ঝাউডাঙ্গা আদালতের আদেশ অমান্য করে মুক্তিযোদ্ধার জমি দখল


প্রকাশিত : ফেব্রুয়ারি ১, ২০১৯ ||

নিজস্ব প্রতিনিধি: আদালতের আদেশ অমান্য করে এক মুক্তিযোদ্ধার এক বিঘা জমি দখল করে নেয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি ঘটেছে বৃহস্পতিবার সকালে সদর উপজেলার পাথরঘাটা গ্রামে। সরেজমিনে ঘটনাস্থলে যেয়ে দেখা যায়, পাথরঘাটা গ্রামের মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলামের নামীয় একবিঘা ভিটে বাড়ির জমি দখল করে ইটের গাঁথুনি দিচ্ছে একদল শ্রমিক। সংবাদ কর্মীদের দেখে এসময় দখলকারীরা ঘটনাস্থল থেকে সরে যায়। পরে তারা লোকজন নিয়ে জেরপূর্বক জমি দখলে মেতে ওঠে।
মুক্তিযোদ্ধার রফিকুল ইসলাম জানান, তার নামীয় পাথরঘাটা মৌজায় ভিটেবাড়ির এক বিঘা জমি দখলে রেখে ভোগ করে আসছেন। একই গ্রামের বিএনপি কর্মী আক্তারুল ইসলামের চোখ পড়ে ওই জমির উপর। তিনি দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি জোরপূর্বক দখল করে নেয়ার জন্য পায়তারা চালিয়ে আসছিলেন। বিষয়টি উল্লেখ করে সাতক্ষীরা আদালতে ১৪৫ ধারায় একটি অভিযোগ দেয়া হয়। অভিযোগ দায়ের করায় আক্তারুল গংরা তার উপর ক্ষিপ্ত হলে তিনি সদর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। বৃহস্পতিবার মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম জরুরী কাজে ঢাকায় অবস্থান করায় আক্তারুলের পক্ষে তার ভাড়াটিয়া একাধিক নাশকতা মমলার আসামী সেলিম ও মাদকের একাধিক মামলার আসামী ফজলু জমিটি দখলে নেয়। পরে তার রাজমিন্ত্রি এসে ইটের পাকা গাঁথুনি দিয়ে জমির চারিপাশ ঘিরে রাখার কাজ করে। এসময় এলাকাবাসি ও স্থানীয় সংবাদ কর্মীরা সরেজমিনে সেখানে গেলে অবৈধ দখলকারীরা আড়ালে চলে যায়। পরে লোকজন চলে আসার পর দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মহড়া দিয়ে পাড়া প্রতিবেশীদের মধ্যে আতংকের সৃষ্টি করে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ফজলু, সেলিম ও তার সঙ্গীয় ক্যাডাররা। এলাকা ফাকা হয়ে গেলে ফের তারা জমি দখলে মেতে ওঠে। স্থানীয়দের মাধ্যমে সদর থানা পুলিশ খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসার আসলে তারা কাজ বন্ধ করে রাখে। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সদর থানার এসআই শ্যামাপ্রসাদ জানান, শান্তি শৃংখলা রক্ষার্থে জমি দখলকারীদের হটিয়ে দেয়া হয়েছে। মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাড়ি ফিরলে কাগজপত্র যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
জমি দখলের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে আক্তারুল ইসলাম বসির অনু কোন মন্তব্য করেননি। দখলে যুক্ত থাকা ফজলু ও সেলিম জানায়, তারা শ্রমিক হিসেবে সেখানে গিয়েছিলেন। এতে তাদের ব্যক্তিগত কোন স্বার্থ নেই।