২৫ বছরের পথচলায় দৈনিক পত্রদূত


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২২, ২০১৯ ||

মো. আনিসুর রহিম
১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারী থেকে আজ ২০১৯ এর ২৩ জানুয়ারী। দীর্ঘ ২৫ বছর পার করে ২৬ বছরে পদার্পন। সাংবাদিকতা ও পত্রিকা প্রকাশনায় সে আমলে সাহসী আর ত্যাগী মানুষ ছাড়া অন্য কেউ আগ্রহী বা উদ্যোক্তা হওয়ার কথা ভাবতেন না। সাংবাদিকতার জগতে দুই শ্রেণির মানুষের বিচরণ ছিল। স. ম. আলাউদ্দিন সব কিছুর উর্দ্ধে একজন দেশপ্রেমিক সাহসী মানুষ হিসেবে সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়নের কথা ভাবতেন। জেলার উন্নয়নে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, প্রশাসনিক কর্তকর্তা, সুশীল সমাজের ভূমিকার পাশাপাশি জনমতের বিষয়টি অধিকতর গুরুত্বপূর্ণ বলে স. ম আলাউদ্দিন ভাবতেন। সৎ সাহসী একজন দেশপ্রেমিক মানুষ হিসেবে তিনি মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণ করেছিলেন। একজন নির্ভীক যোদ্ধা যিনি সরাসরি বিভিন্ন যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে সাতক্ষীরাবাসীর নিকট বিশেষ শ্রদ্ধার আসনে আসীন হয়েছিলেন। সাতক্ষীরা জেলার শিল্প কারখানা স্থাপন, ব্যতিক্রমধর্মী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা, শিল্প ও বণিক সমিতির সভাপতির দায়িত্ব পালন, শ্রমিক সংগঠনের নেতৃত্বদান, বিভিন্ন পেশাজীবী সংগঠনের সংগঠক হিসেবে সম্পৃক্ত থাকাসহ রাজনৈতিক কর্মকান্ডে শীর্ষ পর্যয়ে দায়িত্ব পালন করতেন। এতসবকিছুর পর তিনি ভাবতে শুরু করলেন জনমত গঠনের বিষয়টি খুবই জরুরী। বিভিন্ন সভা সমাবেশে সব সময় সবার মাঝে সময়ের কথা সময়ে বলার উপযুক্ত মাধ্যম হলো একটি ভাল পত্রিকা। জনপদের উন্নয়ন, নাগরিক অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং অন্যায়-অবিচার-নির্যাতন-দুর্নীতির বিরুদ্ধে নিত্যদিন কথা বলার সব থেকে বড় মাধ্যম হিসেবে স.ম. আলাউদ্দিন দৈনিক পত্রদূত প্রকাশের সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন।
দৈনিক পত্রদূত ১৯৯৫ সালের ২৩ জানুয়ারী প্রকাশনার পর ১৯৯৬ সালের ১৯ জুন ঘাতকের গুলিতে স.ম. আলাউদ্দিনের জীবনাবসান ঘটেছিল। বীর মুক্তিযোদ্ধা আলহাজ্ব স. ম. আলাউদ্দিন তারই প্রতিষ্ঠিত দৈনিক পত্রদূত অফিসে কর্মরত ছিলেন। ঘাতকেরা পরিকল্পিতভাবে স. ম. আলাউদ্দিনকে হত্যা করেছিল। কারা করেছিল? কিভাবে করেছিল? কেন করেছিল? এসবকিছু সাতক্ষীরাবাসী অবহিত। লাটভাই-গডফাদার বিভাবে সরকার ও জনগণেল সহায় সম্পত্তি ভোগ দখল করে। কিভাবে অবৈধ ব্যবসা করে এবং সেখান থেকে পাওয়া অর্থের এক ক্ষুদ্র ভগ্নাংশ অর্থ প্রশাসনিক ব্যক্তিদের পকেটে নিয়মিত প্রদান করে আইন-শাসন-বিচার সবকিছু নিজের করায়ত্ত¡ করে স. ম. আলাউদ্দিন হত্যাকারিরা সাতক্ষীরা জেলায় তার দৃষ্টান্ত সৃষ্টি করেছে। সে কারণে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধার হত্যাকান্ডের ২৪ বছর পর হত্যাকারিদের বিচারকাজটি ঝুলে রয়েছে। যিনি বা যারাই বিচারকার্য সম্পাদন করবেন তারা হয়তো গডফাদারদের ক্ষমতার ইতিহাসের পুন:বৃত্তি ঘটাবেন। এমনই এখনো পর্যন্ত পর্যবেক্ষণে অনেকে মনে করছেন।
স.ম আলাউদ্দিন দৈনিক পত্রদূত প্রতিষ্ঠা করে নিকে বাঁচতে না পারলেও দীর্ঘ ২৫ বছরের পথচলায় পত্রদূত আপন মহিমায় বেঁচে আছে। সাতক্ষীরা জেলার উন্নয়ন কর্মকান্ডে জনমত গঠনে দৈনিক পত্রদূত আজও স. ম. আলাউদ্দিনের স্বপ্নকে বাঁচিয়ে রেখেছে।
কতশত বাধা বিপত্তি নিত্যদিন আসছে। তার কোন পরিসংখ্যান লিপিবদ্ধ করা হয়না। কারণ অনেক কথাই বলা যায় না। অনেক কথা বলতে নেই। সত্য সব সময় সুন্দর। আবার সত্য সব সময় নির্মমও বটে। আর সে কারণেই সুদীর্ঘ ২৪ বছরে পত্রদূত প্রতিষ্ঠাতা স. ম. আলাউদ্দিনের হত্যাকারিদের বিচার সাতক্ষীরাবাসী আজও দেখতে পায়নি। অথচ স. ম আলাউদ্দিন একজন সম্মুখ সমরে অংশ গ্রহণকারী বীর মুক্তিযোদ্ধাই ছিলেন তা নয়, তিনি জেলা আওয়ামী লীগের শীর্ষ স্থানীয় নেতা ছিলেন। নিয়তির নির্মম পরিহাসের মত কথা তার অনেক কিছুই হৃদয়ের গহীনে জমা হয়ে থাকবে। বুঝেও না বুঝে থাকতে হবে। এখন এমনই সময় যে সময়ে কথা বলা ভাল নয়।
ভরসা এতটুকুই দৈনিক পত্রদূত আপন মহিমায় বিকশিত হয়ে তার ২৫ বছর অতিক্রম করে ২৬ বছরে পদার্পন করেছে। পত্রদূত স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের অসীম সাহসীকতার চেতনায় উদ্ভাসিত হয়ে পথ চলছে। জন মানুষেল জীবন জীবীকার উন্নয়নের পথ সৃষ্টিতে এবং সাতক্ষীরা জেলার সামগ্রিক উন্নয়নের লক্ষ্যে পত্রদূত তার প্রকাশনা আজ পর্যন্ত অব্যাহত রাখতে পেরেছে। আগামীতে পত্রদূত সাতক্ষীরাবাসীর পাশে থেকে পথচলবে এ তার জন্মগত অঙ্গীকার।