শ্যামনগরে আওয়ামীলীগ ও বিকল্পধারার প্রচারনা শুরু, সঙ্গীর খোঁেজ জামায়াত


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ১২, ২০১৮ ||

পত্রদূত রিপোর্ট: নির্বাচনের মাত্র কয়েকদিন বাকি। ইতোমধ্যে সংসদীয় আসন ১০৮ তথা সাতক্ষীরা-০৪ আসনে প্রচার প্রচারণা শুরু করেছে আওয়ামী লীগ ও বিকল্পধারা। প্রতীক বরাদ্দের পর থেকে দল দুটির প্রার্থী এবং কর্মী সমর্থকরা বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে উঠান বৈঠকসহ নানাভাবে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে। সাধারণ মানুষের খোঁজ খবর নেয়ার পাশাপাশি স্থানীয়দের সমস্যার কথা জানার চেষ্টা করে নির্বাচিত হলে সমস্যা নিরসনের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
পক্ষান্তরে এখন পর্যন্ত প্রচারণা শুরু করতে পারেনি বিএনপির দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচনের মাঠে থাকা সাবেক জামায়াত দলীয় প্রার্থী। মূলত স্থানীয় বিএনপির শীর্ষ নেতাদের পাশে না পেয়ে অনেকটা হতাশ হয়ে সংগঠনটি নিভৃতে প্রচারণার প্রস্তুতি নিচ্ছে। দীর্ঘদিন ধরে এলাকার বাইরে অবস্থানরত বিএনপির শীর্ষ নেতারা হামলা এবং মামলার ভয়ে এখন পর্যন্ত এলাকাতে না ফেরায় নির্বাচনী মাঠে সংগঠনটি অনেকটা সঙ্গীহীন হয়ে পড়েছে। ফলে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণসহ প্রচার প্রচারণায় তারা প্রধান দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর থেকে যোজন যোজন দুরে পিছিয়ে পড়েছে বলে স্থানীয়দের ধারনা।
দলীয় কর্মী সমর্থক এবং স্থানীয় ভোটারদের সাথে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমান আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্য এসএম জগলুল হায়দার শ্যামনগর ও কালিগঞ্জ উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে পথসভায় বক্তব্য রাখছেন। গত দশ বছরের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরার পাশাপাশি আগামী নির্বাচনে বিজয়ী হতে পারলে তার অসমাপ্ত উন্নয়ন কর্মকান্ড সম্পন্নের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছেন।
এছাড়া উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সম্পাদক ও সদর ইউপি চেয়ারম্যান এসএম জহুরুল হায়দার বাবুসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ গত দুই দিনে গোপালপুর বাদঘাটা, নকিপুর বাজার আটুলিয়াসহ বিভিন্ন এলাকায় যেয়ে ভোটারদের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতের পাশাপাশি আবারও নৌকায় ভোট দিয়ে এলাকার উন্নয়ন সমুন্নত রাখার আহবান জানাচ্ছেন। ঘুষ দুর্নীতি ও অনিয়ম মুক্ত মডেল সংসদীয় আসন প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতিও দিচ্ছেন। এছাড়া আওয়ামী লীগের বিশাল কর্মী বাহিনীও দলীয় প্রতীকসহ বর্তমান সাংসদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করছেন।
একইভাবে গত ১০ ডিসেম্বর বিকল্পধারা প্রার্থী এইচএম গোলাম রেজার পক্ষে প্রচার প্রচারণা শুরু হয়েছে। মঙ্গলবার দুপুরের পর সাবেক এমপি গোলাম রেজার নেতৃত্বে কয়েক হাজার কর্মী সমর্থক শ্যামনগর উপজেলা সদরের বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিন করে দলীয় প্রতীক নিয়ে। এসময় হাজার হাজার নারী পুরুষ ওই নির্বাচনী শো-ডাউনে অংশ নেয়। গোলাম রেজার কর্মী বাহিনী এলাকায় এলাকায় তার সময়কার উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে আবারও গোলাম রেজাকে নির্বাচিত করার দাবি জানাচ্ছেন সাধারণ ভোটারদের কাছে। এছাড়া সংসদীয় আসনের জন্য ২০টি ইউনিয়নে প্রচারণা চালাতে একাধিক কমিটি গঠন করে মঙ্গলবার থেকে তাদেরকে এলাকায় এলাকায় তৎপর হওয়ার নির্দেশনা দিয়ে পাঠানো হয়েছে। ভোট কেন্দ্রে পোলিং এজেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করার পাশাপাশি অপরাপর দায়িত্ব বুঝিয়ে সংশ্লিষ্টদের নিজ নিজ এলাকায় পাঠানোর কাজও শেষ করে এনেছে বিকল্পধারা।
