নলতায় খানবাহাদুর আহছানউল্যার (রহ.) ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনার


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৩, ২০১৮ ||

আহাদুজ্জামান আহাদ: নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের উদ্যোগে পীর কেবলা হজরত খান বাহাদুর আহছান উল্লার (রহ.) ১৪৫তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার সকাল ১১টায় নলতায় পাক রওজা শরীফ প্রাঙ্গনে নলতা কেন্দ্রীয় আহ্ছানিয়া মিশনের সভাপতি মুহাম্মদ সেলিম উল্লাহর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন বাংলা একাডেমির সাবেক মহা-পরিচালক অধ্যাপক শামসুজ্জামান খান। সেমিনারে ‘আহ্ছাননামা’ বিষয়ক মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন বিশিষ্ট সাহিত্যিক গাজী আজিজুর রহমান। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন, সাবেক স্বাস্থ্য ও পরিবার কলাণ মন্ত্রী, সাতক্ষীরা-৩ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. আ ফ ম রুহুল হক। মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় সেমিনারে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. মনিমুলহক, রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের দর্শন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. মজিবররহমান, খান বাহাদুর আহছানউল্লা ইনিন্টিটিউটের পরিচালক এ এফ এম মনিরুল হক, সাতক্ষীরা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির জেনারেল ম্যানেজার রবীন্দ্রনাথ দাস, নলতা কেন্দ্রীয় আহছানিয়া মিশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ, যুগ্ম-সম্পাদক সাইদুর রহমান, ছায়ানীড়’র পরিচালক মো. লুৎফর রহমান প্রমূখ। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, খান বাহাদুর আহছান উল্লা (রহ.) ছিলেন একজন ক্ষণজন্মা মনিষী। তার বহুমুখি প্রতিভা ছিল, সুবিস্তৃত ছিল তাঁর কর্মপ্রয়াস। তিনি ১৮৯৫ সালে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন। সে সময় বাংলাদেশে মাত্র দুজন মুসলমান এই ডিগ্রী লাভ করেন। আহছান উল্লা (রহ.) ও শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তিনি শিক্ষক থেকে শিক্ষা বিভাগের সর্ব উচ্চ পদে তার কর্ম জীবন শেষ করেন। তার কর্মের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা, মুসলমানদের জন্য ফুলার হোস্টেল নির্মাণ, সারা দেশে ৩শ’র বেশি স্কুল মাদ্রাসা নির্মাণে মুখ্য ভুমিকা পালন। তিনি তার কর্মজীবন শেষ করে ফিরে আসে তার পুণ্যভুমি নলতায়। তিনি হযরত গফুর শাহ্ (রহ.) এর কাছ থেকে বায়াত গ্রহনের পর তরিকত, হাকিকত ও মারেফাতের গন্ডী পার করেন। তিনি দিনে তারকাজ করতেন আর রাতে চলে যেতেন গহিন বনে একা একা আল্লার্হ ধ্যানে নিজেকে বিলিন করতে। খাঁন বাহাদুর আহছানউলা (রহ.) জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত মানব সেবায় কাজ করে গেছেন। খাঁন বাহাদুর উপাধি পাওয়ার পরও তার মনে কোন অহংকার ছিলনা। এমনকি তিনি বেঁচে থাকাকালীন নিজের জায়গা জমি বিক্রি করে দিয়ে মানবকল্যাণে অনেক উন্নয়ন করে গেছেন। তিনি ‘স্রষ্টার এবাদত ও সৃষ্টের সেবা’ উদ্দেশ্য নিয়ে মিশন তৈরি করে ছিলেন। অনুষ্ঠান শেষে দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন নলতা শরীফ জামে মসজিদের খতিব মাওলানা আবু সাঈদ।