দেশগুলোর স্বার্থ নিশ্চিতে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তি বাস্তবায়নের রুপরেখা চূড়ান্ত করা, উন্নত দেশগুলো হতে প্রয়োজনীয় সম্পদ (জলবায়ু তহবিল, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কারিগরি সহায়তা) সরবরাহের জোর দাবি উত্থাপন করতে হবে; উন্নয়নশীল দেশগুলোর অভিযোজনকে অগ্রাধিকার দিয়ে চাহিদা মাফিক জলবায়ু তহবিল প্রদানে একটি সময়াবদ্ধ রোডম্যাপ প্রণয়ন এবং বাস্তবায়ন করতে হবে; ক্ষতিগ্রস্ত স্বল্পোন্নত দেশসমূহের পরিকল্পিত অভিযোজনের জন্য জিসিএফ ও অন্যান্য আন্তর্জাতিক তহবিল হতে প্রয়োজনীয় তহবিল অগ্রাধিকার ভিত্তিতে যথাসময়ে, সহজে সরবরাহের জন্য বাংলাদেশ সহ ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোকে সমন্বিতভাবে (ক্লাইমেট ডিপ্লোম্যাসির মাধ্যমে) দাবি উপস্থাপন করা এবং তা আদায়ে দর কষাকষিতে দক্ষতা প্রদর্শন করতে হবে; স্বল্পোন্নত দেশে অভিযোজন বাবদ অর্থায়নের অতিরিক্ত হিসেবে ক্ষয়-ক্ষতি মোকাবেলায় বিশেষ তহবিল গঠন এবং তার জন্য দ্রুত অর্থায়ন নিশ্চিতে স্বল্পোন্নত দেশগুলোকে সোচ্চার হতে হবে; জলবায়ু-তাড়িত বাস্তুচ্যুতদের পুনর্বাসন, কল্যাণ এবং অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি নিশ্চিতে জিসিএফ এবং অভিযোজন তহবিল থেকে বিশেষ তহবিল বরাদ্দ নিশ্চিত করতে হবে; এবং জিসিএফ এর ট্রাস্টি বোর্ডের কাঠামো পুনর্গঠনের মাধ্যমে একটি সমতা-ভিত্তিক প্রতিনিধিত্বমূলক এবং কার্যকর ট্রাস্টি বোর্ড গঠন এবং ক্ষতিগ্রস্ত দেশসমূহের অভিযোজন কার্যক্রমে অনুদানকে অগ্রাধিকার প্রদান করতে হবে। বক্তাগণ আসন্ন কপ ২৪ সম্মেলনে প্যারিস চুক্তি বাস্তবায়নে টিআইবি’র ৮দফা দাবিকে বাংলাদেশসহ বিশ^ব্যাপী ঝুকিতে থাকা ক্ষতিগ্রস্থ দেশসমূহের কোটি কোটি মানুষের স্বার্থ সংশ্লিষ্ট ন্যায্য দাবি হিসেবে উল্লেখ করেন।