এদিকে বিএনপির ধাণের শীষ নিয়ে লড়াইয়ে নামা সাবেক জামায়াত দলীয় সংগঠনের প্রচারণার বিষয়ে অদ্যাবধি ভাল কোন খবর সংগঠন বা ভোটারদের তরফ থেকে পাওয়া যায়নি। সাধারণ ভোটারদের অভিযোগ নৌকা এবং কুলা প্রতীকের প্রচারণা লক্ষ করা গেলেও ধাণের শীষের কোন প্রচারণা তাদের সামনে পড়েনি। সামান্য কিছু পোস্টার টাঙানো হলেও কোন নেতাকর্মী এখন পর্যন্ত তাদের কাছে ভোটের আবদার করেনি।
তবে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংগঠনটির কয়েক নেতার দাবি জোটের প্রধান শরীক বিএনপির শীর্ষ নেতারা অজ্ঞাত কারণে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা থেকে বিরত রয়েছে। যে কারণে নির্বাচনী প্রচারণায় সংগঠনটি কিছুটা পিছিয়ে পড়েছে বলে স্বীকার করেন তারা। যদিও তাদের দাবি দু’দিন আগে প্রতীক বরাদ্দ দেয়া হয়েছে তাই প্রচারণা শুরুতে কিছুটা বিলম্ব হলেও নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সব শ্রেণির ভোটারদের কাছে পৌছাতে সমর্থ হবেন তারা।
জোট সঙ্গী বিএনপির শীর্ষ নেতাদের অনুপস্থিতির বিষয়ে প্রকাশ্য কোন অভিযোগ না করলেও সংগঠনটির কয়েকজন নীতি নির্ধারক জানান, স্থানীয় বিএনপির মধ্যম সারির অসংখ্যা নেতা এবং হাজার হাজার কর্মী প্রতিনিয়ত তাদের সাথে যোগাযোগ রক্ষা করছেন। শীর্ষ নেতারা প্রচার প্রচারণায় প্রকাশ্য হলে তারাও নির্বাচনী মাঠে নামবে বলে নিশ্চিত করেছেন।
এদিকে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ নেতারা এখন পর্যন্ত দলীয় প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী মাঠে দৃশ্যমান না হওয়ার বিষয়ে কোন রকম মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানান। যদিও তাদের দাবি কোরবানীল ঈদের পর থেকে এলাকাজুড়ে দায়ের দুই ডজনের মত গায়েবী মামলার চার্জশীটে কাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা নিশ্চিত হওয়া হতে না পারায় নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে আতংকে রয়েছে। তবে যে যার অবস্থান থেকে ধাণের শীষের পক্ষে প্রচারনা চালাচ্ছে। দুয়েক দিনের মধ্যে যৌথ সভার মাধ্যমে নেতাকর্মীদের একত্রিত করে পুরোদমে নির্বাচনী প্রচারনার কাজে নেমে পড়ারও ঘোষনা দেন এসব নেতা।
এছাড়া জাতীয় পার্টির আব্দুস সাত্তার মোড়ল লাঙল নিয়ে নির্বাচনী মাঠে অবতীর্ণ হলেও গতকাল পর্যন্ত তার পক্ষেও তেমন কোন প্রচার প্রচারনা লক্ষ্য করা যায়নি। যদিও প্রতীক বরাদ্দের পরপরই তিনি সংসদীয় আসনের বিভিন্ন ইউনিয়ন নেতাদের নিয়ে মতবিনিময় করে নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ করেছেন বলে জাতীয় পার্টি সুত্রের দাবি।
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংরাদেশ এর প্রার্থী মো. আব্দুল করিম দৃশ্যমান না হলেও নিজেদের মত করে নির্বাচনী প্রচারণা চালানোর দাবি করেছেন। যদিও স্বতন্ত্র প্রার্থী রবিউল জোয়ার্দারের নির্বাচনী প্রচারণার কোন তথ্য কোন প্রান্ত থেকে গত দুই দিনে জানা যায়নি।
এদিকে গত মঙ্গলবার জেলা প্রশাসন এবং রিটার্নিং কর্মকর্তা এসএম মোস্তফা কামাল শ্যামনগর সংসদীয় এলাকা পরিদর্শন করায় স্থানীয় ভোটারদের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে ব্যাপক আগ্রহের সৃষ্টি হয়েছে।