আজ ২১তম মৃত্যু বার্ষিকী: এড. এন্তাজ আলীর নামে সাতক্ষীরা ষ্টেডিয়াম নামকরণের দাবী


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৬, ২০১৯ ||

পত্রদূত ডেস্ক: প্রবীন রাজনীতিবিদ, সাবেক জাতীয় সংসদ সদস্য, জেলা আওয়ামী লীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি বীর মুক্তিযোদ্ধা মরহুম এড. এএফএম এন্তাজ আলীর ২১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। সাবেক সাংসদ বীর মুক্তিযোদ্ধা এড. এএফএম এন্তাজ আলী ১৯৯৮ সালের ২৬ জানুয়ারী পবিত্র শবে কদরের রাতে মৃত্যুবরণ করেন। তিনি তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সিনিয়র সহ-সভাপতি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ফজলুল হক হলের ভিপি, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি এবং ৭১ এর যুদ্ধকালীন সময় মুজিব বাহিনীর সাতক্ষীরার (তৎকালীন সময় সাতক্ষীরা মহকুমা) প্রধান ছিলেন। এড. এএফএম এন্তাজ আলী ঢাকায় ৬ দফা আন্দোলনে (প্রথম দিনের আন্দোলনে) রাজধানীতে টায়ার জ্বালিয়ে আন্দোলন শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। ওই আন্দোলনে সাবেক কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতা ও সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী মৃত আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক কেন্দ্রীয় আ.লীগ নেতা ও সাবেক অর্থমন্ত্রী মৃত শাহ এস এম কিবরিয়া, সাতক্ষীরার এড. এএফএম এন্তাজ আলী অন্যতম ছিলেন। পরে বঙ্গবন্ধুর নির্দেশে দেশব্যাপী ছড়িয়ে দিয়ে আন্দোলন জোরদার করতে এড. এএফএম এন্তাজ আলী সাতক্ষীরায় চলে আসেন। এছাড়া তিনি ঘাতক দালাল নির্মুল কমিটির সাতক্ষীরা জেলার সভাপতি ছিলেন এবং সাতক্ষীরা জেলা ক্রীড়া সংস্থার কর্মকর্তা ও পিকে ইউনিয়ন ক্লাবের সভাপতি ছিলেন। স্বৈরাচারী এরশাদ সরকারের সময় ১৯৯০ সালে সর্বদলীয় ও ১৯৯৬ সালে জেলার আহবায়কের দায়িত্ব পালন করেন। তাছাড়া তিনি সাতক্ষীরার সামাজিক, ক্রীড়া, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিকসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। মরহুম এড. এএফএম এন্তাজ আলী ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। তিনি ৭১সালে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন সময়ে ভারতের সাথে যোগাযোগ রেখে অস্ত্র দেশে এনে মুক্তিযোদ্ধাদের হাতে তুলে দিয়ে তাদেরকে সংগঠিত করেছিলেন। তিনি ৭০সালে বীরমুক্তিযোদ্ধা খসরু আলমগীরকে সাতক্ষীরার (পুরাতন কোর্ট) হাজতখানা হতে পালাতে ও ৭১সালে সাবেক পানি সম্পদ মন্ত্রী মৃত আব্দুর রাজ্জাককে ভারতে যেতে সাহায্য করেছিলেন। তাছাড়া ৭৫সালে বঙ্গবন্ধুকে স্ব-পরিবারে হত্যার পর তিনি বর্তমান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরকে ভারত থেকে দেশে ফিরিয়ে আনতে সহযোগীতা করেন। এ নেতা আজীবনকাল দেশ ও দশের জন্য কাজ করে গেছেন। এদিকে এড. এন্তাজ আলীর পরিবার অভিযোগের সুরে বলেন, বঙ্গবন্ধুর ঘনিষ্ট সহযোগী এড. এন্তাজআলীর মৃত্যুর পর প্রায় ২ সপ্তাহের মাথায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিজ উদ্যোগে তার সাতক্ষীরা শহরের পলাশপোলস্থ নিজ বাসভবনে আসেন পরিবারকে সান্তনা জানাতে। কিন্তু দুঃখজনক হলেও সত্য প্রবীণ এ নেতার মৃত্যুর পর থেকে জেলা আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আজ পর্যন্ত সময় কোন শোক ও স্মরণ সভাও করা হয়নি। এমনকি এ নেতার নামে আজ পর্যন্ত সাতক্ষীরার কোন জায়গা তার নামে নামকরণ করা হয়নি। এদিকে, এ নেতার স্মৃতি ও আদর্শ ধরে রাখতে সাতক্ষীরা ষ্টেডিয়াম এড. এন্তাজ আলীর নামে নামকরণের দাবী জানিয়েছে। এব্যাপারে এড. এন্তাজআলীর পরিবার ও বীরমুক্তিযোদ্ধা এড. এন্তাজ আলী স্মৃতি সংসদ জেলা আ.লীগ, সদর এমপি, জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ও পৌর মেয়রের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন।