জরাজীর্ণ জীবনে শীত


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৬, ২০১৮ ||

মো.  সাজিদুর  রহমান
প্রকান্ড  শহরের  কংক্রিটের  ছায়ায়  দ্বিতীয়  শীত  দেখেছিলাম -
পরস্পরের  সাথে  আষ্টে পৃষ্ঠে  জড়িয়ে  থাকা  গলিতে  বিশ্রামরত  কুয়াশাকে।
নগরের  শেকড়ে  এক  ভাঙা বাড়ি: যে স্থানে  উৎপত্তি  হয়েছে  এই  শহরের-
সেখানে  প্রশান্তির  শীত  আমি  দেখেছিলাম; মূর্ছিত  জীবনের  অনুভবে।
থমকে  দাড়িয়ে  থাকা  আবীরের  সন্ধানে  তৃতীয়  শীত  দেখলাম -
পরা বাস্তু  কুটিরে  মাকড়সার  জালের  মতো;
বস্তুত  ঝাপসা -কি নি দারুণ  লজ্জা  তার  শরীর  জুড়ে;
সাইবেরিয়ার  পাখির  মতো  তার ও  ইচ্ছা  জাগে  অন্য  কারোর  অতিথি  হওয়ার।
মিথ্যা  একরাশ  কষ্ট কে  চাঁপা  দিয়ে  গনগনে  আগুনের  চাদরে  এক্ষুণি  জেগে  উঠবে  শহর-
শীতের  হবে  বিদায়-সারাদিন  হারিয়ে  যাবে  সে  জনজীবনের  দীর্ঘশ্বাসে:
পাকের ্র প্রেম জয়ী  যুগলের  চুম্বনে,
কলেজ  ক্যাম্পাসের  মসৃণ  ঘাসে।
শরীর  জুড়ে  লম্বা  ঘোমটা টেনে  আজ  শীত  আমাদের  মতো  স্বরূপ  পথচারী,
সীমিত  আশ্রয়ের  বশে  তপ্ত রোদে  লেপ্টে  থাকে  অশরীরীর  কালো ছায়ায়-
দাঁতে  দাঁত  সিটকে  গালি  দেওয়ার  মুহূর্তে  সে  বিদায়  নেবে  ঝাঁঝালো  প্রাণ  হতে।
শীত  আপন  কোটরে  মুখ  লুকিয়ে  থাকে  সারাদিন-
সারা রাত  মিশে  থাকে  কৃত্রিম  ঝাড়বাতিতে,
যেখানে  বাস্তব  জোৎস্না  ও  বড়  কৃত্রিম;
শহরের  বিলাস বহুল  ফ্লাটে  তাকে  বিদায়  দেওয়ার  আড়ম্বর  ঘনঘটা।
শীত  আছে  অতি  চুপে চুপে  আমাদের  নাগরিক  জীবনে,
আশ্রয়হীন  হয়ে  সে  কাঁদে  অবহেলায়,
চলন্ত  দীর্ঘশ্বাসের  নিস্তব্ধে  বিদায়  নেয়  সে  জরাজীর্ণ  জীবন  থেকে।