সদরে স্বশিক্ষিত রবি, মামলায় এগিয়ে খালেক, ল্যান্ডলড আজহার


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৭, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা-২ (সদর) আসন থেকে আওয়ামী লীগ বিএনপি জামায়তসহ বিভিন্ন দল থেকে ১১জন প্রার্থী মনোনয়ন জমা দেন। এর মধ্যে আওয়ামী লীগ মনোনিত প্রার্থী মীর মোস্তাক আহমেদ রবি ৫বছর এমপি থাকলেও তার সম্পদ কমেছে বলে হলফ নামায় উল্লেখ করেছেন।
এদিকে কৌশলগত কারণে বিএনপি থেকে জামায়াতের মুহাম্মদ আব্দুল খালেক, রহমাতুল্লাহ, আব্দুল আলিম ও রবিউল ইসলাম খানের নামে মনোনয়ন জমা দিয়েছেন। তবে এই আসন থেকে জামায়াতের খালেক অনেক খানি নিশ্চিত। মামলার দিক দিয়ে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন মুহাম্মদ আব্দুল খালেক। তার নামে বিস্ফোরক দ্রব্য ও স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্টসহ বিভিন্ন ধারায় ৩৮টি মামলা রয়েছে।
এদিকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী হিসেবে জমা দেওয়া শেখ আজহার হোসেনের নামে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ১০ বিঘা কৃষি জমি নিয়ে কৃষি জমিতে এগিয়ে আছেন। নির্বাচন কমিশনে প্রার্থীদের জমা দেওয়া মনোয়নপত্রের হলফনামা থেকে এমন তথ্য মিলেছে।
মীর মোস্তাক আহমেদ রবি: ব্যবসায়ী পেশা দেখিয়েছেন সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী মীর মোস্তাক আহমেদ রবি। তিনি বর্তমান সংসদ সদস্য। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা দেখিয়েছেন স্বশিক্ষিত। তার বার্ষিক আয় ৩০ লক্ষ ৩৪ হাজার ৩১৫ টাকা। তার অস্থাবর সম্পত্তির মধ্যে রয়েছে, নগদ ১১ লাখ ৫০ হাজার, ব্যাংকে জমা এক লক্ষ ৬৪ হাজার ২৭টাকা, ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকার ঋণপত্র, ৫২ লাখ ৭৯ হাজার ৮২২ টাকা মূল্যের একটি ল্যান্ড ক্রুজার ও ২৮ লাখ ৫০ হাজার টাকার টয়োটা এলিয়ান গাড়ি, ৬০ ভরি স্বর্ণ, ২ লাখ ১৫ হাজার টাকার ইলেক্ট্রনিক সামগ্রী ও ২ লাখ ২৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিলকৃত হলফনামায় তিনি এ তথ্য উল্লেখ করেছেন।
সাতক্ষীরা-২ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী মীর মোস্তাক আহমেদ রবির নামে এক কোটি ৭ লাখ ৩৫ হাজার ৮৪৯ টাকার অস্থাবর ও ৬৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার নামে আইএফআইসি ব্যাংক গুলশান শাখায় ঋণ রয়েছে এক কোটি ৫৩ লাখ ১৯ হাজার ৫১৮ টাকা।
৫ বছর আগে দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময় মীর মোস্তাক আহমেদ রবির নামে দুই কোটি ২৩ লক্ষ ৯৪ হাজার ৫৯৯ টাকার অস্থাবর ও ৬৬ লক্ষ ৭৫ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ ছিল। আর ঋণ ছিল ২ কোটি ১৭ লাখ ৬৬ হাজার ৩২৭ টাকা। এই হিসেবে গত ৫ বছরে তার অস্থাবর সম্পদ কমেছে এক কোটি ১৬ লাখ ৫৮ হাজার ৭৫০ টাকা। এছাড়া স্থাবর সম্পদের মধ্যে তার ২ লাখ টাকা মূল্যের অকৃষি জমি, এক লাখ টাকা মূল্যের বাড়ি, ৬৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকা মূল্যের দুটি বাড়ি রয়েছে।
