বেনাপোল বন্দর টার্মিনালের এ্যাসিডে অসুস্থ হয়ে পড়েছে মানুষ: পরিবেশে পড়ছে বিরুপ প্রভাব


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৪, ২০১৯ ||

এম এ রহিম, বেনাপোল (যশোর): দেশের প্রধান স্থরবন্দর বেনাপোলের ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে এসিডসহ বিভিন্ন ধনের ভারী পন্য রাখায় বন্দরের আসপাশে বসবাস রত মানুষ পড়েছেন মহা দুর্ভোগে। অসুস্থ হয়ে পড়েছে অনেকে। ধুলা বালি উড়ার ফলে ও হর্ণ বাজানোয় শিশু বৃদ্ধরা পড়ছেন সমস্যায়। পরিবেশ ও সমাজে পড়ছে বিরুপ প্রভাব। এসিডের বিক্রিয়ায় বাড়ি ঘর ধ্বসে পড়ার আশংকা করছেন ভুক্তভোগী মানুষ। দীর্ঘদিন এলাকার মানুষ বিষয়টি অভিযোগ আকারে বন্দর কর্তৃপক্ষকে জনালেও কোন কাজ হয়নি। মোছা: শেলী, মোছা: মাবিয়া খাতুন, মমতাজ বেগম, আফজাল হোসেন, বদরুল আলমসহ অসংখ্য মানুষ এসিডের বিক্রিয়া ও শব্দ দুষনে রোগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন।
বন্দরের ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালের গা ঘেষে বসবাসকারী বদরুল আলম ও আব্দুল জব্বার জানান, বন্দরের ভারতীয় ট্রাক টার্মিনালে ভারতীয় পন্য বোঝাই ট্রাক রাখার কথা থাকলেও সেখানে নিয়ম বহির্ভূতভাবে রাখা হচ্ছে আমদানিকতৃ এসিড ও ভারী লৌহ জাতীয় দ্রব্য। সেখানে ভারতীয় ট্রাক ড্রাইভারদের জন্য বাথরুমের ব্যবস্থা থাকলেও ড্রেনে পায়খানা ও প্রসাব করে পরিবেশ নস্ট করছে। দুর্গোন্ধে রাস্তাপারাপারে পথচারিরা কষ্ট পাচ্ছে। ট্রাক টার্মিনালে পন্য রাখায় রাত দিন চব্বিশ ঘন্টা ভারী পণ্যসহ এসিড জাতীয় পন্য লোড আনলোড করা হচ্ছে। রাতে বিকট শব্দে বন্দরের পাশ্ববর্তী লোকজন নির্ঘূম রাত কাটাচ্ছে।
বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রাচীর দিয়ে গোটা এলাকাবাসীকে ঘিরে ফেলা হয়েছে। তবে অব্যবস্থাপনার বিষয়ে দীর্ঘদিন দাবি করেও কোন ফল হয়নি তাদের। ফলে কয়েক হাজার পরিবার মানবেতন জীবন যাপন করছেন।
এলাকাবাসীর দীর্ঘদিনের দাবির প্রেক্ষিতে গত সালের ২ডিসেম্বর বেনাপোল পৌর সভার মেয়র আশরাফুল আলম লিটন ও বন্দর ব্যবহারকারী ব্যবসায়ী সংগঠন সিএন্ডএফ এজেন্টস এসোসিয়েশনের সভাপতি মফিজুর রহমানসহ ১৯৪টি পরিবার স্বাক্ষরিত একটি আবেদন করা হয় বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে। বিষয়টি বিবেচনায় এনে ২০১৮ সালের ১৬ ফেব্রুয়ারী বন্দরের পরিচালক নিতাই চন্দ্র স্বাক্ষরিত বন্দরের পাশ্ববর্তী ৯.৫৬ একর জমি অধিগ্রহণের জন্য বাংলাদেশ স্থল বন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে একটি সুপারিশপত্র প্রেরণ করেন।
সর্বশেষ ২০১৯ সালের ৩ জানুয়ারী এলাকাবাসী বেনাপোল বন্দরের উপ পরিচালক আব্দুল জলিলের সাথে মানবিক বিষয়টি তুলে ধরে সমাধান চাইলে তিনি বলেন, এক সপ্তাহের মধ্যে সব সমস্যা সমাধান করা হবে বলে আশ্বস্থ করেন। কিন্তু অদ্যবধি এর কোন সুরাহ হয়নি। বেনাপোল বন্দরের উপ পরিচালক আব্দুল জলিল আরো জানান, বিষয়টি মানবিক বিবেচনা করে বন্দরের উর্ধতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। আশা করি অচিরেই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। অপরদিকে বন্দরের নির্দিষ্ট এলাকায় জনবসতি উঠিয় দিলে পরিবেশ ও সমাজের ভারসম্য রক্ষা পাবে জানান বন্দর ব্যাবহারকারি বিভিন্ন সংগঠন। গতি পাবে বন্দরের। রক্ষা পাবে এলাকার মানুষ।