কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুরে সরকারি গাছ কাটার ঘটনা তদন্তে ইউএনও: অবশিষ্ট গাছ কর্তনে নিষেধাজ্ঞা


প্রকাশিত : জানুয়ারি ৩১, ২০১৯ ||

বিশেষ প্রতিনিধি: কালিগঞ্জের দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নে সরকারি রাস্তার পাশে ও ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরের ৩২ টি গাছ কাটার ঘটনায় তদন্ত করেছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার সরদার মোস্তফা শাহিন। বুধবার বেলা আড়াইটার দিকে তিনি দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন পরিষদে যান। এসময় তিনি পরিষদ চত্ত্বরে শিশুফুল গাছ কর্তনরত অবস্থায় দেখতে পেয়ে তাৎক্ষণিক ভাবে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। এর আগে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের নির্দেশে কুশুলিয়া ইউনিয়ন সহকারী ভূমি কর্মকর্তা নন্দলাল সরকার দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়নের ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডে যেয়ে গাছ কর্তনের বিষয়ে সরেজমিন তদন্ত করেন। গণমাধ্যম কর্মীদের তিনি বলেন, তিনি ৫নং ওয়ার্ডে ৮টি মাঝারী আকারের ও একটি ছোট মেহগনী কাজ কাটার বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছেন। এছাড়াও ৬নং ওয়ার্ডে ২০ টি গাছ কর্তন করা হয়েছে। এর মধ্যে ১২টা ফলবান আম গাছ ও ৮টি মেহগনী গাছ রয়েছে। তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন এই গাছগুলো কর্তন মোটেও যথাযথ হয়নি। সার্বিক বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে অবগত করা হয়েছে। এদিকে গাছ কাটার ঘটনায় প্রতিবাদ ও গণমাধ্যম কর্মীদের তথ্য প্রদানের কারণে ৬নং ওয়ার্ড মেম্বর আব্দুল খালেক সরদার (৪২) কয়েকজনকে খুন জখমের হুমকি প্রদান করছে বলে অভিযোগ উঠেছে। সোনাতলা গ্রামের আসকার ডাক্তারের ছেলে শাহিন (৩২), মৃত মোছাফের গাজীর ছেলে সাইফুল ইসলাম (৩০), উত্তর শ্রীপুর গ্রামের আব্দুল মোমিন গাজীর ছেলে শামীম হোসেন (৩২)সহ আরও কয়েকজন জানান, প্রায় ১৫ বছর আগে এই এলাকার মেম্বর প্রয়াত সুবল মন্ডল রাস্তার পাশে আম ও মেহগনী গাছগুলো রোপন করেন। কিন্তু তরতাজা গাছগুলো সৈরাচারী কায়দায় কেটে নেয়া হয়েছে। গাছ কাটার প্রতিবাদ করায় এখন তাদেরকে প্রকাশ্যে হুমকি দেয়া হচ্ছে। তারা প্রশাসনের কাছে নিরাপত্তার পাশাপাশি সরকারি গাছ কাটার সাথে জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন। দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি গোবিন্দ মন্ডল, সাধারণ সম্পাদক আফছার উদ্দীন সরদার, ৬নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক আনোয়ারুল ইসলাম, সাবেক ইউপি সদস্য আব্দুল গাজী সরকারি রাস্তার পাশে আম গাছ ও মেহগনী গাছ কর্তনের বিষয়ে তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানান এবং পরিবেশ রক্ষাকারী গাছ কাটার ঘটনার যথাযথ প্রতিকার দাবি করেন। প্রায় এক বছর পূর্বে ৬নং ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুল খালেকের ইন্ধনে ওই এলাকার মৃত ছলেমান ঢালীর ছেলে নজরুল ইসলাম ঢালী সরকারি রাস্তার পাশে প্রয়াত মেম্বর সুবল মন্ডলের রোপনকৃত ১৭টি মেহগনী গাছ কেটে নেন। তৎকালীন উপজেলা নির্বাহী অফিসার গোলাম মাঈনউদ্দিন হাসানের নিকট এব্যাপারে লিখিত আবেদন জানালেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এর ফলে সরকারি গাছ কাটার ঘটনার পুণরাবৃত্তি ঘটেছে বলে তারা মন্তব্য করেন। প্রসঙ্গত: প্রায় দু’সপ্তাহ পূর্বে দক্ষিণ শ্রীপুর ইউপি চেয়ারম্যান প্রশান্ত সরকার ৫ নং ওয়ার্ডে ৯ টি মেহগনী গাছ, ৬ নং ওয়ার্ডের ১২ টি আম গাছ ও ৮ টি মেহগনী গাছ এবং ইউনিয়ন পরিষদ চত্ত্বরের ৪ টি শিশুফুল গাছ মোট ১ লক্ষ ১০ হাজার টাকায় বিক্রি করেন। গাছ ক্রেতা বিষ্ণুপুর ইউনিয়নের জয়পত্রকাটি গ্রামের অমল মন্ডলের ছেলে সুজিত মন্ডল (৪২) গত ২৮ জানুয়ারি সোমবার ৫ ও ৬নং ওয়ার্ডের গাছগুলো কর্তন করেন। স্থানীয় আওয়ামী লীগের নেতৃবৃন্দ ও সচেতন এলাকাবাসী উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জকে সরকারি গাছ কর্তনের বিষয়টি অবগত করেন। এর প্রেক্ষিতে থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান হাফিজুর রহমান মঙ্গলবার সকালে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে কেটে ফেলা গাছ সরিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করেন। কিন্তু মঙ্গলবার সন্ধ্যার পর অজ্ঞাত কারণে কাঠ ব্যবসায়ী সুজিত মন্ডল কর্তনকৃত গাছগুলো নিয়ে গেছেন বলে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে।