অপুষ্টি ও রোগ প্রতিরোধে টমেটো


প্রকাশিত : জানুয়ারি ১৮, ২০১৯ ||

মোঃ আবদুর রহমান
ক্যান্সার মারাত্মক একটি প্রাণসংহারী ব্যাধি। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট অনুযায়ী বিশ্বে প্রতি বছর প্রায় ৪৩ লক্ষ মানুষ ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুবরণ করে এবং ৫৯ লক্ষ মানুষ নতুন করে আক্রান্ত হয়। এই সংখ্যা ক্রমশঃই বাড়ছে অর্থাৎ এই রোগ এখন স্বাস্থ্য সমস্যাকে প্রকটতর করে দিচ্ছে।
ক্যান্সার নিয়ে গবেষণার অন্ত নেই। ক্যান্সারের উৎপত্তি এবং এ রোগের বিস্তার রোধ করার উপার নিয়ে বিশ্বব্যাপী চিকিৎসক ও গবেষকরা নানাবিধ চিন্তা ভাবনা করছেন। ইতিমধ্যে যে বিষয়ের উপর গবেষণা চালিয়ে কিছুটা অগ্রগতি অনুমান করা যাচ্ছে তা হলো খাদ্যাভ্যাস। ১৯৮১ সনে দু’জন ব্রিটিশ বিজ্ঞানী রিচার্ড ডল ও রিচার্ড পেটো অভিমত ব্যক্ত করেন শুধুমাত্র খাদ্যাভ্যাসের পরিবর্তনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে ক্যান্সারে মৃত্যুর হাত এক তৃতীয়াংশ কমিয়ে আনা সম্ভব। অপরদিকে আমেরিকার ক্যান্সার ইনস্টিটিউটও খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের মাধ্যমে ক্যান্সার প্রদিরোধ সম্ভব হলে মতামত দেয়।
বিজ্ঞানীগণ বিভিন্নভাবে গবেষণা ও পর্যবেক্ষণ করে দেখেছেন নিরামিশ ভোজীদের ক্যান্সার হওয়ার হার আমিষ ভোষীদের চেয়ে তুলনামূলক কম। সে সব লোক শাক-সবজি নিয়মিত আহার করেন তারা তুলনামুলকভাবে ক্যান্সার রোগে কম আক্রান্ত হন। কারণ শাকসবজিতে এমন কিছু বিশেষ উপাদান রয়েছে যা শরীরে ক্যান্সার কোষ হওয়ার প্রক্রিয়াকে প্রতিহত করতে সহায়তা করে। নিউইয়র্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ট্রল এবং সারা বিশ্বের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞগণ এ ব্যাপারে একমত পোষণ করেন।
টমেটো অতিপ্রিয় ও পুষ্টিকর শীতকালীন সবজি। টমেটোর উদ্ভিতাত্ত্বিক নাম খুপড়ঢ়বৎংরপঁস বংপঁষবহঃঁস, পরিবার সোলানেসি (ঝড়ষধহধপবধব)। ইংরেজি নাম ঞড়সধঃড়, টমেটো কে এদেশে বলা হয় বিলাতি বেগুন বা টক বেগুন। দক্ষিণ আমেরিকা টমেটো উৎপত্তির কেন্দ্রস্থল। তবে অনেক বিজ্ঞানী মেক্সিকো দেশটিকে টমেটোর উৎপত্তি স্থল মনে করেন। আকর্ষণীয় রঙ, স্বাদ, উচ্চ পুষ্টিমান এবং বহুবিধ ব্যবহারের কারনে টমেটো সকলের কাছে একটি জনপ্রিয় সবজি। আহার উপযোগী প্রতি ১০০ গ্রাম পাকা টমেটোতে রয়েছে আমিষ ০.৯ গ্রাম, শ্বেকসার ৩.৬ গ্রাম, চর্বি ০.২ গ্রাম, ০.১২ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-১, ০.০৬ মিলিগ্রাম ভিটামিন বি-২, ভিটামিন সি-২৭ মিলিগ্রাম, ক্যালসিয়াম ৪৮ মিলিগ্রাম, লৌহ ০.৪ মিলিগ্রাম এবং ক্যারোটিন ৩৫১ মাইক্রোগ্রাম। এছাড়া ২০ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি রয়েছে। কাঁচা টমেটোতে পাকা টমেটোর চেয়ে আমিষ, ভিটামিন সি, খনিজ লবন, লৌহ ও খাদ্যশক্তি বেশি থাকে। আর পাকা টমেটোতে কাঁচা টমেটোর চেয়ে ক্যারোটিন (ভিটামিন ‘এ’) ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২ ও ক্যালসিয়াম বেশি থাকে।
টমেটো প্রেমী মানুষদের জন্য একটি সুখবর। অতি সম্প্রতি আমেরিকার ন্যাশনাল ক্যান্সার ইনষ্টিটিউটের গবেষকরা টমেটোর ওপর গবেষণা করে দেখছেন যে, এতে রয়েছে এক ধরনের এন্টি-অক্সিডেন্ট যার নাম ‘লাইকোপেন’ (খুপড়ঢ়বহব)। এই লাইকোপেন দেহ কোষ হতে বিষাক্ত ফ্রি রেডিক্যাল সরিয়ে প্রোষ্টেট ক্যান্সারসহ মূত্রাথলি, অগ্নাশয় ও অন্ননালীর ক্যন্সার প্রতিরোধ করে। এছাড়াও টমেটোতে থাকে ভিটামিন ‘সি’, পি-কুমারিক এসিড ও ক্লোরোজেনিক এসিড। এগুলোও এন্টি-অক্সিডেন্ট হিসেবে কাজ করে। আর শরীরের ক্যান্সার রুখে এগুলোই। উত্তর ইউরোপের গবেষকরা দেখেছেন, দৈনিক অন্ততঃ একটি করে কাঁচা টমেটো খেলে, ক্যান্সারের সম্ভাবনা ৬০% কমে যায়।
কাজেই দেখা যাচ্ছে, ক্যান্সার প্রতিরোধে টমেটোর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাই দেহের পুষ্টি চাহিদা পূরণ ও প্রাণঘাতী রোগ ক্যান্সার প্রতিরোধে এসময় প্রতিদিন প্রচুর পরিমাণে টমোটো খাওয়া অত্যন্ত জরুরি।
লেখক উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা উপজেলা কৃষি অফিস, তেরখাদা, খুলনা।



error: Content is protected !!