বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১০, ২০১৯ ||

পঞ্চানন মল্লিক
১০ জানুয়ারি, জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বদেশ প্রত্যাবর্তন দিবস। বাঙালি কৃতজ্ঞ চিত্তে এ দিবসটি স্মরণ ও উদযাপন করে। ১৯৭২ সালের এই দিনে পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্তি পেয়ে বঙ্গবন্ধু স্বাধীন বাংলাদেশের মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেছিলেন। দিনটি ছিলো বাঙালি জাতির জন্য মহান গৌরবের ও আনন্দের এক দিন। ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে অতর্কিতে বর্বরের মত বাঙালিদের উপর ঝাপিয়ে পড়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনী। নির্বিচারে হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে হত্যা করে নিরীহ বাঙালিদেরকে। বাঙালিদের আশা আকাঙ্খার কান্ডারি শেখ মুজিবুর রহমানকে ঐদিন রাতেই ধানমন্ডির বাসা থেকে গ্রেপ্তার করে তারা। পরবর্তিতে তাঁকে নিয়ে যাওয়া হয় তৎকালিন পশ্চিম পাকিস্তানের কারাগারে। সেখানে ২৯০ দিন আটকে রাখা হয় বঙ্গবন্ধুকে। দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী স্বাধীনতা যুদ্ধের পর ১৯৭১ সালের ১৬ ডিসেম্বর বাঙালি জাতি চূড়ান্ত বিজয় লাভ করলে পাকিস্তান স্বৈরশাসক জাতির জনক বঙ্গবন্ধুকে মুক্তি দিতে বাধ্য হয়। ১৯৭২ সালের এই দিনে তিনি স্বাধীন বাংলার মাটিতে প্রত্যাবর্তন করেন। মুক্তি পাওয়ার পর তিনি প্রথমে পাকিস্তান থেকে লন্ডনে যান। সেখান থেকে ভারতে দিল্লীতে আসেন। তারপর সেখান থেকে তিনি ব্রিটিশ এয়ারওয়েজের একটি ফ্লাইটে করে ঢাকার তেজগাঁও বিমান বন্দরে এসে নামেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে তিনি ছাড়া পান ১৯৭২ সালের ৭ জানুয়ারি ভোর রাতে। ৮ তারিখ সকালে তিনি বিমানে করে পৌঁছান লন্ডন হিথরো বিমান বন্দরে। ঐদিন সকাল ১০টার পর তিনি কথা বলেন ব্রিটেনের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ, এখানকার তাজউদ্দিন আহমদ, ভারতের তৎকালিন প্রধানমন্ত্রী মিসেস ইন্দিরা গান্ধীসহ অনেকের সাথে। পরে ব্রিটেনের বিমান বাহিনীর একটি বিমানে চড়ে ৯ জানুয়ারি রওয়ানা দেন দেশের উদ্দেশ্যে। পথিমধ্যে ১০ জানুয়ারি ভারতের দিল্লীতে নেমে তিনি সেখানকার রাষ্ট্রপতি ভিভিগিরি, প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী, সে দেশের সমগ্র মন্ত্রীসভা, প্রধান প্রধান নেতৃবৃন্দ, তিন বাহিনীর প্রধানগণ এবং অন্যান্য অতিথি ও সেখানকার জনগণের কাছ থেকে উষ্ণ সংবর্ধনা লাভ করেন। পরে ঐদিন দুপুর ১টা ৪১ মিনিটে তিনি ঢাকায় পৌঁছান। ১৬ ডিসেম্বর চূড়ান্ত বিজয় লাভের পর বাঙালি তাদের প্রাণের নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে প্রাণবন্ত সংবর্ধনা জানানোর জন্য একাগ্র চিত্তে অপেক্ষায় ছিলো। তাঁর অপেক্ষায় সেদিন ঢাকার তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে শাহাবাগ পর্যন্ত লাখো মানুষের ঢল নেমে আসে। বঙ্গবন্ধুর গাড়ি বহর তেজগাঁও বিমান বন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান অর্থাৎ বর্তমানে সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে পৌঁছাতে সময় লাগে প্রায় ৪ ঘন্টা। আনন্দে আত্মহারা বাঙালি বিমান বন্দর থেকে রেসকোর্স ময়দান পর্যন্ত বঙ্গবন্ধুকে স্বতস্ফুর্ত অভিনন্দন জানান। পরে রেসকোর্স ময়দানে বিশাল জনসভায় তিনি আগত মানুষের উদ্দেশ্যে ভাষন দেন। পাকিস্তানের কারাগার থেকে মুক্ত হয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের স্বাধীন স্বদেশে ফিরে আসা ছিলো বাঙালি জাতির জন্য এক মহান প্রাপ্তি ও আর্শিবাদের। একাগ্র চিত্তে জাতি তাই এদিনটি পালন করে। লেখক: কবি ও কলামিস্ট