অসাম্প্রদায়িক মানবিক বাংলাদেশ গড়তে চায় ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: মানবিক বাংলাদেশ গঠনে মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে সমুন্নত রাখার আহবান জানিয়েছেন ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ নামের একটি বেসরকারি সংগঠন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তার প্রতিফলন ঘটাতে হবে বলেও উল্লেখ করেন তারা।
বাংলাভাষা বাংলাদেশ এবং বঙ্গবন্ধু এক ও অভিন্ন উল্লেখ করে বক্তারা আরও বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক সচেতনতার মধ্য দিয়ে ধর্ম নিরপেক্ষ অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশ গড়তে হবে। রাষ্ট্র কোনোভাবেই সাম্প্রদায়িক হবে না জানিয়ে তারা বলেন, এজন্য সবাই মিলে কাজ করতে হবে। দানবীয় শক্তি বিশ^ মানবতাকে ধ্বংস করছে জানিয়ে তারা বলেন জাতি ৭২ এর সংবিধানের পরিপূর্ন বাস্তবায়ন চায়। নিজ নিজ ধর্মের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা এবং তা মুক্তমনে হৃদয় দিয়ে পালনের মুখে কোনো শক্তি যাতে ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টি করতে না পারে সেজন্য ধর্মের সঠিক চর্চা চাই।
সোমবার সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবে ‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ আয়োজিত সম্প্রীতি সমাবেশে এই আহবান জানিয়ে বক্তারা বলেন, আমরা নির্বাচন পরবর্তী জাতিগত সহিংসতা দেখতে চাইনা। কোনো ধরনের নির্যাতন বা সহিংসতা যাতে দানা বাঁধতে না পারে সেজন্য সতর্ক থাকতে হবে। মুক্তিযুদ্ধের পর প্রায় অর্ধ শতাব্দী পার হয়ে গেলেও এখনও কেনো জঙ্গিবাদ ও সাম্প্রদায়িকতা দানা বাঁধে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তারা। এই শক্তিই দানবীয় শক্তি উল্লেখ করে তাকে প্রতিহত করার আহবান জানানো হয়।
‘সম্প্রীতি বাংলাদেশ’ এর আহবায়ক বরেণ্য সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দোপাধ্যায়ের সভাপতিত্বে সম্প্রীতি সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন নিরাপত্তা বিশ্লেষক মেজর জেনারেল (অব.) একে মোহাম্মদ আলি শিকদার, মানবাধিকার সংগঠক আরমা দত্ত, সাতক্ষীরা প্রেসক্লাব সভাপতি অধ্যক্ষ আবু আহমেদ, সাবেক সভাপতি আবুল কালাম আজাদ, সাংবাদিক কল্যাণ ব্যানার্জি, অধ্যক্ষ আবদুল হামিদ, উপজেলা চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান বাবু, অধ্যক্ষ আশেক ই এলাহি, এড. ফাহিমুল হক কিসলু, মুক্তিযোদ্ধা আবুবকর সিদ্দিক, সোমনাথ ব্যানার্জি, বিশ^নাথ ঘোষ, বিশ^জিত সাধু, স্বপন কুমার শীল, মাধব দত্ত, ওবায়দুস সুলতান বাবলু, সুধাংশু শেখর সরকার, জোসনা দত্ত প্রমূখ।
মুক্তিযুদ্ধ আমাদের চেতনা ও মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অস্তিত্ব একথা জানিয়ে তারা বলেন সাম্প্রদায়িকতার মতো দানবকে দেশ থেকে বিতাড়িত করতে হবে। ধর্মীয় কারণে যাতে কোনো নিগ্রহ না ঘটে সেদিকে নজর রাখতে হবে। অসাম্প্রদায়িক সমাজ বাঙালি সংস্কৃতির দীর্ঘ লালিত ঐতিহ্য একথা জানিয়ে বক্তারা বলেন এই সম্প্রীতি বাঙ্গালি সমাজকে বহুদুর এগিয়ে দিয়েছে। আমরা আরও এগুতে চাই উল্লেখ করে তারা বলেছেন আমাদের সামনে রয়েছে অনেক প্রত্যাশা।
৫২ এর ভাষা আন্দোলনের মধ্য দিয়ে বাঙ্গালি জাতীয়তাবাদের উন্মেষ ঘটেছে উল্লেখ করে সমাবেশের সভাপতি লেখক নাট্যকার সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব পীযুষ বন্দোপাধ্যায় বলেন, সামাজিক ও রাজনৈতিক নানা বিচ্যুতির কারণে মানুষের মনে অনেক কষ্ট আছে। তাদের মধ্যে অনেক অভিমান যেমন আছে তেমনি আছে অনেক স্বপ্ন অনেক প্রত্যাশা। বাঙালি জাতিস্বত্ত্বায় বিশ^াসী মানুষ সৌহার্দ সম্প্রীতি ও বন্ধুত্বের মধ্যে বেঁচে থাকতে চায়। তারা নতুন কোনো বিচ্যুতি আর দেখতে চায়না জানিয়ে পীযুষ বন্দোপাধ্যায় আরও বলেন, আমাদের প্রগতিশীল মানবিক সমাজ গড়ে তুলতে হবে।
ভূ রাজনীতি ও নিরাপত্তা বিশ্লেষক অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল একে মোহাম্মদ আলি শিকদার বলেন, আইএসআই ধর্মীয় উন্মাদনা সৃষ্টির পাঁয়তারা চালিয়ে যাচ্ছে রাজনৈতিক অপশক্তির ছদ্মবেশে। তারা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনা, অসাম্প্রদায়িক চেতনা এবং বাঙালি জাতিস্বত্ত্বার লালিত চেতনা ধ্বংস করতে চায়। তাদের প্রতিহত করার অঙ্গিকার নিয়ে মাঠে নামতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন বর্তমান সময়ে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা এখনও বিচারহীনতায় আটকা পড়ে আছে। এধরনের বিচারহীনতা সমাজের এক একটি বিষফোঁড়া মন্তব্য করে তিনি বলেন আমরা এসবের তদন্ত ও তার বাস্তবায়ন চাই। তিনি বলেন, যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ^াস করে না তাদের প্রত্যাখ্যান করুন। তাদের সমর্থন দেওয়া কিংবা তাদের সাথে সামাজিক রাজনৈতিক ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলা নিজের পায়ে কুড়াল মারার শামিল বলে উল্লেখ করেন তিনি। মুক্তিযুদ্ধের ৪৭ বছর পরও নানা বিচ্যুতির কারণে পাকি পন্থীদের উল্লম্ফন আর দেখতে চাই না বলে জানান তিনি।
সমাবেশে বিশিষ্ট মানবাধিকার কর্মী আরমা দত্ত বলেন আমরা সম্প্রীতির বাংলাদেশ চাই। যে বাংলাদেশে জাতিগত সহিংসতা থাকবে না। ধর্মীয় সংখালঘু ও ধর্মীয় সংখ্যাগুরু সবাই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে থাকবে, একে অন্যের সুখ দু:খের সাথী হবে এমন বাংলাদেশ গড়তে চাই। তিনি বলেন, যারা এর বিরুদ্ধে রয়েছে শক্ত হাতে তাদের প্রতিহত করুন, তাদের প্রতিরোধ করুন। দেশত্যাগের পেছনে অনেক রসায়ন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, একটি প্রগতিশীল, সুখী ও মানবিক সমাজ গঠনে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।