প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতিতে দেবহাটায় ৯০ পরিবার পেলো মাথা গোজার ঠাই


প্রকাশিত : জানুয়ারি ২৮, ২০১৯ ||

আজিজুল হক আরিফ, দেবহাটা: প্রায় ৮ বছর আগের কথা। স্বামী ফেলে রেখে চলে গেছেন পদ্মারানী দাসের। তারপর থেকে লোকের বাড়ি থেকে চেয়েচিন্তে খেয়ে না খেয়ে দিন পার করতে থাকে সে। এক পুত্র সন্তানকে নিয়ে বড়ই অভাব অনাটনে দিন পার করতে থাকে পদ্মারানী। পেটের দায় বাধ্য হয়ে লোকের জমিতে শ্রমিকের কাজ শুরু করে। সেখান থেকে উপার্জিত আয় দিয়ে কোন রকম সংসার পরিচালনা করেন স্বামী পরিত্যক্তা অসহায় ঐ নারী। তারে বসবাসের একটি মাটির দেয়ালের ঘর থাকলেও সেটি যেকোন সময় ভেঙ্গে পরার আশংঙ্কা বিরাজ করছিল। এমনকি বসবাসের ঘরের ছাউনি ভেদ করে বৃষ্টিতে একাকার হয়ে যেত সব জিনিষপত্র। আর গরমের দিনে আগুন ঝরার মত ছিল পদ্মারানীর ঘরে। ঠিক এমন সময় উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয় তাকে সরকারিভাবে ঘর তৈরী করে দেওয়া হবে। একথা শুনে আনন্দে আত্মহারা হয়ে পড়ে পদ্মারানী। কয়েদিনের মধ্যে সরকারি ভাবে একটি নতুন ঘর তৈরী ও একটি স্বাস্থ্যসম্মত বাথরুম স্থাপন করে দেওয়া হয়ে তার। তার সাথে একটি উন্নতমানের বন্ধু চুলা প্রদান করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার নিজেই। উপরের ঘটনা এমন ভাবে শোনাচ্ছিলেন দেবহাটার সদর ইউনিয়নের আশ্রায়ণ প্রকল্প-২ এর সুফলভোগী বসন্তপুর গ্রামের পদ্মারানী। সরেজমিনে দেখা মিলেছে, গৃহহীন মানুষের জমি আছে, কিন্তু ঘর নেই বা ঘর তৈরীর সামর্থ নেই তাদের সরকারি অর্থায়নে নিজ জমিতে ঘর করে দেয়ার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রীর আশ্রয়ণ-২ প্রকল্পের আওতায় সারা দেশের মতো দেবহাটা উপজেলার ৫টি ইউনিয়নের ৪৫টি ওয়ার্ডে ৯০ অসহায় পরিবার পেয়েছে নতুন ঠিকানা। প্রধানমন্ত্রীর এমন মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্টদের আন্তরিকতায় সঠিকভাবে সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের আশ্রয়ন প্রকল্পের সুবিধাভোগীরা ইতোমধ্যে সুবিধা ভোগ করতে শুরু করেছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় সুত্রে জানা গেছে, আশ্রায়ন প্রকল্প-২ এর অধীনে উপজেলায় ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ৯০টি ঘরের জন্য প্রতিটি ঘরের জন্য ১ লাখ টাকা করে বরাদ্ধ প্রদান ছিল। আর এই বরাদ্ধ অনুযায়ী সঠিক সময়ের মধ্যে ঘরগুলো নির্মাণ করে সুবিধাভোগীদের মাঝে হস্তান্তর করা হয়েছে। অনুকুল ঋষির ছেলে গণেষ ঋষি জানান সরকার আমাদের ঘর দেওয়ায় আমরা খুব খুশি। ফ্রি ঘর দেয়ায় আমরা সরকার সহ সংশ্লিষ্টদের ধন্যবাদ জানায়। তিনি আরো জানান, বাড়ি পর্যন্ত ঘর নির্মাণের মালামাল আনতে এবং ঘরের মধ্যে বালু কিনে ভরাট করতে কোন টাকা খরচ হয়নি। সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ঘরপেয়ে আমরা কৃতজ্ঞ। সখিপুর ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক শেখ ফারুক হোসেন রতন জানান, আমাদের ইউনিয়নের যারা ঘর পেয়েছে তারাই প্রকৃত দাবিদার। সরকার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী আশ্রায়ন প্রকল্প-২ একটি সময় উপযোগী যুগন্তরী পদক্ষেপ। এর মাধ্যমে অসংখ্য মানুষ মাথা গোজার ঠাঁয় পেয়েছে। সরকারের অঙ্গিকার অনুযায়ী দেশের গৃহীন মানুষ আজ বিনামূল্যে বাসস্থান পেতে শুরু করেছে। এভাবেই একসময় গৃহহীন মানুষ খুঁজে পাওয়া যাবে না। উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাফিজ-আল-আসাদ জানান, সরকার প্রতিটি ঘরের জন্য ১লাখ টাকা বরাদ্ধ প্রদান করেন। সেই অনুযায়ী দেবহাটায় ৯০টি ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। আমি নিজেই ঘরগুলো তৈরীর বিষয়ে খোঁজ খবর নিয়েছি। প্রকৃতরাই তাদের অধিকার পেয়েছে। একই সাথে তাদের ঘরের সাথে একটি বাথরুম এবং আমার নিজের উদ্যোগে একটি উন্নত চুলা প্রদান করেছি। সাথে সাথে রুমের খুঁটিগুলো নিজের রং করে দিয়ে দিয়েছি। ঘরগুলোতে ওঠার জন্য সিঁড়ি তৈরী করে দিয়েছি। তিনি আরো বলেন, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নির্দেশ মোতাবেক সব কাজ শেষ করা হয়েছে। সুবিধাভোগীরা তাদের মাথা গোজার ঠাঁয় পেয়েছে সুখে দিন কাটাচ্ছে।