মুহাম্মদ আব্দুল খালেক: শিক্ষক হিসেবে পেশা দেখিয়েছেন সাতক্ষীরা-২ আসনে ধানের শীষ প্রতীকে মনোনয়নপত্র দাখিলকারী জামায়াত নেতা মুহাম্মদ আব্দুল খালেক। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা কামিল পাশ। শিক্ষক পেশা ও কৃষি খাত থেকে তার বার্ষিক আয় ৬ লাখ ৫৯ হাজার ৫৮৭ টাকা।
হলফনামায় বলা হয়েছে, তার নামে নগদ এক লাখ ১৩ হাজার ৯৭০ টাকা, ব্যাংকে জমা ১৪ হাজার ৩১২ টাকা, ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭২ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৯৩ হাজার ৫শ’ টাকা মূল্যের মোটরগাড়ি, ১০ ভরি স্বর্ণ, ৭০ হাজার টাকার ইলেক্ট্রনিক দ্রব্য ও ৫০ হাজার টাকার আসবাবপত্র রয়েছে।
তার লাখ ৮৯ হাজার ৮৫৪ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তার নামে ৫০ লাখ টাকার স্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তার নামে স্থাবর সম্পদের মধ্যে ৩০ লাখ টাকা মূল্যের ১২৯ শতক কৃষি জমি, ১০ লাখ টাকা মূল্যের ১০.২ শতক অকৃষি জমি, ১০ লাখ টাকার দুটি বাড়ি রয়েছে। সাতক্ষীরা নামে বিস্ফোরক দ্রব্য ও স্পেশাল পাওয়ারস অ্যাক্টসহ বিভিন্ন ধারায় ৩৮টি মামলা রয়েছে।
আজহার হোসেন: ব্যবসায়ী পেশা দেখিয়েছেন সাতক্ষীরা-২ আসনে জাতীয় পার্টি মনোনীত প্রার্থী শেখ আজহার হোসেন। তার শিক্ষাগত যোগ্যতা এইচএসসি পাশ। শেখ আজহার হোসেনের বার্ষিক আয় ৪৯ লাখ ৪২ হাজার ৩২৭ টাকা। ১০ ভরি স্বর্ণসহ এক কোটি ২৩ লাখ ৫১ হাজার ৩৫৯ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। এছাড়া তার নামে আইএফআইসি ব্যাংক সাতক্ষীরা শাখায় ৭০ লক্ষ টাকা ঋণ নেওয়া রয়েছে।
একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্রের সাথে দাখিলকৃত হলফনামায় তিনি এ তথ্য উল্লেখ করেছেন।
তার অস্থাবর সম্পদের মধ্যে নগদ এক কোটি ২ লাখ ২৫ হাজার টাকা, ব্যাংকে জমা ২০ লক্ষ ৫৬ হাজার ৩৫৯ টাকা, ৪৫ হাজার টাকা মূল্যের একটি মোটরসাইকেল, ২৫ হাজার টাকার আসবাবপত্র ও বৈবাহিক সূত্রে প্রাপ্ত ১০ ভরি স্বর্ণ রয়েছে।
হলফনামায় বলা হয়েছে, শেখ আজহার হোসেনের নামে পৈত্রিক সূত্রে প্রাপ্ত ১০ বিঘা কৃষি জমি, ১০ শতক অকৃষি জমি, ২৫ লক্ষ টাকার তিনতলা বাড়ি ও ৩ লাখ টাকা মূল্যের ১৫ বিঘা কৃষি জমি রয়েছে।
এছাড়াও এ নির্বাচনে মনোয়নপত্র জমা দিয়েছেন জাতীয় পার্টির মাতলুব হোসেন লিয়ন, বিএনপির এইচ, এম রহমাতুল্লাহ, আব্দুল আলিম ও রবিউল ইসলাম খান, বাসদের নিত্যানন্দ সরকার, জেএসডির আফসার আলী, এনপিপির জুলফিকার রহমান, ইসলামী আন্দোলনের মুফতী রবীউল ইসলাম।