আজ কপিলমুনির স্থপতি রায় সাহেব’র ৮৪তম মৃত্যু দিন


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৮, ২০১৯ ||

আব্দুস সবুর আল আমীন, কপিলমুনি (খুলনা): আজ শুক্রবার দক্ষিণ খুলনার মহা দানবীর রায় সাহেব বিনোদ বিহারী সাধুর ৮৪তম মৃত্যু দিবস। তিনি ছিলেন একজন সমাজ সংস্কারক ও জ্ঞান পিপাষু ব্যক্তি। তাঁর স্পর্শে কপিলমুনিতে গড়ে উঠেছিল অসংখ্য জনহিতকর প্রতিষ্ঠান।
জানাযায়, বাং ১২৯৬ সনের ২৬ বৈশাখ; তৎকালীন অবিভক্ত বাংলার বর্তমান খুলনা জেলার দক্ষিণাঞ্চলের অজপাড়া গাঁ কপিলমুনিতে তাঁর জন্ম। পিতা যাদব চন্দ্র সাধু সাধু, মাতা সহচরী দেবী, শৈশব ও কিশোর জীবন পেরুতে না পেরুতেই তাঁর সমাজ সাধনার দিন শুরু হয়। তিনি মাত্র ১৩ বছর বয়সে নিজেকে ব্যবসায় জড়িয়ে ফেলেন, তৎকালীন সময়ে ব্যবসার প্রসার বাড়াতে তিনি কোলকাতার সাথে যোগাযোগ স্থাপন করে কপিলমুনির উন্নয়ন কাজ শুরু করেন। তাঁর ব্যবসায়ীক উপার্জনের পয়সা দিয়ে বৃহত্তর কপিলমুনির মানুষের শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও বাণিজ্যিক প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থা করেছেন। মায়ের নামে সহচরী বিদ্যামন্দির (বর্তমানে স্কুল এন্ড কলেজ), ২০ শয্যা বিশিষ্ট চিকিৎসালয় যা তৎকালীন ভারতের বীর বাহাদুর যদু নাথ সরকার কর্তৃক দারোদঘাটিত হয়। পাশাপাশি এলাকার বেকারত্ব ঘুচাতে প্রতিষ্ঠা করেন অমৃতময়ী টেকনিক্যাল স্কুল। তাঁর উন্নয়নের পুরষ্কার হিসেবে তৎকালীন সরকার তাঁকে রায় সাহেব উপাধিতে ভূষিত করেন। যখন খুলনা অঞ্চলে বিদ্যুৎ এর ব্যবস্থা ছিল না তখন তিনি সুদুর কোলকাতা থেকে কপিলমুনি বাজারকে আলোকিত করতে জেনারেটরের মাধ্যমে আলোর ব্যবস্থা করেন। এলাকার মানুষদের সুপেয় পানি পান করানোর জন্য তিনি খনন করেন ‘সহচরী সরোবর’ নামে একটি বৃহৎ পুকুর (বর্তমানে বালির মাঠ)। ক্ষনজন্মা এই মহা মনিষিকে অত্র এলাকার সকল মানুষ মহা মানব হিসেবে স্মরণ করে থাকেন। তাঁর নিজ অর্জিত অর্থ দ্বারা ক্রয়কৃত প্রায় ৫০একর সম্পত্তির উপর প্রতিষ্ঠা করেন ‘বিনোদগঞ্জ’ যা এখন কপিলমুনি বাজার নামে পরিচিত। বিনোদগঞ্জ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, খেলার মাঠ ও বিনোদনের জন্য পাবলিক স্টেডিয়াম সবই তাঁর স্মৃতি বহন করে। তিনি ব্যবসায়ীদের স্বার্থ রক্ষায় একই সময় প্রতিষ্ঠা করেন উৎকর্ষ সমিতি ও সিদ্ধেশ্বরী ব্যাংক। ব্যবসায়ীরা তাঁদের প্রয়োজনে উক্ত ব্যাংক থেকে অর্থ গ্রহন করতেন। এলাকার উন্নয়নের স্বার্থে তিনি স্ট্রেট ব্যাংক অব ইন্ডিয়ায় বহু টাকা সঞ্চয় করেন, কিন্তু দেশ ভাগের পর তার রাখা অর্থ ফেরৎ পাওয়া যায়নি।
কোলকাতা সদর থেকে ৬মাইল উত্তরে আগরপাড়া নামক স্থানে ব্যবসার সুবাদে বসবাস করার জন্য বহু টাকা ব্যয়ে একটা বাগান বাড়ি ক্রয় করেন। সে সময় সেখানে স¦-পরিবারে বসবাস শুরু করেন। এক বছরের বেশি সময় চললো এ ভাবেই। কিন্তু ছোট বেলার অভ্যাস কর্মশূন্য হয়ে থাকতে পারেন না তিনি। সেখানে বসবাস করাটা তাঁর জন্য ছিল এমন যে, এক দিকে কর্মশুন্যতা, অন্যদিকে শহুরে বদ্ধজীবন যাপন। তাই তিনি চলে আসেন জম্মভূমি কপিলমুনিতে। কিন্তু ভাগ্যটা এতই প্রতিকুল যে, এখানে ফিরেও তিনি বেরীবেরী রোগে আক্রান্ত হলেন। কলকাতার সকল চিকিৎসকের সাধনা বিফল করে বাং ১৩৪১ সনের ৩রা মাঘ মাত্র ৪৫ বছর বয়সে ধরনী ত্যাগ করেন তিনি।



error: Content is protected !!