প্রতীক বরাদ্দের দ্বারপ্রান্তে ধানের শীষে হাবিব আর হিসাব-নিকাশে নৌকায় লুৎফুল্লাহর নাম


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ৭, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: প্রতীক বরাদ্দের দ্বারপ্রান্তে এসে শেষমেশ নৌকা প্রতীক কে পাচ্ছেন-এমন প্রশ্ন এখন কলারোয়ার বিভিন্ন হাটবাজারের চায়ের দোকানসহ মোড়ে মোড়ে। সাতক্ষীরা-১ (জাতীয় সংসদ-১০৫, তালা-কলারোয়া) আসনটিতে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২৩ দলীয় জোট তথা জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের একক প্রার্থী বিএনপির হাবিবুল ই্সলাম হাবিব ধানেরশীষ প্রতীক পাচ্ছেন-এটা প্রায় নিশ্চিত। তবে ১৪ দলীয় জোট বা মহাজোট থেকে এখনো ৬ ডিসেম্বর এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত চূড়ান্ত না হলেও শেষমেশ নৌকার মাঝি বর্তমান সাংসদ এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ-ই হতে যাচ্ছেন বলে জোর গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে।
সাতক্ষীরা জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়ার শেখ মুজিবুর রহমান, ১৪দল বা মহাজোটের অন্যতম শরিক ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় পলিটব্যুরো সদস্য ও দলটির জেলা সভাপতি এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ এমপি, অন্যতম শরিক জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা সাবেক প্রতিমন্ত্রী সৈয়দ দিদার বখত, আরেক শরিক জাসদের কেন্দ্রীয় নেতা শেখ ওবায়দুস সুলতান বাবলু এবং আওয়ামী লীগের মনোনয়নপত্র ইতোমধ্যে বৈধ হয়েছে। আওয়ামী লীগ দলীয় নেতা হিসেবে ইঞ্জিনিয়র মুজিবুরের নাম উঠে আসলেও জোট থেকে লুৎফুল্লাহ ও দিদারের নামও চলে আসছিলো। তবে জাতীয় রাজনীতির বিশ্লেষণ, জোটের হিসাব-নিকাশ আর প্রার্থীর ইমেজ ইত্যাদি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত কে টিকে থাকবেন তা এখনো অস্পস্ট।
এ আসনে মহাজোটের একক প্রার্থীর নাম এখনও ঘোষণা করা হয়নি। তবে মহাজোটের অন্যতম শরীক দল জাপার প্রার্থী লাঙল প্রতীকের সৈয়দ দিদার বখ্ত মাঠে অনড় অবস্থানে রয়েছেন। তিনি যদি নৌকা প্রতীক নাও পান তাহলেও স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করবেন বলে মনে করছেন জাপার সমর্থকরা।
গত কয়েকদিন ধরে সাবেক এমপি ইঞ্জিনিয়র মুজিবুর রহমান নৌকার টিকিট পেতে পারেন বলে আওয়ামী লীগের অনেক নেতাকর্মীদের মুখে মুখে। দলীয় প্রতীক না পেলে স্বতন্ত্র নির্বাচন করতে পারেন বলে অনেকেই মন্তব্য করেছেন।
আবার বাংলাদেশের জোটের রাজনীতিতে আসন ছাড়ের হিসাব-নিকাশে ওয়ার্কার্সপার্টির দলীয় নেতা হিসেবে এড. মুস্তফা লুৎফুল্লাহ শক্তিশালী। ফলে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে এই আসনে তাঁর মনোনয়নও চূড়ান্ত বলে মনে করেন অনেকেই।
প্রতীক বরাদ্দের আগমুহুর্তে ১৪দল বা মহাজোটের টিকিট নিয়ে ‘কে’ আসছেন এমনই সব হিসাব-নিকাশের পাশাপাশি শরীক দলের মধ্যে চলছে আলোচনার ঝড়ও। এলাকার সাধারণ মানুষ কান পেতে রয়েছেন খবরের দিকে। সাতক্ষীরা-১ আসনে কপাল খুলছে কার ? এমন প্রশ্ন তাদের।
তবে জোটের একক প্রার্থীতা বা প্রতীক প্রশ্নের অবসান ঘটবে আগামি ৯ ডিসেম্বর প্রার্থীতা প্রত্যাহারের শেষ দিন এবং পরদিন ১০ডিসেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দের মধ্য দিয়ে।
জেলা রির্টানিং অফিস সূত্রে জানা যায়, তালা ও কলারোয়া দুটি উপজেলার ২৪ ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদের ১০৫ সাতক্ষীরা-১ (তালা-কলারোয়া) আসনটিতে ৪ লাখ ২২ হাজার ৮৯৮ জন ভোটার রয়েছে। এর মধ্যে নারী ভোটার ২ লাখ ৪ হাজার ৮১৮ জন এবং পুরুষ ভোটার ২ লাখ ১৩ হাজার ৭৩ জন।