সুন্দরবন পর্যটন সমৃদ্ধ করতে রাস্তা সংস্কার


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৭, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: প্রাণ ও প্রকৃতির এক অপরুপ স্বর্গরাজ্য সুন্দরবন। বলা হয় প্রতি ২৪ ঘন্টায় ৬ বার সুন্দরবনের রূপ বদলায়। সুন্দরবনের প্রকৃতি, পরিবেশ, প্রতিবেশ ও প্রাণবৈচিত্র্য এক নান্দনিক প্রাকৃতিক সৌন্দার্য। মানুষ প্রাকৃতিক সৌন্দার্যের পূজারি। পৃথিবীর বিখ্যাত সুন্দরবনের অপরুপ সৌন্দার্য উপভোগ করতে প্রতি বছর পর্যটন মৌসুমে হাজার হাজার দেশী-বিদেশী পর্যটক সুন্দরবন ভ্রমন করছে। সড়ক পথে সুন্দরবন ভ্রমনের জন্য সাতক্ষীরার জেলার শ্যামনগর উপজেলা পর্যটকদের আকৃষ্ট করে চলেছে।
যদিও পর্যটক বান্ধব যোগাযোগ, আবাসন, খাওয়া-দাওয়া, নৌযান, ওয়াশবল্ক ও অন্যান্য সুযোগ সুবিধার সংকট বিদ্যমান। বিদ্যমান সংকট সমাধানে ক্ষুদ্র পরিসরে হলেও স্থানীয়রা উদ্যোগ গ্রহণ করছে। পশ্চিম সুন্দরবনের মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ি একটি জনপ্রিয় পর্যটক স্পট। এই বন টহল ফাঁড়ি থেকে বনবিভাগের অনুমতি নিয়ে প্রতি পর্যটন মৌসুমে হাজার হাজার পর্যটক নান্দনিক কলাগাচিয়া ইকো পর্যটন কেন্দ্র পরিদর্শন করে। এই স্পট থেকে ছোট বড় ১৬টি নৌযানে পর্যটকরা যাতায়াত করে। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে পল্টন সংযোগ রাস্তাটি সংস্কার না করায় বেশ ঝূঁকিপূর্ণ ছিল। পর্যটকরা প্রতিনিয়ত দূর্ঘটনার কবলে পড়ত। হাতে-পায়ে ব্যাথা পাওয়া, সখের জিনিস নদীতে পড়ে যাওয়া ও পোশাক ছিড়ে যেত।
সম্প্রতি পর্যটকদের দূর্ভোগের বিষয়টি বিবেচনা ও গুরুত্ব দিয়ে সুন্দরবন সংলগ্ন মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির পল্টন সংযোগ রাস্তা সংস্কার হয়েছে স্থানীয় উদ্যোগে। সোনার বাংলা ম্যানগ্রোভ ইকো ট্যুরিজম এবং স্থানীয় ট্রলার মালিক সমিতি অর্থ সহায়তা দিয়ে রাস্তাটি সংস্কার করেছে। মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির এফজি মো. আব্দুস সালাম বলেন “রাস্তাটি ঝূঁকিপূর্ণ থাকায় পর্যটকরা সমস্যায় পড়ত। স্থানীয়রা রাস্তাটি সংস্কার করায় বর্তমানে এই রুট দিয়ে প্রতিদিন শত শত মানুষ নিরাপদে সুন্দরবন ভ্রমন করছে”।
সোনার বাংলা ম্যানগ্রোভ ইকো ট্যুরিজমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক নাজমূস সাদাত পলাশ বলেন“সুন্দরবন পৃথিবীর সম্পদ। আমাদের অস্তিত্বের জন্য এই বনের সুরক্ষা জরুরী। আমরা বনের প্রাণ ও প্রকৃতি সুরক্ষায় কাজ করছি। পাশাপাশি সুন্দরবন ইকো পর্যটন সমৃদ্ধ করতে ছোট ছোট উদ্যোগ বাস্তবায়ন করে চলেছি। মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির পল্টন সংযোগ রাস্তা সংস্কার তারই অংশ”।
সুন্দরবন পর্যটক সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার নির্বাহী সদস্য খন্দকার আরিফ হাসান প্রিন্স বলেন,“আমি প্রতি বছর শিক্ষার্থীদের নিয়ে সুন্দরবন ভ্রমনে আসি। গত বছর মুন্সিগঞ্জ বন টহল ফাঁড়ির পল্টন সংযোগ রাস্তাটি ঝূঁকিপূর্ন থাকায় বেশ অসুবিধা হয়েছিল। এ বছর নিরাপদে শিক্ষার্থীদের নিয়ে নৌযানে উঠতে পেরেছি। স্থানীয়দের রাস্তা সংস্কারের উদ্যোগ ক্ষুদ্র কিন্তু মহান। সবাই মিলে ছোট ছোট উদ্যোগ নিলে অবশ্যই সুন্দরবন পর্যটন সমৃদ্ধ হবে”।