অর্থের অভাবে অপরের দেওয়া পরীক্ষার ফিসের টাকায় পরীক্ষা দিয়ে সুমাইয়া এ প্লাস পেয়েছে


প্রকাশিত : ডিসেম্বর ২৫, ২০১৮ ||

সুন্দরবনাঞ্চল (শ্যামনগর) প্রতিনিধি: খাতা, কলম, পোষাক পরিচ্ছদ ক্রয়ের টাকা নেই, ইচ্ছা থাকলেও প্রাইভেট পড়া সম্ভব হয়নি। পিতা থেকেও নেই। মাতা অন্যের বাড়ি শ্রম দেয়। সেই শ্রম এবং বিভিন্ন ব্যক্তির সাহায্যের টাকা দিয়ে যে টাকা হয় তা দিয়ে সংসার চালানো ও পড়া লেখার খরচ চালানো হয়। এ সবের মধ্যে শ্যামনগর উপজেলার নকিপুর গ্রামের মাতা আনোয়ার বেগমের ছোট কন্যা খাদিজাবিনতে বাসার সুমাইয়া নকিপুর সরকারি এইচসি পাইলট মডেল মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে জেএসসিতে এ+ পেয়েছে। সুমাইয়ার পিতা শেখ নজরুল বাসার বিগত চার/পাঁচ বছর পূর্বে তার মা সহ তাদেরকে ফেলে চলে যায় এবং অন্যত্র বিয়ে করে সেখানে বসবাস করছে। পিতাও পেশায় এক জন দিন মুজুর। পিতা চলে যাওয়ার পর থেকে তার মা পরিবারের সকল দায় দায়িত্ব পালন করে আসছে। এ কারণে সে বলে এ ফলাফলের পিছনে মায়ের অবদান বেশি। দুই বোন ও এক ভাইয়ের মধ্যে সে সকলের ছোট। ছোটবেলা থেকে সকল ক্লাসে ১ম হয়ে এসেছে। ৫ম শ্রেণিতেও সে এ+ পায়। সুমাইয়ার মা জানায় তার পিতার দেওয়া সামান্য জায়গায় বসবাস করছেন। এক মাত্র পুত্র টাকার অভাবে লেখাপড়া বন্ধ হয়েছে। বর্তমানে মহিলা বিষয়ক অধিদপ্তরে দর্জি প্রশিক্ষণ নিচ্ছে এবং সেখান থেকে যে ভাতা পাচ্ছে সেটা দিয়ে মেয়ের পড়া লেখা ও পরিবারের খরচ চালানোর চেষ্টা করে। এ ছাড়া বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন ব্যক্তি তাকে মেয়ের পড়া লেখার জন্য টাকা দিয়েছে সেটা মেয়ের জন্য খরচ করেছেন। সুমাইয়া বলে তার স্কুল শিক্ষকরা প্রাইভেট পড়ানোর টাক্ াচাইতনা। পরীক্ষার ফিসও কম করে নিত। এজন্য শিক্ষকদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে। সে ভবিষ্যতে চিকিৎসক হতে চায়। সুমাইয়া বলে বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়তে চাই জানিনা ভবিষ্যতে কি হবে। সে সকলের আর্শিবাদ কামনা করে।